রাজধানী ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে পৌঁছেছে। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি আছেন আরও অন্তত ১৬৫ জন। ঢাকায় জনবহুল এলাকায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৬ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনের অংশ হিসেবে এফ-৭ বিজিআই বিমানটি উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় বিমানটিতে।
• কোথায় বিধ্বস্ত হয় বিমানটি?
দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ভবনের ভেতরে ও বাইরে পড়ে আছে। বিমানের আঘাতে ভবনের লোহার গ্রিল ভেঙে গেছে এবং প্রাচীরে বড় ফাঁটল তৈরি হয়েছে।
• প্রাণ গেল কতজনের?
রয়টার্স বলছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ২৫ জন শিশু, একজন শিক্ষক ও বিমানটির পাইলট আছেন। যদিও বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনায় বুধবার প্রাণহানি বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া এই দুর্ঘটনায় ১০০ জনের বেশি শিশুসহ ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেশিরভাগের শরীরেই পোড়া ক্ষত রয়েছে।
• দুর্ঘটনার কবলে কোন মডেলের বিমান?
জেনস ইনফরমেশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি ছিল একটি এফ-৭ যুদ্ধবিমান। এই বিমানটি চীনের চেংদু জে-৭/এফ-৭ সিরিজের সর্বশেষ ও সবচেয়ে উন্নত সংস্করণ।
বাংলাদেশ ২০১১ সালে এই সংস্করণের ১৬টি বিমান কেনার জন্য চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের (সিএসি) সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের মধ্যে সব বিমান সরবরাহ করে সিএসি।
• কী বলছে কর্তৃপক্ষ?
দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ ঘটনার পূর্ণ তদন্তের জন্য ‘সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের ‘সব ধরনের সহায়তা’ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার।
