|
রাজিব হাসান : দু দিন ব্যাপী লন্ডনে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো যুক্তরাজ্য জুড়ে। বাঙ্গালী কমিউনিটিতেও আতঙ্ক বেড়েই চলছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ইংলিশ ডিফেন্স লীগ (ইডিএল) কে মোকাবেলায় পুরোপুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার আগ মুহুর্ত সময়ে আবারো নতুন করে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশী কমিউনিটি।
বাংলাদেশী অধ্যূষিত এলাকাগুলোর বিভিন্ন অংশে আগুন জ্বলছে। লেইটনের একটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে দাঙ্গাকারীরা। দুপুরে স্ট্যাটফোড এলাকায় আক্রমণ চালায় দাঙ্গাকারীরা।
ইতিমধ্যে অধিকাংশ বাংলাদেশীরা কর্মস্থল ত্যাগ করে নিরাপদে বাসায় অবস্থান করছে। আর সামাজিক সাইটগুলোতে সকাল থেকে দেয় স্ট্যাটাসগুলোতেই বুঝা যায় তাদের আতংকের মাত্রা অনেকখানি। বিশেষ করে বিগত সময়ে বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে সবচে‘ বেশি আতংক। বাংলাদেশ থেকে অভিভাবকরা ইতিমধ্যেই তাদের সন্তানের খবর নিচ্ছে।
রাত ৯টার দিয়ে ব্রিট কলেজের শিক্ষার্থী এম আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ বলেন, এই ধরণের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও পরতে হয় নি, ভেবেছিলাম লন্ডন নিরাপদ শহর, তবে এখন নিজেকে অনেকটাই অনিরপাদ ভাবছি।
চ্যানেল এস ভিডিও এডিটর মোহাম্মদ আলমগীর ফেসবুকে স্ট্যাটস এর মাধ্যমে বলেন, এই প্রথম লন্ডনে অফিস থেকে বাসায় যেতে নিজেকের অনরিাপদ মনে হচ্ছে।
বেতার বাংলার ইকবাল ফেরদৌস ফেসবুকে স্ট্যাটস দেন, ‘ইটস রিয়েলী ক্রাইসি সিচেুয়েশন ইন লন্ডন।‘
চ্যানেল আই ইউকে এর নির্বাহী সম্পাদক ও প্রথম আলোর লন্ডন প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, পুরো দেশজুড়েই দাঙা্ ছড়িয়ে পড়ছে, কি হতে যাচ্ছে কিছুই বুঝা যাচ্ছে না।
এই ধরণের অনেক মিডিয়া ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে যার অধিকাংশই দাঙ্গা নিয়ে।
সেন্ট পিটার্স কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাব্বির তার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে বলেন, লন্ডন পুরোই অনরিপাদ শহর, দাঙ্গা ছড়াচ্ছে - শুধুই লন্ডনে নয়, লন্ডনের বাইরেও।
আজ বিকাল ৩টা বেথনাল গ্রীন আসনের এমপি রুশনারা আলী এক জরুরী প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি কমিউনিটিকে সতর্ক থাকতে বলেন এবং যাতে এই দাঙায় বাঙালী কমিউনিটি কোনভাবে সম্পৃক্ত না হয় তার জন্য অনুরোধ করেন।
অন্যদিকে সন্ধ্যা আট টায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইস্ট লন্ডন মসজিদের চেয়ারপারসন ড, বারী বলেন, এই দাঙা যাতে মুসলমানদের দিকে না দোষারোপ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
|