rss
বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৪
রাজীব হায়দারের ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করা ব্লগ পোস্ট !
শুক্রবার, 15 ফেব্রুয়ারী 2013 21:51

61712_336657809769313_1748120883_n.pngরাজীব হায়দারের ব্লগ পোস্ট:: এই লেখা গুলো প্রয়াত ব্লগার রাজীব হায়দারের ব্লগ থেকে কপি করে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল। এর দায় দায়িত্ব সম্পাদকের নয়।

 

মোহাম্মকের সফেদ লুঙ্গী

 

একদা মোহাম্মক তাহার সাহাবাদিগকে লইয়া বনি আল ইয়ালি গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাইতেছিল। অনেক দূরের পথ… কয়েক দিন লাগিয়া যাইবে। আর আরবের অবস্থা তখন ভয়ানক খারাপ… সাহারা খাতুন যেহেতু তাহাদিগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব লওয়ার নিমিত্বে জন্মগ্রহন করে নাই, তাই আরবের আইনসৃংখলা পরিস্তিতিও শান্ত ও নিস্তরঙ্গ ছিল না। এক ঘন্টা পথ যাইতে দ্বাদশ বার তষ্করের সম্মুক্ষীন হইতে হইতো। আর মোহাম্মক তখনো আল্লার বান্ধা বান্দা হিসাবে খ্যাতি লাভ করে নাই, তদুপরি কাফের তষ্করেরা তাহাকে চিনিলেও মানিবে কেন? তাই তাহারা মোহাম্মক ও তাহার সাহাবীদিগের কনভয়কে মূহর্মুহ আক্রমন করিয়া নাজেহাল করিয়া ছাড়িল। ছোট খাট তষ্করদলকে পাত্তা দিবার কোন হেতু নাই, তবে গোল বাঁধে বৃহৎ কোন দল সম্মুখে পড়িলে। দূরে কোন বৃহৎ তষ্করের দল গোচরীভূত হইলে আল্লা জেব্রাইলকে পাঠাইয়া মোহাম্মককে সতর্ক করিয়া দেয়। মোহাম্মক তখন সাহাবী বকরীকে তুরন্ত তাহার লাল লুঙ্গী ও পিরান আনিয়া দিবার জন্য তাড়া লাগায়। খোকাবাবু থুক্কু মোহাম্মক তাহার সবুজ পোষাক বদলায় লাল লুঙ্গী-পিরান পরিধান করিয়া যুদ্ধ করে। প্রতিবারই যুদ্ধের পূর্বে মোহাম্মকের রক্তবর্ণের লুঙ্গী ও পিরানে যুদ্ধে মোজেজা কি তাহা লইয়া কানা-ঘুষা আরম্ভ হইলো সাহাবাদিগের মধ্যে। বনী ইয়ালি গোত্রের মরুদ্যানের নিকটবর্তী হইয়া সন্দেশ পাওয়া গেল যে গোত্রের সমস্ত পুরুষ মোহাম্মকের প্রতিরোধাক্রমনেই নিকেশ হইয়াছে, মরুদ্যানে কেবল নারী ও শিশুরাই রহিয়াছে। তৎখনাত সেখানেই শিবির স্থাপনের সিদ্ধান্ত হইলো। গেরাম খালি, তাই তাড়াহুরা কয়ার কোন কারন নাই। শিবির স্থাপন করিয়া রাত্তিরে জম্পেশ করিয়া উষ্ট্রী ও দুম্বার বারবিকিউ খাইতে বসিয়া সাহাবীরা মোহাম্মকের তাহাদের কৌতুহল পেশ করিল। মোহাম্মক তখন সাড়ম্বরে বয়ান শুরু করিল!

 

“আমিই তিনি যাহাকে আল্লাপাদ নবী করিয়া পাঠাইয়াছে, আমিই তোমাদিগের নেতা স্বরুপ। আমি সকল ঘ্যান ও ভিদ্যার উৎস। কিন্তু আল্লাপাদ আমাকে পাঠাইয়াছেন মানুষের রূপে, যাহাতে তোমরা আমার দ্বারা প্রেরিত বানী সহজে অনুধাবন করিতে পার ও আল্লার অপার মহিমা দেখিয়া আপ্লুতো হইতে পার। কিন্তু মানবরূপী আল্লার রাসুলও তো যুদ্ধে জখম হইতে পারে, কারন সে তো সাধারন মানুষের রূপ ধরিয়া রহিয়াছে। কিন্তু রাসুল যুদ্ধে জখম হইলে তাহার সাহাবীদিগের মনোবলে চিড় ধরিবে। সেই জন্যই তোমরা যাহাতে আল্লার রাসুল জখম হইলেও তাহা দেখিয়া মনোবল না হারাও তাই আমি লাল লুঙ্গী ও পিরান পরিশান করিয়া যুদ্ধ করি, কার নিশ্চই লাল পোষাক লক্তের দাগ ঢাকিয়া দেয় এবং নিশ্চই আল্লা সর্বঘ্যানী”

 

সাহাবাদিগের আল্লাদ দেখে কে… তাহাদিগের মধ্যে সত্বর মোহাম্মকের খেজুরীয় বানী শ্রবন করিয়া স্বীয় বস্ত্র বিসর্জন করতঃ মোহাম্মক যেই বর্ণের পোষাক পরিধান করিয়া ছিল সেই বর্ণের পোষাক পড়িবার ধুম পরিয়া গেল।

 

হই হুল্লোড় হইতেছিল ভালই, কিন্তু ইহার মধ্যে বনি ইয়ালি গোত্রের অতিবৃদ্ধা এক দূতী আসিয়া হাজির হইলো। বৃদ্ধাকে সরাসরি নবীর সম্মুখে হাজির করা হইলো, তবে প্রোপার পর্দা সহযোগে, কারন তাহার নাতিশয় কদাকার আর কদাকার সুরত দেখিলে মোহাম্মকের বুকের গোবরগুলা ঘুটে হইয়া যায়। বৃদ্ধা একখানা শান্তি চুক্তি করিতে আসিয়াছে। তবে মোহাম্মকও সন্তু লারমার ন্যায় ধৈর্যশীল, সে বুড়ির প্রস্তাব শুনিল… বৃদ্ধা যাহা বলিল তাহা হইলো আপাতত গেরাম হইতে নাতিশয় খপসুরত তিনখান লরকী সে নবীর খেদমতে দিয়া যাইবেক, কিন্তু বিনিময়ে নবীর বাহিনী প্রাতঃক্কালে শান্তিপূর্ণ ভাবে মরুদ্যানে প্রবেশ পূর্বক কাতারবদ্ধ হইয়া গনিমতের মাল ভক্ষন করতে হইবেক। নবী বাহিনী দেখিল ইহা তো মন্দ নহে… এহা যে উষ্ট্র না চাইতেই মূত্র! আর কি চাই, নবী অঙ্গীকার করিলেন “তাহাই হইবেক”! আর আল্লার নবী মোহাম্মক ভঙ্গ করেন না অঙ্গীকার!

 

বৃদ্ধা তাহার পর তিন সুন্দরীকে সভামইধ্যে হাজির করিল। তাহাদের অঙ্গে স্বচ্ছ মসলিনের পোষাক। দেখিয়া সকল ইমানদাদের ইমানী হালত খারাপ হইবার যোগাড়! মোহাম্মকের অবস্থাও তথৈবচ। তাহার ইমানী হালত শুধু খারাপই না, সাথে ওকাল পতন ধরিয়া রাখাও টাফ হইয়া যাইতেছিল। পাছে কেউ কিছু টের পায়, তাই কোন রকমে বকরীকে দিয়া তাহার সফেদ লুঙ্গী আর সাদা পিরান আনাইয়া পরিধান করিয়া তাহার অকাল পতনের লজ্জা ঢাকিল, আর সেই তো শ্রেষ্ঠ মুসলিম যে তাহার লজ্জা ঢাকিয়া রাখে!

 

আসল কাহিনী ছিল বৃদ্ধা যে তিনজন সুন্দরী দিয়া গেল, তাহারা হইলো আমাদিগের অতি পরিচিত চার্লিজ এঞ্জেলস। তাহাদিগকে চিক্রেট মিশন দিয়া ভবিষ্যত হইতে পাঠানো হইয়াছে। তাহাদিগের মিশন হইলো নবী ব্যাতীত যতোজন পারে সাহাবী স্রেফ ভায়াগ্রার ওভারডোজ খিলাইয়া হত্যা করা। তাই প্রাতঃকালে বকরী আসিয়া যখন নাস্তার তশতরিতে সন্দেশ দিল যে ১০০ জনে মধ্যে ৭২ জন সাহাবী মালে গনিমত ভক্ষন করিয়া শহীদ হইয়াছে, শুনিয়া মোহাম্মকের ‘আক্কেল ঘচাং’ হইয়া গেল। মোহাম্মক সরে-জমিনে তদন্তে যাইয়া যাহা দেখিল তাহা হইলো তাহার আল-শহীদ সাহাবিগন চিৎ হইয়া শুইয়া শহীদ হইয়াছে, এবং তাহাদিগের লুঙ্গী তাম্বুপ্রাপ্ত হইয়াছে। সাহাবীরা মোহাম্মকের দেখাদেখি সফেদ লুঙ্গী পরিধান করিয়াছিল বলিয়া মোহাম্মকও টের পাইলো না যে তাহাদিগেরও অনুপ্রবেশ ব্যাতীতই উদ্গীরন হইয়াছিল, আর সেই অগ্নুৎপাতেই তাহারা শহীদ হইয়াছিল।

 

সেই যে সাহাবীরা অকাল পতনের লজ্জা লুকাইতে সফেদ লুঙ্গী ও পিরান পরিধান করিয়াছিল, সেই স্মৃতি রক্ষার্থে আজও মোহাম্মকের উম্মকেরা মৃতের দেহে সফেদ লুঙ্গী ও পিরান(সেনা-বন্দ এবং তাহ-বন্দ) পরিধান করাইয়া মাটিচাপা দেয়!

 

 

 

http://nuranichapa.wordpress.com

 

 

ঢিলা ও কুলুখ

“বাবা মোহাম্মক তোমাকে যুদ্ধে যাইতে হইপে।”
“কেনু কাক্কু?”
“যুদ্ধে না যাইলে যে আমাগের না খাইয়ে মরিতে হইপে বাবা!”
“আচ্ছা তবে যাইব। কিন্তুক আমাকে কোথায় খাড়াইয়া যুদ্ধ করিতে হইপে? সামনে খাড়ায় নাকি পিছনে?”
“মনে করো সামনেই খাড়াইতে হইপে”
“আমারে কি উঁষ্ট্রী দেওয়া হইপে নাকি খাড়ার ওপরে পলাইতে হইপে? উঁষ্ট্রী দিলে কোন কথা নাই, কিন্তু খাড়ার ওপরে পলাইতে হইলে দুইখান কথা আছে।”
“তোমাকে খাড়ার ওপরেই পলাইতে হ

ইপে।”
“আমি যদি পলাইয়া মক্কা চলিয়া আসিতে পারি, তাহা হইলে কুনু কতা নাই, কিন্তু কাফেররা ধরিয়া ফেলিলে দুইখান কতা আছে।”
“মনু করো তাহারা তোমাকে ধরিয়া ফেলাইপে”
“কাফের রমণীগণ আমাকে তাহাদের গনিমতের মাল বলিয়া ব্যাবহার করিপে নাকি আমার কল্লা কাটিয়া ফেলাইপে”।
“কল্লাই কাটিল না হয়, তুমার যা সাইজ… ইউজ কেউ করিপে না”!
“আমাকে কাটিয়া শকুন দিয়া খাওয়াইপে নাকি কব্বর দিপে!”
“তোকে কব্বরেই পাঠাবে রে বাবা!”
“আমার কবর কি মরূদ্যানে দেবে নাকি মরুতে? মরুতে দিলে কতা নাই, কিন্তু মরূদ্যানে দিলে দুইখান কতা আছে!”
“দরকার হইলে মি তুমাকে মরুত্থে তুলে নিয়ে মরুদ্যানে লইয়া আসিপ!”
“কাক্কু কব্বরে কি খাইজুর গাছ লাগাইপে নাকি বাবলা বেরেক্ষ?”
“বাবলা বেররেক্ষ হইপে বাবা!”
“সেই বাবলা গাছে কি জ্বালানী কাষ্ঠ হইপে নাকি কাগজ?”
“কাগজই হইপে”
“কি কাগজ কাক্কু? লিখিপার জইন্য বেদাতী কাগজ নাকি টিস্যু”
“টিস্যুই না হয় হইপে!”
“সুরত মুছিপার টিস্যু কাক্কু, নাকি এস্তেঞ্জা করিপার?”
প্রশ্নবানে জর্জরিত কাক্কু আপদুল্লা বুঝিয়াছে বাস্তে মোহাআম্মক ভাগার তাল করিতেছে, তাই ক্ষেপেছে বে, “এস্তেঞ্জা করিপারই হইপে… তোর মতো চুরাকে কি কেউ মাথায় করিয়া রাখিপে?”
“তাহা হইলে কাক্কু সে টিস্য কি পুরুষে ব্যাবহার করিপে নাকি নারীতে?”
“তুই কি তছলিমা নাছরীন যে নারী পুরুষে ভেদাভেদ করিয়া দিলি?”
তরুন মোহাম্মক তাহার প্রশ্নবাণ শেষ করিবার আগেই কাক্কু তাহাকে চাক্কু দেখাইয়া যুদ্ধে পাঠাইয়া দিলো। কেই বা এমন প্যাচাল শুনিতে চায়! মোহাম্মকের সম্যক প্রশ্ন স্বত্বেও তাহাকে যুদ্ধে যাইতে হইলো… জীবনের শেষ পর্যন্ত তাহার যুদ্ধে মরিয়া নারীকূলের ব্যাবহার্য টিস্যু হইবার ভয়ে কাটিয়াছে। তাই শেষ পর্যন্ত টিস্যু, মায় জলগ্রহন পর্যন্ত নিষিদ্ধ করিয়া ঢিলা-কুলুখ ও পাত্থর ব্যাবহারের রীতি প্রদান করিয়া তবে শান্তি পাইলো! সেই থেকে লিকুইড এস্তেঞ্জার পরে ঢিলা-কুলুখ(এক্ষেত্রে নারীকূলের কথা ভাবা হয় নাই) ও সলিড এস্তেঞ্জার পরে ৫,৭,৯,১১,১৩ ইত্যাদি সংখ্যক পাত্থর ব্যাবহার মুসলমানদিগের জন্য ফরজ হইয়া গেল
 
 
 
 

সিজদা

মোহাম্মক তাহার ইয়ার দোস্ত লইয়া প্রায়শঃই কাবা প্রাঙ্গনে আরবি খাইয়া (মদ্য বিশেষ) পড়িয়া থাকিত। মোহাম্মদ যখন বেহুঁশ হইয়া পড়িয়া রহিত, তখন তাহার ইয়ার দোস্তরা এই গোল্ডেন অপরচুনিটি মিস করিবে কেন? সবার তো আর উম্ম-হানী নাই।

ইয়ার-দোস্তদিগের গোল্ডেন অপরচুনিটির শিকার হইয়া সুবে-সাদিকের সময় ঘুম ভাঙ্গিলে রেকটাম-প্রদাহের ঠ্যালায় মোহাম্মকের পক্ষে চিত-কাইত হইয়া শয়ন করা বাস্তবিক অসম্ভব হইয়া দাঁড়াইতো। তাই পশ্চাদ্দেশের আরামের নিমিত্তে সে উর্ধপোঁদে রেকটামের স্ফিংকস্টার পেশী চেগাইয়া পড়িয়া থাকিত। এমতাবস্তায় কেউ দেখিয়া ফেলিলে চাপা মারিত যে সালাত আদায় করিতেছে আর এই ভঙ্গীটির নাম সিজদা।

সেই হইতে মুসলমানের জন্য উর্ধপোঁদে সিজদার প্রচলন শুরু হইয়াছে!

 

 

http://nuranichapa.wordpress.com

 

মদ ও মোহাম্মক


আরব দ্যাশের বনি-অমুক গেরামের মাইনষ্যের আছিন্‌ মদের কারবার। মদ বেইচ্চা কাফেরগুলানের ট্যায়াহয়সা আল্লায় দিলে ম্যালা কম না। হেইদিগে মোহাম্মগের আল্যায় হ্যারে কিচ্ছু দিছে না… আর খাদিজার ট্যায়াহয়সাও বেডি মরার পরে মোহাম্মগে ভাইঙ্গা খাইয়া লাইছে। হের লাইগ্যাওই মোহাম্মগ আল্লার কতায় বনি-অমুক গেরাম দহল অইরা ফালাইলো এগদিন।

গেরামের বেডাইন্তেরে মাইরা লাইলো কোফায়া। হের পর হের সাহাবীরা জাপ্পুরদা হড়লো মদের বতুল্ডির উরফে। খায়া খুইয়া টাল অয়া গেল সবতে। হের অরে সবতে মিল্লা টাল অইয়া গেরামের সব বেইড্ডাইন আর ছেরিমানুগুলারে শুরু অরলো গনিমতে ছহবৎ। কিন্তু টাল আছিলো বইল্লা আজল হরনের কতা কাউরই মনো আছিলো না।

১০ মাস ফরে বনি-অমুক গেরামের মানু বিরান অইবো কই, ডাবলের উরফে রিদাবল অইয়া গেলোগা। মোহাম্মগ ফইল্যা বুছতারছে না কেমনে অইছে। ফরে সবটির কতা হুইন্যা যেসুমো বুচ্ছে মদ খাইয়া এই হব্বোনাশডা অইছে, হালায় ফতুয়া বানায়লাইছে যে মদ খাওন আল্লার ফছন্দ না। হেই সুমোত্থে মুসুলমানের মদ খাওন হারাম অইয়া গ্যাছে গা!

 

 

ইফতারী ও খুর্মা খেজুর

 

depositphotos_5131904-arabian-dates.jpg?w=487


একদা মোহাম্মক তাহার ৩০০মিলিওন বছরের পুরান পাবলিকা মডেলের গাধায় চড়িয়া দাপ্তরিক কাজে মক্কার উপকন্ঠে বনি লুবর-ই-কান গোত্রের মরুদ্যেনের দিকে যাইতেছিল। তাহার মেজাজ যাহার পর নাই খারাপ। যাতায়াতের নিমিত্তে খাদিজা বিবির ইম্পোর্টেড মডেলের লিমোজিন উষ্ট্রীটিকে সে পায় নাই। খাদিজা তাহাকে পতিত্ব দান করিয়া শরীরের অধিকার দান করিলেও দাপ্তরিক কার্যে কেরানী অবধিও পদোন্নতি দান করে নাই। মক্কার সর্পেক্ষা ধনী ব্যবসায়ীর পতিনবী হইলেও তাহাকে অদ্যবধি স্বশরীরে মরুভূমিতে দুম্বা চড়াইতে যাইতে হয়। পদোন্নতি ঘটিবে এমন সম্ভাবনাও সুদূর পরাহত। ইকরা পাশ করিলে পদোন্নতি ঘটার কথা, জেব্রাইলের উত্তম-মধ্য খাইয়া ইকরা পাশও করিয়া ছিল কিন্তু খাদিজার ‘ইমতিহান’এ ফেল মারিয়া থোড় বড়ি খাড়াতেই রহিয়া গিয়াছে, খদিজা বিবি তাহার পদোন্নতি আটকাইয়া দিয়াছে।

 

আজকের ট্রিপটিতে মোহাম্মক নিজে না গিয়া সাকরেদ আবু বকরীকে পাঠাইতে মনস্থ করিয়াছিল, কিন্তু খাদিজা তাহার হস্তে ‘কনফিডেনশিয়াল’ কন্টক খচিত খেজুর পত্রের আঁটি ধরাইয়া সব মাটি করিয়াছে। তাহার হেরা গুহায় গিয়া নাসিকায় উস্ট্র চর্বির তৈল ঘসিয়া দিবা নিদ্রার দ্বাদশ ঘটিকা বাজাইয়া দিয়াছে। তথাপি অনিচ্ছা স্বত্বেও তাহাকে বাহির হইতে হইলো। বাহির হইবার মুখে একবার মনস্থ করিল খাদিজা বিবির ইম্পোর্টেড শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চন্দ্রাতপ আঁটা উস্ট্রীখানিকে যাতায়াতের নিমিত্তে লইয়া যাইবে, কিন্তু তাহার কিছু বলিবার আগেই খাদিজা বিবি তাহার হস্তে বসিবার গদিবিহীন পাবলিকা গাধার রজ্জু ধরাইয়া দিল। বনি লুব-ই-কান গোত্রের মরুদ্যানে যাইতে যাইতে এসব কথা ভাবিয়া খাদিজা বিবির চতুর্দশ গুষ্টির পিন্ডি উদ্ধার করিতেছিল সে। কনফিডেনশিয়াল না ঘেচু। উষ্ট্রের গায়ে মর্দন করিবার উত্তম তৈলের একচেটিয়া কারোবার বনি লুবর-ই-কান গোত্রের। সুদূর মেসোপটেমিয়া হইতে আমদানী করা বিশেষ কাস্তারি ব্র্যান্ডের তৈল না হইলে খাদিজা বিবির ইম্পোর্টেড লিমোজিন মডেলের উস্ট্রীর গাত্র কুটকুট করে। তাই ঐ তৈল না হইলে হয় না। কিন্তু এবারের চালানে মক্কার কেন্দ্রীয় চুঙ্গীঘরকে গোপন করিয়া বেশ কিছু মিশরীয় উষ্ট্রী আসিয়াছে। তাই মক্কার মুসক বিভাগ তাহার পিছে পড়িয়া গিয়াছে উপযুক্ত মুসক আদায়ের লক্ষে। কনফিডেনশিয়াল খেজুর পত্রে বনি লুবর-ই-কান গোত্রাধিপতিকে নির্দেশ প্রদান করা আছে যে কয় অ্যাম্ফোরা তৈল খাদিজা বিবি ক্রয় করিয়াছে তাহা যেন কুরাইশ মুসক বিভাগের অ্যাম্ফোরা গনকদিগের এনকোয়ারীতে গোপন রাখা হয়, নইলে তাহারা অ্যাম্ফোরা গুনিয়া উষ্ট্রীর মুসক হিসাব করিয়া ফেলিবে।

 

মোহাম্মক বনি লুবর-ই-কান গোত্রের মরুদ্যানের ইকটবর্তী হইতেই দেখিলো গোত্রাধিপতির তাম্বুর সম্মুখে মুসক বিভাগের চারিখানা উস্ট্র দন্ডায়মান। অ্যাম্ফোরা গনকেরা মোহাম্মকের পূর্বেই আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে। এই অবস্থায় গাত্র ঢাকা দেওয়া ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নাই। খাদিজার খেজুর পত্র তাহাদের হাতে পড়িলে সমূহ বিপদ। কাকা আবু তালিব বিন আব্দুল মুত্তালিবও তাহাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারিবে না। মোহাম্মক গাধা ঘুরাইয়া আবার মক্কাভিমুখে রওয়ানা হইলো, কিন্তু ততোক্ষনে মুসক বিভাগের গনকেরা তাহাকে দেখিয়া ফেলিয়াছে। কিন্তু ততোক্ষনে মোহাম্মকও বেশ দূরে চলিয়া গিয়াছে। কিন্তু তাহার পাবলিকা গনকদিগের রেসিং উস্ট্রের সহিত পারিবে কেন? তাই মোহাম্মক গাধা ঘুরাইয়া নিকটবর্তী পাথরের স্তুপের দিকে ধাবিত হইল। সেই স্থানে পৌঁছাইয়া মোহাম্মক তাড়াতাড়ি তাহার পাবলিকা গাধাটিকে একটি বৃহৎ প্রস্থরের আড়ালে লুকাইয়া নিজে একটি গুহায় গিয়া আত্মগোপন করিল। গনক বাহিনী চলিয়া গেলে সে বাহির হইয়া মক্ষা প্রত্যাবর্তন করিবে। কিয়ৎকাল পরে গনকেরা চলিয়া গেলে মোহাম্মক ধীরে ধীরে গুহা হইতে বাহির হইয়া বোকা গর্ধবটিকে লইয়া মক্কার পথে রওয়ানা হইলো। একে তো কার্য সমাধা হয় নাই, তাহার ওপর পাবলিকা গর্ধবের পৃষ্ঠে কোনরূপ গদি নাই। তাহার পশ্চাদ্দেশে গাধার মেরুদন্ডের ভার্টিব্রা যেন খেজুর বিচির ন্যায় বিঁধিতে লাগিল। গর্ধবের চেনা পথ, তাহাকে পরিচালিত করিবার প্রয়োজন নাই বিধায় মোহাম্মক গাধার পৃষ্ঠে তন্দ্রাচ্ছন্ন হইয়া পড়িল।

 

মক্কার মূল পথে উঠিবার ঠিক পূর্বে একটি ক্ষুদ্র মরুদ্যান পার হইবার সময় হঠাৎ করিয়া একটি খেজুর ঝোপের আড়াল হইতে চারিখানা উষ্ট্র আসিয়া তাহার গতি রোধ করিয়া দাঁড়াইলো। মোহাম্মক চমকিয়া উঠিল, সেই অ্যাম্ফোরা গনকের দল। তাহারা মোহাম্মককে তাহার তুপ (আরবীয় আলখাল্লা) ধরিয়া নামাইয়া মরুদ্যানের অভ্যন্তরে খেজুর পত্রের তৈরি একখানি নড়বড়ে কুটিরে লইয়া গেল। তাহার পর তাহাকে ভুমিতে ভুলুন্ঠিত করিয়া খেজুর পত্রের রজ্জু দ্বারা উত্তম রুপে গ্রন্থিত করিয়া জেরা শুরু করিল, খাদিজা বিবি কয়খানা মিশরীয় উষ্ট্রী ইম্পোর্ট করিয়াছে। মোহাম্মকও বলিবে না, অ্যাম্ফোরা গনকেরাও ছাড়িবে না। প্রহরদেড়েক কাটিয়া যাইবার পরেও তাহারাদিগের প্রধান মোহাম্মকের নিকট হইতে কোন বাক্য উদ্ধার করিতে না পারিয়া শেষে অধস্তন একটি সাকরেদকে নির্দেশ প্রদান করিল যে বাহিরে সবচাউতে বড় যেই ফল পাইবে তাহাই যেন সত্তর লইয়া আসে। অধস্তন গননাকারী কিছুক্ষনের মধ্যেই এক কাঁদি হরিদ্রা রঞ্জিত বৃহৎ খেজুর লইয়া হাজির হইলো। মোহাম্মকের খেজুর দেখিয়াই ক্ষুধা চাগাইয়া উঠিল। যেই সে এই কথা বলিতে যাইবে, অধিপতি বলিল “তুই আবু তালিব বিন মুত্তালিবের ভাতিজা বলিয়া আজ ছাড়িয়া দিতাছি, তথাপি পরবর্তীতে যেন কোনরুপ মুসক দানে অপারগতা প্রকাশ না করিস তাই কিঞ্চিৎ আগাম সতর্কবার্তা দিয়া ছাড়িয়া দিতাছি”। তাহার পর চার ষন্ডা মিলিয়া আল্লার পেয়ারা নবীর কে উপুর করিয়া তুপ তুলিয়া একটা একটা খেজুর ভড়িতে শুরু করিল। মোহাম্মক খেজুর গ্রহনের তীব্র বেদনায় আর্তনাদ করিয়া উঠিল, তাহার পর সে অনুধাবন করিল যে সে আসলে তাহার পাবলিকার পৃষ্ঠে তন্দ্রার ঘোরে দুঃসপ্ন দেখিয়াছে, আর তাহার গৃদ্ধ্রের ভার্টিব্রা তাহার পশ্চাদ্দেশে শক্ত খেজুরের ন্যায় খোঁচা মারিয়া যাইতেছে অনবরত।

 

তন্দ্রা ভাঙ্গিয়া দুঃস্বপ্ন উপলব্ধি করিবার পরপরই সে দেখিল সে গৃহের সম্মুখে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে। তড়িঘড়ি করিয়া পাবলিকা হইতে অবতরন করিয়া অসার পশ্চাদ্দেশে হাত বুলাইতে বুলাইতে ভাবিল তাহার নসিবখানা নিতান্তই প্রসন্য যে সে আরব ভূমিতে জন্মিয়াছে। নচেৎ বাঙ্গালদেশের কাঁঠাল, দাক্ষিণাত্যের নারকেল বা নিদেন পক্ষে পারস্যের আখরোট গ্রহন করতঃতাহার রেকটামের দ্বাদশ ঘটিকা বাজিয়া যাইতো। তাই সে আরব ভূমিতে জন্মগ্রহনের নিমিত্তে আল্লাকে শুক্রাণু থুড়ি শুক্রিয়া আদায় করিয়া মুচকি মুচুকি হাসিয়া ফেলিল। ঠিক এই সময় আবু-বকরী একঝুড়ি হরিদ্রা রঞ্জিত বৃহৎ খেজুর লইয়া খাদিজা বিবির গৃহদ্বারে আসিয়া উপস্থিত হইলো, উপরন্তু মোহাম্মককে আল্লার কাছে শুক্রিয়া আদায় অবস্থায় আবিষ্কার করিল। মোহাম্মকের শুক্রিয়া আদায় সমাপ্ত হইলে সে জিজ্ঞাসা করিল “হে রাসুলে খোদা, এই শুক্রিয়া আদায়ের নিমিত্ত সম্পর্কে কি আমি জ্ঞাত হইতে পারি?” রাসুলে খোদা তাহার দিকে ফিরিয়া হস্তের ঝুড়িটির দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া মৃদু হাস্যে বলিল “ইয়া আবু বকরী, তুমি নিশ্চই আল্লার শুক্রিয়া আদায় করো, কারন তুমি জান না আল্লা তোমাদিগের জন্য রমজানের ইফতারিতে কি তিনখানা বস্তু নেয়ামত স্বরূপ পাঠাইয়াছে”,


বকরী সুধাইলো “কি সেই তিনখানা বস্তু খোদাবন্দ?”
মোহাম্মক রিপ্লাই করিল “তাহার প্রথমটি হইলো খেজুর কাঁঠাল নয়, বল আলহামদুলিল্লা”
বকরি বলিল “আলহামদুলিল্লা”
“দ্বিতীয়টি হইলো খেজুর নারিকেল নয়, বলো আলহামদুলিল্লা”
বকরি বলিল “আলহামদুলিল্লা”
তৃতীয়টি হলো খেজুর আখরোট নয় , বলো আলহামদুলিল্লা”
বকরি বলিল “আলহামদুলিল্লা”


এই বলিয়া মোহাম্মক আবু বকরীর নিকট হইতে খেজুর পূর্ণ ঝুড়িখানা হস্তগত করিয়া গৃহাভ্যন্তরে অন্তর্নিহিত হইলো আর বকরী আল্লা ও তার রাসুলের গুনেমুগ্ধ হইয়া এই আশ্চর্য সুসংবাদ তামাম জাহানের মুসলমানদিগের নিকট পৌঁছাইয়া দিতে বাহির হইয়া পড়িল!

   
 

 

 

ভিজিটর অনলাইন

আমাদের সাথে আছে 354 অতিথি অনলাইন
চট্টগ্রাম শহর ও উপেজলা পর্যায়ে সংবাদদাতা আবশ্যক   ইমেইল করুন : news@ukbdnews.com
ইউরোপের বাঙালী অধ্যুষিত শহরগুলোতে সংবাদদাতা আবশ্যক।   ইমেইল করুন : news@ukbdnews.com
সৌদিআরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিনিধি আবশ্যক।   ইমেইল করুন : news@ukbdnews.com
Please visit www.ukbdnews.com   বৃটেনে আমরাই প্রথম; আমরাই শীর্ষে
লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা নিউজ এর জন্য চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান আবশ্যক।   ইমেইল করুন : news@weeklybanglanews.com
   
   
   
   
   
feedback