17.8 C
Los Angeles
রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

গাজায় পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ: স্কুল-হাসপাতাল-আশ্রয়কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল, অভিযোগ যুদ্ধাপরাধের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক ভবন পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিও ফুটেজ ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে। মার্চ মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ব্যাপকভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার বহু শহর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অক্ষত ভবনও ইচ্ছাকৃতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্কুল, হাসপাতাল, টাওয়ার ব্লক এমনকি শিশুদের জন্য পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রও রেহাই পায়নি এই ধ্বংসের হাত থেকে।

রাফাহ শহরের টেল আল-সুলতান এলাকায় একমাত্র মাতৃসদন হাসপাতাল ও অনাথ শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় সব অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে জানা গেছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পুরো এলাকাটি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। খুজা’আত, আবাসান আল-কবিরা ও কিজান আবু রাশওয়ানসহ দক্ষিণ গাজার শহরগুলোতেও এমন ধ্বংসের নজির পাওয়া গেছে। এক এলাকায় ১২০০টিরও বেশি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করছে, এসব ভবন ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’র অংশ ছিল এবং তারা কেবল সামরিক প্রয়োজনেই এসব ধ্বংস করেছে। তবে মানবাধিকার আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের গণবিধ্বংসী কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জেরুজালেমভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সংস্থা ডায়াকোনিয়ার আইনি বিশ্লেষক ইইতান ডায়মন্ডের মতে, ভবিষ্যতে সামরিক ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলেও পূর্বানুমান নির্ভরভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই চলেছে এবং হামাস বেসামরিক ভবনে ঘাঁটি বানানোয় অনেক সময় ভবন ধ্বংস করা ছাড়া উপায় থাকে না।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, গাজার অবকাঠামো ধ্বংসের এই ধারাবাহিকতা কেবল তাৎক্ষণিক সামরিক প্রয়োজন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হতে পারে—যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে গাজার জীবনযাত্রা ও পুনর্গঠন আরও কঠিন করে তোলা। সূত্র: বিবিসি

এমজে/ইউকেবিডিনিউজ

[news_feed_link]
- Advertisement -spot_img
[recent_tabs]

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত