তাইওয়ানের কাছাকাছি উত্তর ফিলিপাইনের দূরবর্তী দ্বীপপুঞ্জে তিনটি চীনা কোস্টগার্ড দেখা গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ আগস্ট) ম্যানিলার সামুদ্রিক কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে।
এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জাহাজগুলো প্রথম দেখা যায় বৃহস্পতিবার। এর ঠিক একদিন পর ইউটিউবে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস প্রকাশিত হয়।
ভিডিওতে তিনি বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে আক্রমণ চালায়, তবে ফিলিপাইন কোনওভাবেই এই সংঘর্ষের বাইরে থাকতে পারবে না।
চীন বরাবরই স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজনে ‘বলপ্রয়োগ করে দখল’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাহাজ তিনটি বাতানেস প্রদেশের কাছে দেখা গেছে। বাতানেস প্রদেশ ফিলিপাইনের বৃহত্তম দ্বীপ লুজনের উত্তরে অবস্থিত দূরবর্তী, জনবিরল দ্বীপপুঞ্জের একটি গুচ্ছ।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, বাতানেস দ্বীপের কাছাকাছি তিনটি চীনা জাহাজের ‘অস্বাভাবিক চলাচল’ পর্যবেক্ষণের জন্য শুক্রবার একটি বিমান মোতায়েন করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজ ৪৩০৪-কে সাবতাং শহর থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার (৮৫ মাইল) পশ্চিমে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে অন্য দুটি জাহাজের অবস্থান নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
প্রেসিডেন্ট মার্কোস ভারতীয় সংবাদমাধ্য ফার্স্টপোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যদি তাইওয়ান নিয়ে কোনও সংঘর্ষ হয়, তবে ফিলিপাইন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেটির বাইরে থাকতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘যদি পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আমরাও তাতে জড়িয়ে পড়ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাইওয়ানে বসবাসকারী বহু ফিলিপাইন নাগরিককে উদ্ধার ও ফেরত পাঠাতে হতে পারে।’
মার্কোসের এই মন্তব্যের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র শুক্রবার বলেন, ‘আমরা ফিলিপাইনকে আহ্বান জানাই যেন তারা আন্তরিকভাবে এক-চীন নীতিকে মেনে চলে… এবং চীনের প্রধান স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আগুন নিয়ে খেলা না করে’।
