ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান

0

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক :: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, অথচ দিনের বেশিরভাগ সময়ই ব্যয় করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভাগের চেয়ারম্যান, সিনিয়র অধ্যাপক, পরামর্শক, অতিথি শিক্ষক নানা নামেই তিনি সেখানে পরিচিত। অথচ ওই শিক্ষক নিজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ফাঁকি দেন। আবার কেউ কেউ ‘কোনো মতে’ ক্লাসে উপস্থিত থাকার পরই বেরিয়ে পড়েন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে, অর্থ আয় বৃদ্ধির জন্য। এ কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের বাইরে কোনো পরামর্শ পান না, বিপাকে পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয় তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেছে। ইউজিসি সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ যেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করতে পারেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে।

ইউজিসি বলছে, স্বাভাবিক অবস্থায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি একাডেমিক সেশনে অর্থাত্ প্রতিবছর ৩০-৩২ সপ্তাহ ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় এবং বাকি সময় ছুটি থাকে। ক্লাস নেওয়া ব্যতীত অন্যান্য কাজের জন্য যেমন-গবেষণা, প্রশাসন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ইত্যাদির জন্য কত সময় একজন শিক্ষককে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে এই সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান না থাকায় অনেক শিক্ষকই বেশিরভাগ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অনেক বিশ্ববিদ্যলয়ে ক্লাসরুমসহ শিক্ষকদের অফিসকক্ষ দুপুরের পর তালাবদ্ধ থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী সমাজ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে শিক্ষকদের সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে। ইউজিসির এই প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে।

জসিমউদ্দিন নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার উত্তরপত্র বিলম্বে মূল্যায়ন করার অভিযোগ রয়েছে এবং এর ফলে পরীক্ষার ফল নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে না। তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে অন্যকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কত সময় বা কি পরিমাণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন সেই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ইউজিসি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, শিক্ষকদের দায়িত্ব প্রতিপালন এবং সার্বিক আচরণের উপর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও এর যথাযথ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার ।

দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ শিক্ষক খণ্ডকালীন। আর খণ্ডকালীনদের একটি বড় অংশ আসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অথচ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে একটি নীতিমালা করেছি। একজন শিক্ষক বাইরের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পারবেন।

ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে বেশি কাজ করছেন।

Share.

Leave A Reply