কোন পথে যাচ্ছে সুইডেন আওয়ামী লীগ ?

0
Swe`
মাছুম বারী :: দীর্ঘ ১৬ মাস প্রচেষ্টার পর অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আলোচিত সুইডেন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও বঙ্গবন্ধু প্রেমিকদের বহুল প্রতিক্ষীত ও আলোচিত সম্মেলন স্টোকহোমের একটি মিলনায়তনে গত ১৩ই মার্চ ২০১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী অনিল দাস গুপ্ত ও সাধারন সম্পাদক জনাব এম এ গনি এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নেতা কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন লন্ডন ও ফ্রান্স থেকে আগত ৩ জন সাংবাদিকও ।
এখানে উল্লেখ্য যে  মার্চ ২০০৬ সালে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় সুইডেন আওয়ামী লীগের সম্মেলন । উক্ত সম্মেলনে  সর্বসম্মতিক্রমে ৩ বছরের (২০০৬-২০০৯) জন্য নির্বাচিত হন সভাপতি গোলাম আম্বিয়া ঝন্টু  ও সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর। পরবর্তীতে ২১শে এপ্রিল ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কতৃক অনুমোদন পায় এই কমিটি। ৫ বছর সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২৯শে নভেম্বর ও ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৪ সালে  দুইটি সাধারন সভার মাধ্যমে সম্মেলন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তৎকালীন সভাপতি গোলাম আম্বিয়া ঝন্টু ও সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর এবং সেখান থেকেই যাত্রা শুরু হয় সম্মেলনের আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম। মূল উদ্দেশ্য ছিল সকলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা ।
শেষ পর্যন্ত এ বছরের ১৩ মার্চে অনুষ্ঠিত হয় বহু প্রতিক্ষিত এই সম্মেলন। সম্মেলনের দিন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল পুরো মিলনায়তন। বিপুল সংখ্যক মহিলা ও বঙ্গবন্ধু প্রেমিকদের উপস্থিতি সম্মেলনকে উৎসব মূখর করে তুলে । বক্তারা আগামীতে ভেদাভেদ ভুলে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান ।

সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর কবিরকে সভাপতি ও ফরহাদ আলী খানকে সাধারন সম্পাদক ঘোষনা করে একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব অর্পন করেন তাদের উপর ।  সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিতে ফরহাদ আলী খান সম্মেলন স্থলে অপারগতা প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সভাপতি জাহাঙ্গীর কবীরের নেতৃত্বে  আলোচনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেন । তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩, ৪ ও ৫ মে তারিখে  সভাপতি জাহাঙ্গীর কবীর ও সাধারন সম্পাদক ফরহাদ আলী খান,  প্রাক্তন সভাপতি গোলাম আম্বীয়া ঝন্টু  ও প্রাক্তন সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যান্য কার্যকরী পরিষদের সিনিয়র সদস্য, সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনের প্রধান সকলের সাথে মতবিনিময় করে দলীয় ঐক্যের স্বার্থে ১০৮ সদস্য বিশিষ্ট  সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি পূর্নাঙ্গ  কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি আসন্ন ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অনুমোদনের জন্য সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কাছে প্রেরন করা হবে বলে সিদ্ধান্তও হয়।
সভাপতির শারীরিক অসুস্থতার কারনে তার অনুমতিক্রমে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যথাক্রমে সাধারন সম্পাদক ফরহাদ আলী খান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মাছুম বারী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবিদ খান ও কার্যকরী পরিষদের সদস্য নুর ছালাম চাইনিজ  ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সুইডেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং গত ৭ মে সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জনাব নজরুল ইসলামের কাছে ১০৮ সদস্য বিশিষ্ট সুইডেন আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি ( সভাপতি / সাধারন সম্পাদক স্বাক্ষরিত ) অনুমোদনের জন্য হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ৮ মে রাত ২টায় আমি ( মাছুম বারী ) ও নুর ছালামের হোটেল কক্ষে ফরহাদ আলী খান এসে জানান যে আগামীকাল অর্থাৎ ৯ই মে ফ্রান্স এয়ারপোর্টে রওয়ানা দেয়ার পূর্বে  সুইডেন আওয়ামী লীগের অনুমোদিত কমিটি দলের ইউরোপিয়ান নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর করবেন । সে অনুযায়ী আমি (মাছুম বারী ) ও ফরহাদ আলী খান সকাল সাড়ে ৭টায় হোটেল লবিতে সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জনাব এম এ গনি ও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জনাব নজরুল ইসলামের সাথে সাক্ষাত করি। এ সময় নেতাদের কাছে সুইডেন আওয়ামী লীগের অনুমোদিত কমিটি হস্তান্তর করে ফরহাদ আলী খান আমাকে তা না দেখিয়েই বলেন আরও কিছু লোককে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুইডেন আসার পর আমি দেখি কমিটি কাগজে হাতে লিখে আরও ৩৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এ ব্যাপারে ফরহাদ আলী খান আমাদের (প্রতিনিধি দল) সাথে কোন প্রকার আলোচনাই করেন নি। কি প্রক্রিয়ায় এসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হল তার উত্তর ফরহাদ সাহেব ও সর্ব ইউরোপিয়ান  আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরাই দিতে পারবেন । আমাকে সুইডেনে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন এটা কীভাবে সম্ভব হল ! গত ৫ দিনে ফরহাদ আলী খান সাহেবকে আর না হলেও দিনে ৩/৪ বার ফোন করেছি, তিনি ফোন রিসিভ করছেন না ।
বিনয়ের  সাথে সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে আবেদন করছি তদন্ত করা হোক – কি প্রক্রিয়ায় একটি দেশের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক সাক্ষরিত একটি পূর্নাঙ্গ কমিটির উপর কলম চালিয়ে ৩৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হল?  কলম চালানোর আগে সুইডেন থেকে আগত প্রতিনিধি দলের সাথে একবার আলোচনা করার  প্রয়োজন কি ছিলো না।  কে বা কারা কোথা থেকে যে এই ৩৬ জনের নাম আনলেন আমরা কিছুই জানলাম না?  যেহেতু সুইডেন প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে ফরহাদ আলী খানের সাথে আমিও ফ্রান্সে ছিলাম, সেহেতু বিষয়টি আমার পরিস্কার করা উচিত। আমি সবিনয়ে সবার কাছে বলতে চাই সুইডেন আওয়ামী লীগের কমিটিতে নতুন অন্তর্ভুক্ত ৩৬জনের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, ফরহাদ আরী খান আমাদের না জানিয়েই এই ৩৬জনের নাম হাতে লিখে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং ইউরোপীয়ান আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ করছি অল ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে।
জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু । জয় হোক মেহনতি মানুষের ।

লেখক : মাছুম বারী , যুগ্ম সাধারন সম্পাদক – সুইডেন আওয়ামী লীগ

Share.

Leave A Reply

2 × five =