মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ততা ও পরিকল্পিত চাঁদাবাজি চালানোর অভিযোগে থাইল্যান্ডের নিরাপত্তা বাহিনীর সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বুধবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত এক ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, থাই পুলিশ নিয়মিতভাবে মিয়ানমার নাগরিকদের থামিয়ে জেরা করে এবং ঘুষ না দিলে গ্রেপ্তার বা আটক করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী মাই সোত শহরের ঘটনা। সেখানে মিয়ানমারের নাগরিকদের টার্গেট করে থাই পুলিশ অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে অর্থের বিনিময়ে একটি “পুলিশ কার্ড” ইস্যু করে, যার মাধ্যমে গ্রেপ্তার এড়ানো সম্ভব। এই কার্ড দেয়ার নাম করে যে অর্থ আদায় করা হয়, তা কার্যত একটি আধা-গঠনমূলক চাঁদাবাজির চক্র বলে বর্ণনা করেছে এইচআরডব্লিউ।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে থাইল্যান্ডে ৪০ লাখের বেশি মিয়ানমার নাগরিক আশ্রয় নিয়েছেন- যাদের মধ্যে রয়েছেন রোহিঙ্গা ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। তারা মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা, নিপীড়ন, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধের পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে এসেছে। এদের প্রায় অর্ধেকের কাছেই বৈধ কোনো নথিপত্র নেই।
এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে প্রকাশিত মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টার–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ৯৭ শতাংশই অনিবন্ধিত বা নথিহীন অবস্থায় আছেন।
এইচআরডব্লিউ থাই সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড অনুসারে একটি সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ শরনার্থী নীতিমালা প্রণয়ন করে—যেখানে প্রত্যেক বিদেশি নাগরিকের জন্য আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়া এবং মানদণ্ড স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা থাকবে।
সংস্থাটি মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা কাঠামো গঠনেরও পরামর্শ দিয়েছে, যাতে তারা নির্যাতনের ভয়ে ফেরত পাঠানো না হয় এবং একটি ন্যূনতম মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এমজে/ইউকেবিডিনিউজ
