14.9 C
Los Angeles
রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ন্যাশনাল গ্রিডের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের চিন্তা করছে হিথ্রো বিমানবন্দর

হিথ্রো বিমানবন্দর সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ন্যাশনাল গ্রিডের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। একটি তদন্তে উঠে এসেছে, বিমানবন্দরটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী নর্থ হাইড সাবস্টেশনে ২০১৮ সাল থেকে বিদ্যমান একটি পরিচিত ত্রুটি জাতীয় গ্রিড আগে থেকেই জানতো, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

তদন্তে বলা হয়, সাবস্টেশনটির বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে আর্দ্রতা ঢুকেছিল, যা একাধিকবার নজরে আসলেও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে এবং হিথ্রো বিমানবন্দর কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানায়, জাতীয় গ্রিড এই অগ্নিকাণ্ড “প্রতিরোধ করতে পারত এবং উচিত ছিল তা করা”। তারা আরও জানায়, এই ব্যর্থতার ফলে বিমানবন্দর ও এর সঙ্গে যুক্ত এয়ারলাইনগুলোর “ব্যাপক ক্ষতি” হয়েছে।

ন্যাশনাল গ্রিড তাদের পক্ষ থেকে জানায়, তারা আগুন লাগার পর থেকে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে এবং এই ধরনের ঘটনা “অত্যন্ত বিরল”। তারা দাবি করেছে, যুক্তরাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি পরিচালনা করছে। তবে, হিথ্রোর সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ঘটনার পর বিদ্যুৎ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা Ofgem জাতীয় গ্রিডের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করেছে।

ন্যাশনাল এনার্জি সিস্টেম অপারেটর (Neso) জানায়, ২০১৮ সালের জুলাই মাসেই সাবস্টেশনটির এক যন্ত্রাংশে “উচ্চমাত্রার আর্দ্রতা” ধরা পড়ে, যা ‘তাত্ক্ষণিক ঝুঁকির’ ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু বুশিং নামক গুরুত্বপূর্ণ নিরোধক উপাদানটি তখনও পরিবর্তন করা হয়নি।

Neso প্রধান ফিনটান স্লাই বিবিসিকে বলেন, “এই প্রতিবেদনের মূল বিষয় হচ্ছে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করা হয়েছে। ২০১৮ সালে আর্দ্রতা ধরা পড়ার পর, স্বল্প সময়ের জন্য ওই ট্রান্সফর্মার সরিয়ে ফেলে ত্রুটিটি মেরামত করা উচিত ছিল।”

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ন্যাশনাল গ্রিড কখনোই জানতো না যে, নর্থ হাইড সাবস্টেশন হিথ্রো বিমানবন্দরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি হিথ্রো কর্তৃপক্ষের দিক থেকেও বিদ্যুৎ ব্যাকআপ ব্যবস্থা উন্নত করার সুযোগ ছিল।

এই ঘটনায় হিথ্রোতে প্রায় ২৭০,০০০ যাত্রা ব্যাহত হয়, বাতিল হয় হাজার হাজার ফ্লাইট, এবং হিলিংডন হাসপাতালসহ আশপাশের রেল ও সড়ক পরিবহনেও প্রভাব পড়ে।

বিমানবন্দরে অবস্থানরত এয়ারলাইনগুলো জানিয়েছে, একদিনের এই বন্ধে তাদের প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়েছে।

Ofgem-এর পরিচালক আকশায় কৌল বলেন, “যেখানে রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি প্রমাণিত হবে, আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

ন্যাশনাল গ্রিড জানায়, তারা একটি ‘সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি’ অনুসরণ করছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

[news_feed_link]
- Advertisement -spot_img
[recent_tabs]

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত