কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলা, একই পরিবারের ৯ জন নিহত

180
  |  সোমবার, আগস্ট ৩০, ২০২১ |  ৪:০৩ অপরাহ্ণ


সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারীকে লক্ষ্য করে মার্কিন ড্রোন হামলায় ছয় শিশুসহ একই পরিবারের নয়জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

Advertisement

কাবুলের একটি আবাসিক এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্সের (আইএস-কে) সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারীকে লক্ষ্য করে মার্কিন ড্রোন হামলায় ছয় শিশুসহ একই পরিবারের নয়জন সদস্য নিহত হয়েছেন। সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রবিবার (২৯ আগস্ট) মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে আইএস-কে। আত্মরক্ষার জন্য ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের নয় জন সদস্য। এর মধ্যে চার জনই শিশু। এর মধ্যে দুই বছরের এক শিশুও রয়েছে।

ড্রোন হামলায় নিহত এক ব্যক্তির ভাই বলেন, আমরা কেউ আইএসের সদস্য নই। আমরা খুবই সাধারণ পরিবারের সদস্য। তারা যেখানে হামলা চালিয়েছেন সেটা একটি বাড়ি। সেখানে আমার ভাই তার পরিবার নিয়ে থাকত।

হামলার পর ওই বাড়ির প্রতিবেশীরা বলেন, এই হামলায় বাড়িতে আগুন ধরে গিয়েছিল। সবাই মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন। সেখানে ছয় জনের মরদেহ পরে থাকতে দেখেছি। এছাড়া দুইজন আহত ব্যক্তিকে দেখেছি।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন বিল আরবান এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা জানি যে গাড়ির ধ্বংসের ফলে পর্যাপ্ত এবং শক্তিশালী পরবর্তী বিস্ফোরণ ঘটেছিল, ভিতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উপাদানই অতিরিক্ত হতাহতের মূল কারণ।কি হয়েছে তা এখনো অস্পষ্ট, আমরা এখনো তদন্ত করছি। নিরীহ জীবনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

এর আগে বৃহস্পতিবার জোড়া বোমা হামলার পর আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে আবারও বোমা হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছিলেন, “আফগান পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রবল। মার্কিন কমান্ডাররা জানিয়েছেন যে আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হামলার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। আমি তাদেরকে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে বলেছি”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিমানবন্দর ছাড়তে মার্কিনদের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এরকম ঘটনা সামনে এলো।

গত বৃহস্পতিবার কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে ভয়াবহ হামলায় ১৭০ জন মারা যান। আহত হন  আরও ২০০ জন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগানিস্তান শাখা-আইএসকেপি।

পেন্টাগন এবং আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, নিহত ১০৩ জনের মধ্যে ৯০ জনই বেসামরিক নাগরিক। যার মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সৈন্যও ছিল।

২০১১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৩০ জন মার্কিন কর্মীর মৃত্যুর পর এটিই আফগানিস্তানে মার্কিন নাগরিক হতাহতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আক্রমণ করার মূল কারণ অর্জন করেছিল, আল কায়েদা জঙ্গিদের নির্মূল করতে এবং ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হামলার মতো ঘটনা আর যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে।”

ধারণা করা হচ্ছে বাইডেনের এ ধরনের বক্তব্যের কারণেই হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ইউআর/

Advertisement