আ.লীগ নেতা ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

922
  |  শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২০ |  ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিজবা উদ্দিন ভুঁইয়া ও তার ভাই কাকাইলছেও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক ভুঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করা হয়েছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে গত ২৩ আগস্ট উপজেলার চারজন মুক্তিযোদ্ধা এ অভিযোগ করেন।অভিযুক্ত অন্যরা হচ্ছেন- ওই উপজেলার শরীফনগর গ্রামের আলী রেজা (৭০) ও বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর (বিথঙ্গল) গ্রামের ছিদ্দিক মিয়া (৭২)। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আজমিরীগঞ্জে নৌকা থেকে নামতে না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মেঘনা রিভার ফোর্সের কমান্ডার তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী জানান, ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক ভুঁইয়া, তার ভাই মিজবা উদ্দিন ভুঁইয়া ও রাজাকার কমান্ডার আলী রেজাকে আটক করে তিনি কাকাইলছেওয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন স্থানে লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন। পাকিস্তানি বাহিনীর হয়ে কাজ করেছেন।অভিযোগকারী আজমিরীগঞ্জের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন জানান, তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা নুরুল হক ভুঁইয়া মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯ মাস কাকাইলছেও ইউনিয়নের দাপুটে চেয়ারম্যান ছিলেন।তিনি পদাধিকারবলে পিস কমিটির সদস্য ছিলেন। তার ভাই বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিজবা উদ্দিন ভুঁইয়া ছিলেন ভাইয়ের সহযোগী।অভিযুক্তরাসহ কয়েকজন বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল গ্রামে হাজী ইউনুছ মিয়ার বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় তারা ইউনুছ মিয়ার ছেলে আদম আলী ও তাদের আত্মীয় ওয়াহাব মিয়া তালুকদারকে খুন করে। এ ছাড়া হাজী ইউনুছ মিয়া ও হাজী সুলতান মিয়া তালুকদারের বাড়ি থেকে মালপত্র লুট করে। যাওয়ার সময় বাড়িগুলোতে আগুন দেয়। এটি দিনদুপুরে গ্রামের মানুষের সামনে ঘটেছিল।

Advertisement

মুক্তিযুদ্ধকালীন দাস পার্টির সদস্য যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘মুসলিম লীগের নেতা হিসেবে ইউপি নির্বাচনে লড়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন নুরুল হক ভুঁইয়া। রাজাকার হওয়া সত্ত্বেও সেই সময় তাকে মারিনি। তার মায়ের কান্নায় বাঁচিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তিনি ও তার ভাই মিজবা উদ্দিন ভুঁইয়া আমাকেই এলাকাছাড়া করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় লুটপাট করে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।’তবে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিজবা উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা। অভিযোগকারীরা বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা যুদ্ধাপরাধ মামলায় কারান্তরীণ মধু মিয়ার মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণসহ পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একজন হিন্দু নারী মামলা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তাকে তিনি তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। তাকে আমরা গিয়ে উদ্ধার করেছি।’ তিনি বলেন, ‘মূলত আমরা তার বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষী। ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছি। আমাদের সাক্ষী না দিতে বলেছিল। মধু মিয়াকে বাঁচাতে তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তারা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে।’কাকাইলছেও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক ভুঁইয়া বলেন, এগুলো ভুয়া অভিযোগ। এখানে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন, তারা মানুষের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে আবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাও আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় দ্বন্দ্ব আছে। এলাকাগত দ্বন্দ্বের কারণেই মূলত এ অভিযোগ দিয়েছে।’

অভিযোগে জানা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে নৌকায় আজমিরীগঞ্জে পৌঁছান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও আবদুস সামাদ আজাদ। কিন্তু নুরুল হক ভুঁইয়া, তার ভাই মিজবা উদ্দিন ভুঁইয়া, আলী রেজা ও রফিক উদ্দিনসহ কয়েকজন সেখানে প্রচার চালাতে দেননি। ১৯৭১ সালের মার্চের শেষের দিকে শান্তি কমিটির সদস্য নুরুল হক ভুঁইয়ার নেতৃত্বে মিজবা উদ্দিন ভুঁইয়া, আলী রেজা, সিদ্দিক মিয়াসহ কয়েকজন বিথঙ্গল গ্রামে হাজী ইউনুছ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। ওইদিন তারা এলোপাতাড়ি গুলি করে একই গ্রামের লক্ষণ সরকার এবং প্রমোদ রায়কেও হত্যা করে।
অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন, আক্কেল আলী, ইলিয়াছ চৌধুরী ও রমজান আলী।

Advertisement