সমকামী আশ্রয়প্রর্থীদের ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ

510
  |  মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২০ |  ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থী সমকামী ও ভিন্নরকম যৌন জীবনে অভ্যস্ত মানুষেরা প্রতিনিয়তই প্রত্যাখিত হচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছেন সামগ্রিকভাবে ‘সাংস্কৃতিক অবিশ্বাস’ এবং তারা যে অভস্ত্যতার কথা বলছেন তা নিরঙ্কুশভাবে প্রমাণ করতে না পারা।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলছে এলজিবিটি প্লাস আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি তিন জনে একজনকে আশ্রয় দিতে অপারগতা দেখাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ আবেদনকারীদের সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন এবং জেন্ডার সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছেনা কর্মকর্তারা।

Advertisement

প্রত্যাখিতদের প্রতি ১০ জনে চার জনের অভিযোগ, কর্মকর্তারা এটা মানতে নারাজ যে তারা তাদের নিজ দেশে নিগৃহিত এবং ঝূঁকিপূর্ন। তারা বলছে, কর্মকর্তারা ইন্টারভিউতে তাদের বিস্তারিত বিবরণ শুনছেন না এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করছেন না এবং কোনভাবেই তিনটির বেশী প্রশ্ন তাদের করা হচ্ছে না। ‘এই ফাইন্ডিংসগুলো থেকে পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায় ইমিগ্রেন্টরা কতটা ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এখানে,’ বলছিলেন সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাইরা ডাস্টিন।

তিনি বলছেন, কর্মকর্তারা চাইলে এই আবদেনকারীদের এভাবে না ফিরিয়ে দিয়ে এসওজিআই-এর অধীনে আবেদন করতে বলতে পারতো কারন তারা বিপদে পড়েই এখানে এসছে।

গবেষকদের সাথে কথা বলার সময় আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মর্মস্পর্শী বর্ননা করছেলন। ‘এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, এই আশ্রয়প্রার্থীরা নিজ দেশে বিপদে পড়েই এখানে এসছে এবং এখানে আশা তাদের পছন্দে ঘটেনি বরং প্রয়োজনের তাগিদে হয়েছে।’

ডাস্টিন মনে করেন, নিরঙ্কুশভাবে প্রমান করতে না পারার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা মূলত একটি অন্যায় যুক্তি এবং অভিবাসন ও আশ্রয়প্রদান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মূলত আগে থেকেই তাদেরকে আশ্রয় না দেয়ার বিষয়ে মনস্থির করে রাখেন। ‘তোমাকে অবশ্যই আমাকে বুঝাতে হবে’ এমন অবান্তর এবং বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখিও অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে পড়তে হয়েছে।

একজন আশ্রয়প্রার্থী গবেষকদের কাছে দাবী করেন তিনি যা বলেছেন তার কোন কিছুই বিশ্বাস করেনি ইউকে অভিবাসন কর্মকর্তারা। তারা শুধু মনে করেছে ওই আশ্রয়প্রার্থী জিম্বাবুয়ে থেকে এসেছে এখানে বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়ার জন্য।

এই গবেষণার অংশ হিসেবে গবেষকরা যুক্তরাজ্য, জার্মানী এবং ইতালীতে অনলাইনের মাধ্যমে ২৩৯ ব্যক্তির সাক্ষাতকার নিয়েছেন যাদের মধ্যে রয়েছে ৮২ জন আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসী এবং ১৫৭ জন পেশাজীবী। এই কাজে অনলাইন জরিপ ও ১৪৩টি সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে।

Advertisement