শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঋণ খেলাপির অভিযোগে গোল্ডেন হারভেস্ট আইসক্রিমের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২২
ঋণ খেলাপির অভিযোগে গোল্ডেন হারভেস্ট আইসক্রিমের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

ঋণ খেলাপির অভিযোগে গোল্ডেন হারভেস্ট আইসক্রিম লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহমেদ রাজীব সামদানীর বিরুদ্ধে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১ -এর অধীনে মামলা করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। মামলায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা পাওনা আদায়ের দাবি জানানো হয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে ইউসিবির সাথে ঋণ-সম্পর্ক শুরু হয় গোল্ডেন হারভেস্ট আইসক্রিমের। প্রতিষ্ঠানটি দেশের আইসক্রিম বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি পরিচিত ব্র্যান্ড, যা বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করে থাকে।

ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ইউসিবি থেকে চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা নিয়েছিল বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বারবার তাগাদা ও যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। পাওনা আদায়ে ব্যাংকের পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে সন্তোষজনক সাড়া মেলেনি। এমনকি ঋণ সুবিধাটি তিন দফা পুনঃতফসিল (রিশিডিউল) করার পরও বকেয়া নিয়মিত করার কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সহযোগিতা মেলেনি বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ও খেলাপি অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ হিসাবটি শ্রেণিকৃত (ক্লাসিফায়েড) করা হয়েছে, যার ফলে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে এটি খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বারবার পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা এবং শেষ পর্যন্ত আইনি পথে হাঁটতে বাধ্য হওয়ার এই ধরনের ঘটনা ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির একটি সাধারণ চিত্র তুলে ধরে। এনআই অ্যাক্টের মামলায় সাধারণত চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ফৌজদারি প্রক্রিয়ার আওতায় পাওনা আদায়ের চেষ্টা করা হয়, যা দেওয়ানি অর্থঋণ মামলার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর অন্যতম প্রধান আইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আহমেদ রাজীব সামদানী দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও শিল্পকলা সংগ্রাহক হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তথ্যানুযায়ী, তিনি গোল্ডেন হারভেস্ট গ্রুপের পরিচালক এবং গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। আইসক্রিম ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্যিক পণ্য, লজিস্টিকস, কৃষি, ডেইরি, বিমান পরিবহন ও নির্মাণ খাতে গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিস্তৃত। তিনি সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন ও ঢাকা আর্ট সামিটের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচিত। যদিও, অভিযোগ রয়েছে শিল্পকর্ম সংগ্রহ ও কেনাবেচাকে অর্থ পাচারের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে গড়ে তোলেন সামদানী।