বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডনে বিপুলসংখ্যক ট্রাস্টির উপস্থিতিতে গুলজার-কুদ্দুস-মনির প্যানেলের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত

staff
staff প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫৭
লন্ডনে বিপুলসংখ্যক ট্রাস্টির উপস্থিতিতে গুলজার-কুদ্দুস-মনির প্যানেলের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচনে গুলজার-কুদ্দুস-মনির প্যানেলের শেষ নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে লন্ডনে। বিশ্বনাথে শিক্ষাবৃত্তি সম্প্রসারণ, ট্রাস্টের কার্যক্রমে অনলাইনভিত্তিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং যুক্তরাজ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্যানেলের প্রার্থীরা। গত ১২ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের মায়েদা গ্রিল হলে আয়োজিত এ সভায় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশ নেন।

গুলজার-কুদ্দুস-মনির প্যানেলের ১৭ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন ট্রাস্টের বর্তমান সভাপতি মাফিজ খান

সভায় প্যানেলের প্রার্থীরা বলেন, বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাই তাঁদের অঙ্গীকার। বিশ্বনাথে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, অবহেলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি সম্প্রসারণ এবং ট্রাস্টের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে তাঁরা অগ্রাধিকার দিতে চান।

 

স্বাগত বক্তব্য রাখছেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি হাজী রইছ আলী, পাশে -প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গুলজার খান, সেক্রেটারী প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস

 

বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে সভাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুছ, সহ সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন হাফিজ জাকির হোসেন । স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ রইছ আলী।

গুলজার-কুদ্দুস-মনির প্যানেলের ১৭ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন ট্রাস্টের বর্তমান সভাপতি মাফিজ খান।

প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও কার্যপরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গুলজার খান।

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গুলজার খান বলেন, বিশ্বনাথে শিক্ষার প্রসারে কাজ করাই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা ও অবহেলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাবৃত্তির পরিধি সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। যে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলোই আমরা সামনে এনেছি। ট্রাস্টিদের সহযোগিতায় ধাপে ধাপে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই।”

নির্বাচনী সভায় উপস্থিতির একাংশ

গুলজার খান আরও বলেন, ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সদস্যদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে যথাযথ সম্মান দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সেক্রেটারি প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস ট্রাস্টের সাংগঠনিক কার্যক্রম আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করা, সাংগঠনিক তথ্য সংরক্ষণ এবং কার্যক্রম সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তাঁর মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ট্রাস্টের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সদস্যদের অংশগ্রহণও বাড়ানো সম্ভব হবে। সংগঠনের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সদস্যদের নিয়মিত তথ্য দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

নির্বাচনী সভায় উপস্থিতির একাংশ

ট্রেজারার প্রার্থী মনির আহমেদ বলেন, ট্রাস্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তহবিলের পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উদ্যোগের জন্য আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, “ট্রাস্টের অর্থ যেন মানুষের কল্যাণে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব এলাকার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে কম সুযোগ পায়, তাদের পাশে দাঁড়াতে পরিকল্পিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।”

নির্বাচনী সভায় উপস্থিতির একাংশ

সভায় বক্তারা বলেন, ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। তরুণদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নতুন ধারণাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ট্রাস্টের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে আরও বেশি মানুষকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বক্তারা আরো বলেন, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের উদ্যমের সমন্বয় ঘটাতে পারলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। এ জন্য বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।

নির্বাচনী সভায় উপস্থিতির একাংশ

সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি আবুল কালাম আজাদ, মির্জা আসহাব বেগ, ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারহান মাসুদ খান, আব্দুল মনাফ, আফছর মিয়া ছোট মিয়া, আব্দুল ওয়াহিদ, আলাউদ্দিন বাবুল, মকরম আলী আফরোজ ডিএল, নজরুল ইসলাম, ওয়াহিদ, মনির উদ্দিন বশির, ফয়জুল হক, মনির উদ্দিন সুফি, আফজাল হোসেন, আব্দুল বাসিত বাদশা, কদর উদ্দিন, আব্দুল ওয়াজেদ শায়েল, আখলুছ মিয়া প্রমুখ।

প্যানেলের পক্ষে আরও বক্তব্য দেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ ও কবির মিয়া, সহকারী ট্রেজারার প্রার্থী তোফাজ্জল আলম, প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি প্রার্থী খালেদ মাসুদ রনি, কালচারাল সেক্রেটারি প্রার্থী মদরিস আলী মফজ্জুল এবং নির্বাহী কমিটির প্রার্থী আজিজুর রহমান খান রাজু, মোহাম্মদ জি এ ফয়সাল, মোহি উদ্দিন পলাশ, শাহ তাজুল ইসলাম, আজিজুর রহমান রুমেল, রুহেল ইসলাম ও শামীম নূর।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ফারুক মিয়া, মোহাম্মদ মকদ্দছ আলী, মোহাম্মদ লিছু মিয়া, মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান লুলু, এডভোকেট রশিদ আলী, মোহাম্মদ সামসাদুর রহমান রাহিন, মোহাম্মদ নরুল ইসলাম, মোহাম্মদ শেখ মুদাবিবর হোসেন মধু, মোহাম্মদ ছাদক আলী, মোঃ মুছা খান, মোহাম্মদ আবদুল শহীদ, হারুন মোহাম্মদ সাদত আলী, মোহাম্মাদ ময়ুর মিয়া, মোহাম্মদ হানদু মিয়া, মোহাম্মদ মবশ্বির আলী, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, মোহাম্মদ ওয়াহিদ, শেখ মামুনুর রশিদ, মোঃ কাওসার আহমেদ, মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ, মোহাম্মদ তুরন মিয়া, মোঃ বেলাল, মোঃ খলিল, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বাবুল, মোহাম্মদ বুরহান উদ্দিন, মোঃ স্বজল আহমেদ, তখদুছ আলী, মোহাম্মদ আছকর আলী, মোহাম্মদ পরতার আলী, মোঃ নুরুল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ হাবিবসহ নেতৃবৃন্দ ।

বক্তারা ট্রাস্টের শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সংগঠনের উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

গুলজার-কুদ্দুস-মনির প্যানেলকে সমর্থন দেওয়া নতুন ট্রাষ্টিদের একাংশ

সভায় প্রবীণদের পাশাপাশি ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অনেকে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে তরুণদের আরও সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং গুলজার-কুদ্দুস-মনির প্যানেলের প্রতি সমর্থন জানান।

আগামী ১৮ অক্টোবর বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে প্যানেলটির প্রার্থীরা শিক্ষা, সাংগঠনিক আধুনিকায়ন, আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রজন্মের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ট্রাস্টের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।