13.6 C
Los Angeles
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেল পাকিস্তান

দুই বছরের মেয়াদে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। ২০১৩ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেল দেশটি। এটি নিয়ে অষ্টমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে ইসলামাবাদ।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির পদটি মূলত প্রতীকী হলেও এর কূটনৈতিক গুরুত্ব অনেক। নির্বাহী ক্ষমতা না থাকলেও এই পদে অধিষ্ঠিত দেশটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বিশেষ করে, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই দায়িত্ব পাকিস্তানের জন্য কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমেদ এ দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেন, “আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের সনদ এবং বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী সময়োপযোগী ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে অনিশ্চিত ও জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই বাস্তবতায় পাকিস্তান সভাপতির দায়িত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।”

পাকিস্তান বর্তমানে জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বেও রয়েছে। এর পাশাপাশি, সম্প্রতি ভারতের কাশ্মির অঞ্চলের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে, ইসলামাবাদ এই ইস্যুটি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।

এদিকে, ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ মোকাবিলায় নয়াদিল্লি ইতোমধ্যেই একটি কৌশল নির্ধারণ করেছে। এতে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ভারতের অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বৈশ্বিক দৃষ্টিকে আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তানের ভূমিকা শুধু দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতেই নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

[news_feed_link]
- Advertisement -spot_img
[recent_tabs]

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত