মিয়ানমারে আটক থাকা রয়টার্সের দুই সাংবাদিক মুক্ত

426
  |  মঙ্গলবার, মে ৭, ২০১৯ |  ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘদিন মিয়ানমারের কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি মিলল রয়টার্সের আলোচিত দুই সাংবাদিকের। মঙ্গলবার (৭ মে) দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রত্যক্ষ ক্ষমায় তাদের এই মুক্তি দিল মিয়ানমার।কারাগার থেকে মুক্তি প্রাপ্ত রয়টার্সের এই দুই সাংবাদিক হলেন ওয়া লোন (৩৩) ও কিয়াও সোয়ে ওউ (২৮)। সম্প্রতি তারা সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় পুলিৎজার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।যদিও এর আগে ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করেছিল দেশটির সামরিক বাহিনী। পরে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের জেলা জজ আদালত তাদের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে’র অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেন। মূলত এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বরে তাদের প্রত্যেককে অন্তত সাত বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন আদালত।

এদিকে আদালতের সেই রায় ঘোষণার পরপরই বিশ্ব ব্যাপী মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। একইসঙ্গে দেশটিতে মানবাধিকার ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।তাছাড়া ব্রিটেন, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের আরও বেশ কয়েকটি ক্ষমতাশীল দেশ রয়টার্স এই দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।যদিও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দাবি, ২০১৭ সালে দেশটিতে জাতিগত দাঙ্গা চলাকালে মিয়ানমারের ইনদিন প্রদেশে স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালায়। এতে একসঙ্গে অন্তত ১০ রোহিঙ্গাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

Advertisement

পরবর্তীতে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কিছু তথ্য প্রমাণসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন এই দুই সাংবাদিক। প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিক বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আসা মাত্রই তারা মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। প্রশাসন মূলত এতেই সেই সংবাদকর্মীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়। আর তাদের তাৎক্ষণিক ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে’র অধীনে গ্রেফতার করেন।অপরদিকে ইয়াঙ্গুনের উপকণ্ঠে অবস্থিত কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ৩৩ বছর বয়সী ওয়া লোন বিবিসি নিউজের প্রতিবেদক নিক বেকের সঙ্গে কথা বলেছেন।তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই এতে ভীষণ খুশি হয়েছি। এখন আমি আমার পরিবার এবং সহকর্মীদের দেখতে উত্তেজিত। একইসঙ্গে আমি আমার নিউজ রুমে যেতে আর অপেক্ষা করতে পারছি না।’

রয়টার্সের সম্পাদক-ইন-চিফ স্টিফেন জে অ্যাডলার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত মাসে তারা তাদের প্রতিবেদনের জন্য সম্মাননা স্বরূপ পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছেন। যা তাদের প্রেস স্বাধীনতার “প্রতীক” হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।বিবৃতিতে এও বলা আছে, ‘প্রায় ৫০০ দিনের বেশি বন্দি অবস্থাতে দিন কাটানোর পর অবশেষে তাদের মুক্তি দেওয়া হলো।আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে মায়ানমার আমাদের সেই সাহসী দুই সাংবাদিকদের সসম্মানে মুক্তি দিয়েছে।যে কারণে আমরা সেই দেশের সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানায়। তারা ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে ওউ হচ্ছেন আমাদের প্রেস স্বাধীনতার অন্যতম প্রতীক।সূত্র : বিবিসি নিউজ

Advertisement