রাশিয়ার নৌবাহিনী দিবসে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে উপস্থিত থাকলেও, শহরের আকাশে ইউক্রেনীয় ড্রোনের হামলায় পাল্টে যায় দিনের চিত্র। রুশ কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার (২৮ জুলাই) ড্রোন হামলার কারণে শহরের পুলকোভো বিমানবন্দর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে আল আরাবিয়াহ।
প্রতিবছর নেভা নদীতে যুদ্ধজাহাজের জমকালো মহড়া ও সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশাল নৌপ্যারেড হয় এদিন। পুতিন এতে নিয়মিত অংশ নেন। কিন্তু এবার নিরাপত্তার কারণে জুলাইয়ের শুরুতেই প্যারেড বাতিলের খবর আসে, যা রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
তবে প্যারেড না হলেও দিনটি “কাজের পরিবেশে” কাটে বলে ভিডিও বার্তায় জানান পুতিন। তিনি একটি পেট্রল স্পিডবোটে চড়ে শহরের ঐতিহাসিক নৌ সদর দপ্তরে পৌঁছান এবং প্রশান্ত ও আর্কটিক মহাসাগর, বাল্টিক ও ক্যাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার ১৫০টির বেশি জাহাজ ও ১৫ হাজার নৌসেনার সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, রবিবার ইউক্রেনের পাঠানো মোট ২৯১টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে, যা গত ৭ মে’র ৫২৪ ড্রোন হামলার রেকর্ডের চেয়ে কম। ওই হামলাটি হয় রাশিয়ার বিজয় দিবসের আগেই।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার দ্রোজদেঙ্কো জানান, তার এলাকায় ১০টির বেশি ড্রোন গুলি করে নামানো হয় এবং পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষে এক নারী আহত হন। তিনি আরও জানান, জিএমটি সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ওই হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ৫৭টি ফ্লাইট বিলম্বিত এবং ২২টি অন্যত্র সরানো হয়। পরে বিমানবন্দরটি চালু করা হয়।
পেসকভের সঙ্গে সফররত রুশ ব্লগার আলেক্সান্ডার ইউনাশেভ বলেন, ড্রোন হামলার কারণে তাদের মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গগামী ফ্লাইট দুই ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায়।
