চার সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

0

কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া স্থাপনা ভাঙার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ না হওয়ায় চার সচিবসহ ১১ জনের প্রতি আদালত অবমাননার রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি নিয়ে এ রুল দেন। গত রবিবার এ আবেদনটি করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।

যে ১১ জনের বিরুদ্ধে রুল দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন- পরিবেশ ও বন সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, নৌ পরিবহন সচিব, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

আদালতে এদিন ওই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ও সাইদ আহমেদ কবির।

পরে আইনজীবী সাইদ আহমেদ কবির সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৭ সালে কোস্টাল অ্যান্ড ওয়েটল্যান্ড বায়োডারভার্সিটি ম্যানেজম্যান্ট প্রোজেক্টের (সিডব্লিউবিএমপি) এক জরিপে দেখা যায়, সেন্টমার্টিন্সে ৭৪টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। ওই জরিপের প্রেক্ষিতে এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে বেলার পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। সেই রিটের শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২৪ অক্টেবার আদালত রায় দেয়। রায়ে সেন্টমার্টিন্সের পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ছাড়পত্রহীন স্থাপনা অপসারণ করতে বলা হয়। সেইসঙ্গে ছাড়পত্রহীন নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করা ও বিরল প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ারও নির্দেশ আসে হাইকোর্টের ওই রায়ে।

আদালতের এ নির্দেশনা থাকার পরও সেন্ট মার্টিনসে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকায় থাকা হোটেল, মোটেলসহ অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি, বরং এসব স্থাপনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে জানিয়ে বেলার পক্ষ থেকে দুই দিন আগে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার এই আবেদন করা হয় বলে জানান আইনজীবী সাইদ।

Share.

Leave A Reply