|
জয়পুরহাট প্রতিনিধি :: ঘুষ দাবি করে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মেরামত করতে না দিয়ে প্রকৌশলীদের ফেরত পাঠানো ও মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদে চাকরির অভিযোগের পর এবার জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোকছেদ আলীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করলেন
হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী। হাসপাতালে কর্মরত ওই পরিচ্ছন্নতা কর্মীর (সুইপার) অভিযোগ পদ পরিবর্তন করে এম,এল,এস,এস পদে নিয়োগ দেয়ার শর্তে ডাঃ মোকছেদ আলী এবং অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ তার কাছ থেকে ৪ মাস আগে ৫০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু শর্ত অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী আকরাম হোসেন ঘুষ নেয়ার বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোজাম্মেল হক সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে,১৯৮৮ সালে তিনি জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসাবে যোগদান করেন। ২০০৬ সালে ৮ জানুয়ারী তৎকালীন সিভিল সার্জন ডাঃ শিরিনা চৌধুরী তাকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পরিবর্তে মালীর দায়িত্ব পালনের আদেশ দিলে সেই থেকে আকরাম হোসেন মালী হিসেবে কাজ করছেন।
কিন্তু গত বছর ২৫ আগষ্ট হাসপাতালে তত্বাবধায়ক পদে যোগদান করে ডাঃ মোকছেদ আলী মালীর দায়িত্বে থাকা আকরাম হোসেনকে মালীর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পরিচ্ছনতা কর্মীর দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় আকরাম পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পরিবর্তে স্থায়ী ভাবে এম,এল,এস,এস পদের জন্য তত্বাবধায়ক ডাঃ মোকছেদ আলীর কাছে আবেদন করেন। আর এ কাজের জন্য টাকা দাবি করলে স্থায়ী চাকুরীর আশায় আকরাম হোসেন গত বছরের ৮ অক্টোবর ডাঃ মোকছেদ আলীকে নগদ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। ডাঃ মোকছেদ আলী টাকা গ্রহণের পর হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী মামুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। বিষয়টি অফিস সহকারী মামুনুর রশিদকে জানালে এ কাজে কাগজ পত্র ঠিক করার কথা বলে তিনিও ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন।
কিন্তু দীর্ঘ ৪ মাস পরও শর্ত অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় আকরাম হোসেন প্রতিকার চেয়ে লিখিতভাবে এই অভিযোগ করেন।আকরাম হোসেন জানান,পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকে এম,এল,এস,এস পদে চাকরী দেয়ার জন্য তার কাছ থেকে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোকছেদ আলী ৩০ হাজার ও অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু শর্ত অনুযায়ী কাজটি না করায় বার বার যোগাযোগ করেও টাকা ফেরত পাননি। বরং টাকা চাইতে গেলেই নানা টালবাহানাসহ রাগারাগি করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।তবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন তত্বাবধায়ক ডাঃ মোকছেদ আলী।
তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মী হয়ে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে আকরাম আলী মালীর পদে ছিল। আমি এসে তাকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদে কাজ করার নির্দেশ দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’একইভাবে হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী মামুনুর রশিদও তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘চাকরি দেয়ার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাজেই এ ব্যাপারে আকরাম হোসেনের কাছ থেকে আমি কোন টাকা নেইনি।’জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোজাম্মেল হক লিখিত ওই অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন,‘বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
’এদিকে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোকছেদ আলীকে ঘুষ না দেয়ায় আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন সহ ইলেকট্রো যন্ত্রপাতি মেরামত করতে আসা ঢাকা’র নাতাসা হেলথ কেয়ার প্রোডাক্টস লিঃ এর প্রকৌশলীদের ফেরত যেতে বাধ্য করা এবং মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও ভুয়া সনদে চাকরি করার অভিযোগও ওঠে।নাম না বলার শর্তে হাসপাতালের একটি সুত্র জানায়,জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল বিগত ৭ বছর থেকে দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তত্বাবধায়ক হিসেবে ডাঃ মোকছেদ আলী যোগদান করার পর থেকে কর্মস্থলে তাঁর অনিয়মিত উপস্থিতি সহ নানা অনিয়মে হাসপাতালের সেই অর্জন শুধু ভুলুন্ঠিতই নয় তাঁর অনৈতিক কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরাও।
|