গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারগুলোর ওপর অব্যাহত হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দলটির সাথে সম্পৃক্ত হাজার হাজার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। যাত্রাবাড়ী, যশোর, বগুড়া, চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ারদারের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মো. শাহে আলম মুরাদ, অ্যাড. আনিসুর রহমানসহ অসংখ্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে রাখা হয়েছে। এছাড়া, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০ মাসে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ৬৪৩ শিশু নিহত হয়েছে। ৬৬৬ টি ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গুম, খুন ও নির্যাতনের মোট ১৮৫৫ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রংপুরে একজন আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর ও তাঁর এক সহযোগীকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ রাস্তা দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। নরসিংদীতে ৬ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে ধাওয়া করে হত্যা করা হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাদিয়া আফরোজ ও তার পরিবার হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের দ্বারা বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালে, তাকে আক্রমণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যদিও তিনি সেই ঘটনা থেকে বেঁচে যান, ২০২৫ সালে তাকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিনা বিচারে আটক থাকাকালীন পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর, একই বছরের সেপ্টেম্বরে, জামায়াত ইসলামীর চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে পরিবারের সামনে তাকে গণধর্ষণ করে, বাড়ি ভাঙচুর করে এবং পুরো পরিবারের সকলকে আক্রমণ করে, যার ফলে তারা গুরুতর আশঙ্কাজনক ভাবে আহত হন। নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের সদস্য এবং সমকামীদের সমর্থনে কাজ করার কারণে উত্তরা থানার পুলিশ তার কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো নারী নেতাকর্মীদের ওপর লৈঙ্গিক সহিংসতা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাধিক ঘটনায় নারী নেত্রীদের ওপর শারীরিক লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সুষ্ঠু বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।