|
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :: ঝিনাইদহে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ভয়াবহ ধ্বস নেমেছে। একের পর এক অপহরণ হত্যা গুমের শিকার হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। সেইসাথে অপহরণের পর হত্যার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
২৬জানুয়ারি বৃহস্পতিবার হরিনাকুণ্ডু উপজেলায় হেলাল উদ্দিন নামে এক চরমপন্থি নেতাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এরই আগের দিন বুধবার জেলা শহরের ভড়–য়াপাড়া গ্রামের মাঠে সৌরভ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে ও বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে হত্যার পর তার লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বললেও এভাবে ঝিনাইদহে একের পর এক অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে।
গত এক মাসে শ্রাবণী, শাহেদ ও অন্তর নামে শহরে খুন হয়েছে তিন ছাত্রছাত্রী। অপহরণের পর কাউকে পুড়িয়ে, কাউকে পিটিয়ে আবার কাউকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ পানিতে বা মাটিচাপা দিয়ে গুমের চেষ্টা করা হয়। একের পর এক হত্যার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহের সাধারন মানুষ।
শহরে সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে অভিভাবক,শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও খুনিদের গ্রেফতার দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, এনজিও, সাংস্কৃতিক কর্মী, বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো জোটবদ্ধভাবে বিক্ষোভ মিছিল করছে প্রায় প্রতিদিনই।
এদিকে ক্রমেই ছাত্রছাত্রীর লাশের মিছিলে ভারী হচ্ছে পরিবেশ। গত ১৪ জানুয়ারী শনিবার ঝিনাইদহ কাঞ্চন নগর মডেল হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগের মেধাবী ছাত্র অনন্ত কুমার রায় চৌধুরী খুন হয়। শহরের ব্যাপারী পাড়ার অনুকূল কর্মকার ও মা রিতা রায়ের এক মাত্র ছেলে ছিল সে। আগের দিন শুক্রবার সকালে মেহেরপুর জেলার গাংনীতে বাবার কাছে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় সে।
শনিবার সকালে স্কুল মাঠে শ্বাসরোধ ও মুখমন্ডল পোড়ানো অবস্থায় এলাকাবাসী অন্তরের লাশ দেখতে পায়। গত বছরের শেষ দিকে ১২ ডিসেম্বর স্কুল থেকে ফেরার পথে সদর উপজেলার হলিধানী সরকারি প্রাথমিক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া ইসলাম শ্রাবণী (৮) অপহৃত হয়। মুক্তিপনের ৬ লাখ টাকা না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে নদী থেকে সুমাইয়া ইসলাম শ্রাবণীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ১৩ ডিসেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ঝিনাইদহ সরকারি কারিগরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র শাহেদ মোবাইলে টাকা ফ্ল্যাক্সি করার জন্য বাড়ির কাছে বাজারে আসার পথে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণের শিকার হয় । শহরের চাকলাপাড়ার পৌরসভার সাবেক সচিব আবদুল কাদেরের দ্বিতীয় ছেলে হামিদুর রহমান ওরফে শাহেদকে অপহরণ করার ৮ দিন পর তার বাড়ির পাশ থেকে মাটি চাপা অবস্থায় ২৩ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এখনো পর্যন্ত হত্যার সঠিক সুরাহা ও আসামীদের আটক করতে না পারায় নিহতের স্বজনরা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এভাবে একের পর এক লাশের মিছিল ভারি হবার ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করলেও পুলিশ অনেকটাই নির্বিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ঝিনাইদহ শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকু উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কি কারণে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটে চলেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের গ্রেফতার করতে হবে। একই সাথে বিভিন্ন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিসি বিশ্বাস বলেন, ছাত্রছাত্রীদের কোন নিরাপত্তা নেই । এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন দাবি করেছেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম।
তিনি জানিয়েছেন, কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের অপহরক ও খুনিরা গ্রেফতার হয়েছে। এদিকে র্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম. আশরাফ আলী সাধারন মানুষের উদ্বেগ, আতঙ্ক ও বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বলছেন, পরপর কয়েকটি খুনের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, খুনের কারণ সনাক্ত ও খুনীদের গ্রেফতারে র্যাব তপর রয়েছে। কয়েকটি হত্যা মামলার আসামী ও অপহরণকারী ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে।
|