|
বাগেরহাট প্রতিনিধি :: সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের মইদাড়া নামক স্থানে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে হুমকির মুখে পড়বে ওয়াল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবন। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে
সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশের কি পরিমান ক্ষতি হবে তার কোন সমীক্ষা না চালিয়ে-এমনকি সুন্দরবন বিভাগের কোন অনুমতি না নিয়ে সরকার সুন্দরবন ধ্বংসে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে পরিবেশবাদী সংগঠন গুলো দাবী করেছে। রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান এলাকার ক্ষুদ্ধ লোকজনের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সরকার ইতিমধ্যে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহন করেছে এমনকি অধিগ্রহনের টাকা আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তরও শুরু করেছে।
ইমিধ্যে ওই এলাকার ৬৭ জন জমির মালিকদের মাঝে প্রায় আড়াই কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়ছে। পর্যায়ক্রমে এই চেক হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অব্যহত রয়েছে। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৮শ ৩৪ একর জমি বরাদ্ধের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এই জমি অধিগ্রহনের জন্য সরকার ৬২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিগত ২০১০ সালের ১১ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে দু দেশের সরকার প্রধানের উপস্থিতিতে এই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের একটি এমইউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পিডিপি এবং ভারতের জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার লিমিটেড (এনটিপিসি) যৌথভাবে বাগেরহাটের রামপালের গৌরম্ভা এলাকায় ১৩২০ মেগাওয়াট এই প্রকল্প বা¯তবায়নের চুক্তি করে।
যা ২০১৫ সালের মধ্যে উৎপাদনে আসবে। ভারত সরকার যে অর্থ এখানে ব্যয় করবে তাতে ১৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে। প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হবে ১৫ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশের লাভের চেয়ে ক্ষতির আশংঙ্কা বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা দাবী করেন। আর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রর জন্য ১৭০ ডলার দরে প্রতি টন কয়লা ভারত থেকে ক্রয় করতে হবে যা বিশ্ব বাজারের স্বাভাবিক মুল্যের চেয়ে অনেক বেশি।
যেখানে বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়া কেন্দ্র থেকে উত্তোলিত কয়লা মাত্র ৮৪/৮৫ ডলারে কয়লা বিক্রি হয়। এছাড়া বিশ্ব বাজারে বর্তমানে ১০০ ডলারে উৎকৃষ্টমানের কয়লা পাওয়া যায়। এছাড়া দেশে বর্তমান প্রায় তিনশ কোটি টন কয়লা মজুদ থাকার পরও তার ব্যবহার না করে কয়লা আমদানি কতটা যুক্তিসম্মত সেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। তাছাড়া বড় পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যেখানে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়ে প্রায় ৪ টাকা। সেখানে এই কেন্দ্রে উৎপাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এর দাম পড়বে ১৫ টাকার অধিক বলে পিডিবি সূত্রে জানাগেছে।
এতে সরকারকে গুনতে হবে বিশাল অংকের ভূক্তুকি। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৪০০একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন আইন অনুযায়ী এ ধরনের প্রকল্প এ রকম সংরক্ষিত এলাকায় নির্মান করা যায় না বলে বিশেষজ্ঞরা দাবী করেছেন। একই সাথে এলাকার নদ-নদীর পানি তীব্র লবনাক্ত থাকায় এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য মিঠা পানির উৎস হিসেবে ভূগর্বস্থ পানি ব্যবহারের কথা রয়েছে।
প্রতিদিন কোটি কোটি গ্যালন ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে গোটা দক্ষিনাঞ্চলে মিঠা পানির স্তর দ্রুতই নিচে নেমে যাবে। এতে করে বাগেরহাট, মংলা, খুলনাসহ দক্ষিনাঞ্চলের সুপেয় খাবার পানির উৎস্য ও কৃষি কাজ মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে। এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কালো ধোঁয়া ও শিশাযুক্ত ছাঁই সর্বক্ষন আকাশে ভেসে থাকার কারণে গোটা সুন্দরবনের পরিবেশ ও পতিবেশের মারাত্মক্ত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এ প্রসঙ্গে রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’র সদস্য সচিব প্রবীর বিশ্বাস বলেন, এ অঞ্চলের মানুষকে, সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিল করতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধাšেত এলাকার নব্বই শতাংশ জনগন ক্ষুদ্ধ। কয়লা ভিত্তিক এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমাদের কোন কল্যাণ বয়ে আনবে না। এটা যদি করতেই হয় তবে সুন্দরবনের সাথে কেন? অন্য কোথাও এই প্রকল্প করার দাবী জানিয়েছেন তারা।
রামপালে এই প্রকল্প স্থাপিত হলে এই অঞ্চলসহ পাশ্বতর্বী এলাকা ধোঁয়া এবং কয়লা পোড়ানো ছাইয়ে আকাশ আচ্ছন্ন হবে। গৃহ পালিত পশুপাখি, অতিথি পাখিসহ সুন্দরবনে বসবাসকারী জীব-জগৎ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। যা কিনা বাংলাদেশের ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়বে। বিদেশী পর্যটক, গবেষকদের সুন্দরবনে আগমন থেমে যাবে। সুন্দরবন নিয়ে বিশ্বে গর্ব করার মত কোন পথ থাকবে না।
|