পক্ষত্যাগী গোয়েন্দাকে বিষ প্রয়োগ, রাশিয়াকে সতর্কতা যুক্তরাজ্যের

0
221

নিউজ ডেস্ক,যুক্তরাজ্যঃ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত পক্ষত্যাগী সাবেক এক রুশ গোয়েন্দাকে নিজ কন্যাসহ অচেতন অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় কূটনৈতিক বিতর্কের পথে অগ্রসর হচ্ছে দুই দেশ। ওই ঘটনায় এরইমধ্যে রাশিয়াকে সতর্ক করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই গোয়েন্দাকে বিষপ্রয়োগের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিন।৬৬ বছরের সাবেক ওই গোয়েন্দার নাম সের্গেই ক্রিসপাল। রুশ গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত অবস্থায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে ইতোপূর্বে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল রাশিয়া। পরে গুপ্তচর বিনিময়ের আওতায় মুক্তি পেয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।সের্গেই ক্রিসপাল ও তার কন্যাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা।গত রবিবার রবিবার সলসবারি শহরের একটি বিপণিকেন্দ্রের বেঞ্চে সের্গেই ক্রিসপাল এবং তার ৩৩ বছরের কন্যা ইউলিয়াকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত বস্তু থেকে তাদের মধ্যে বিষ ছড়িয়েছে। হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন।মঙ্গলবার ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ওই ঘটনায় রাশিয়ার কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার কঠিন জবাব দেওয়া হবে।

এ ঘটনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপিদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে। এমপিদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যদিও তদন্ত ছাড়াই কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা একটি ভুল পদক্ষেপ, তারপরও আমি পার্লামেন্টকে আবারও এটা নিশ্চিত করছি যে, এর প্রমাণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। সরকার যথাযথ ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

সের্গেই ক্রিসপাল এবং তার কন্যা ইউলিয়াকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার ঘটনাকে ‘বড় ধরনের ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ।রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউয়ের সাবেক কর্নেল সের্গেই ক্রিসপাল যুক্তরাজ্যের কাছে বহু রুশ গোয়েন্দার পরিচয় ফাঁস করে দিয়েছেন- এমন সন্দেহে ২০০৪ সালে তাকে গ্রেফতার করে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)। ২০০৬ সালে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০১০ সালে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার আটক গোয়েন্দা বদলের অংশ হিসেবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেন।উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে লন্ডনে খুন হন কেজিবির সাবেক গুপ্তচর আলেকজান্দার লিটভিনেঙ্কো। ওই খুনের ঘটনায়ও যুক্তরাজ্যের অভিযোগের তীর ক্রেমলিনের দিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here