সিরিয়ায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলাকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর “নজিরবিহীন হুমকি” আখ্যা দিয়ে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ওআইসি (ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা) ও জাতিসংঘকে ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি বলেন, “সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ইসরায়েল যে লাগাতার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তা শুধুই একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়—এটি পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির এক বিপজ্জনক প্রয়াস এবং আন্তর্জাতিক শান্তির ওপর সরাসরি আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, “সিরিয়ার অসামরিক অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনায় লক্ষ্য করে এসব হামলা ইসরায়েলি দখলদারির বিস্তার এবং জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন।”
ইসমাইল বাঘেয়ি বলেন, “সবাই জানে, এই অঞ্চল তথা গোটা বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে সেই জায়নিস্ট শাসন। যারা মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তায়, আর তার সঙ্গে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের মদতে আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের সমস্ত সীমা অতিক্রম করে চলেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “গাজায় চলমান গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের নীরবতা এবং নিষ্ক্রিয়তা তেল আবিবকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। সেই সাহসে ভর করে আজ তারা সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও আগ্রাসন বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
বাঘেয়ি স্পষ্ট করে বলেন, “এই মুহূর্তে ওআইসি এবং জাতিসংঘের উচিত দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া। শুধু বিবৃতি দিয়ে নয়, কার্যকর কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতির অবসান ঘটাতে হবে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এভাবে নীরবতা পালন করে, তাহলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ-সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠবে এবং তার দায়ভার বর্তাবে তেল আবিবের পৃষ্ঠপোষকদের ওপর।”
এমজে/ইউকেবিডিনিউজ