বঙ্গবন্ধু কন্যাদের নাম ব্যবহার করে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

0

বিশেষ প্রতিবেদক : ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর সাথে সরকারের দূরত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপি-জামাত যখন ব্যস্ত বিরামহীন লবিংয়ে, ঠিক তখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ শাখাগুলো প্রতিনিয়তই হচ্ছে দ্বিধা বিভক্ত। আর এক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দলকে এগিয়ে নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। শুধু ব্যর্থতাই নয়, বিবাদমান গ্রুপগুলোর একটি পক্ষের হয়ে স্বেচ্ছাচারি ভূমিকা নিয়ে বিবাদের আগুনে আরও ঘি ঢালছেন সংগঠনটির ইউরোপীয় সাধারণ সম্পাদক –  এমনই অভিযোগ তুলেছেন খোদ দলটির নেতাকর্মীরা। ডেনমার্ক,  গ্রীস, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগ দ্বিধা বিভক্ত থাকলেও এদের ঐক্যবদ্ধ না করে দলীয় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই এক গ্রুপকে সীল ও স্বাক্ষর দিয়ে অনুমোদন দিয়ে সাধারণ সম্পাদক এম এ গণি বিভক্তি আগুনে ঘি ঢালছেন এমন অভিযোগ নেতাকর্মীদের অনেকে। এক্ষেত্রে সভাপতি অনিল দাশগুপ্ত বা ইউরোপীয়ান কমিটির আর কারো মতামত নেয়ারই প্রয়োজন মনে করছেন না তিনি। সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তাঁর স্বেচ্ছাচারিতাকে বৈধতা দিতে অহরহ তিনি ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকার ও দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকা লন্ডনে বসবাসরত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার নাম।

সম্প্রতি সুইডেন আওয়ামী লীগের একটি সফল সম্মেলনও এখন অকার্যকর হওয়ার পথে সাধারণ সম্পাদক এম এ গনির স্বেচ্ছাচারিতার কারনে – এমন অভিযোগ তুলেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে সাধারণ সম্পাদকের এই ধরণের স্বেচ্ছাচারি কর্মকান্ডের শক্ত বিরোধিতা করছেন না বলে তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে ইউরোপীয়ান দেশভুক্ত বিভিন্ন দেশের নেতাকর্মীদের।

European_1

গত ১৩ই মার্চ অনুষ্ঠিত হয় সুইডেন আওয়ামী লীগের সম্মেলন। স্টকহোমে হলভর্তি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মলনের আগের দিন একটি রেষ্টুরেন্টে দলের দুই গ্রুপকে সাথে নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত ও সাধারন সম্পাদক এম এ গনি উভয় গ্রুপের সমন্বয়ে একটি কমিটি করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌছেন। কিন্তু সমঝোতার শর্তানুযায়ী সম্মেলনের দিন কমিটি ঘোষণার শুরুতে ইউরোপীয়ান সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফরহাদ আলী খানের নাম ঘোষণা করলে ফরহাদের সমর্থক একটি গ্রুপ ফরহাদকে সভাপতি দাবি করে স্লোগান দিতে থাকে। কিন্তু ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা অনিল দাশ গুপ্ত ও এম এ গনি ফরহাদকে সাধারন সম্পাদক ও জাহাঙ্গীর কবিরকে সভাপতি আগের দিনের এই সমঝোতা সিদ্ধান্তে অটল থেকেই সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। এর আগে সম্মেলন হলের মঞ্চে দুই নেতা হাত ধরাধরি করে একটি ঐক্যবদ্ধ কমিটির পক্ষে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথাও জানান। হোটেলে ফিরে দুই নেতা ঐসময় আগের দিনের সমঝোতা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়ায় ফরহাদ সমর্থকদের তীব্র সমালোচনা করে সমঝোতা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত কমিটির পক্ষে নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান লন্ডন থেকে যাওয়া দুই সাংবাদিককে। এরপর বেশ কয়দিন চলে দুই গ্রুপের ফেইসবুক প্রোপাগান্ডা। সম্প্রতি হঠাৎ করে সুইডেন আওয়ামী লীগের নতুন আহবায়ক কমিটি গঠনের একটি খবর ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আবার শুরু হয় উত্তেজনা। এম এ গনি এই কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন এমন খবরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নিজে উপস্থিত থেকে যে সম্মেলন করে আসলেন তিনি, সেই সম্মেলন অগ্রাহ্য করে আবার কিভাবে নতুন আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেন বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গেলে বেরিয়ে আসে ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের পদ পদবী ব্যবহার করে স্বেচ্ছাচারিতার সীমাহীন অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্মেলনে ফরহাদকে সভাপতি দাবি করে তোলা সমর্থকদের স্লোগান ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত। সমঝোতা বৈঠকের সিদ্ধান্ত পুরোটা নিজ পছন্দের ফরহাদ প্যানেলের পক্ষে আনতে না পারায় সম্মেলন অনুষ্ঠানে নাম ঘোষনার সাথে সাথে ‘মানি না’ দাবি তোলার পরামর্শ এম এ গনি নিজেই দিয়ে আসেন ফরহাদ সমর্থকদের, অনুসন্ধানে এমনটিই জানা যায়। সম্মেলন ভন্ডুল হলে ফরহাদ প্যানেলের সবাইকে নিয়ে তিনি লন্ডনে বসে একটি কমিটি অনুমোদন দিয়ে দেবেন, এমন আশ্বাস দেন তিনি ফরহাদ সমর্থকদের। কিন্তু সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফরহাদের নাম ঘোষণার পর যখন তাঁর সমর্থকদের একটি গ্রুপের পক্ষ থেকে ফরহাদকে সভাপতি ঘোষণার দাবি ওঠে, তখন আগের দিনের সমঝোতা’র বিরোধিতা করায় কঠোর হয়ে ওঠেন সম্মেলনের প্রধান অতিথি অনিল দাশ গুপ্ত। সমাঝোতা সিদ্ধান্ত মতে বিবাদমান এক গ্রুপ থেকে জাহাঙ্গির কবিরকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্য গ্রুপের ফরহাদের বিষয়েই অটল থাকেন অনিল দাশ। বাধ্য হয়ে সাধারণ সম্পাদক এম এ গণিও এই বিষয়ে নিজের কঠোরতা দেখান এবং হোটেল লবিতে এসে লন্ডন থেকে যাওয়া দুই সাংবাদিককে বলেন, ‘জাহাঙ্গির সভাপতি ও ফরহাদ সাধারণ সম্পাদক, সমঝোতা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটিই হলো নতুন কমিটি’। কিন্তু লন্ডন আসার কয়দিন পর হঠাৎ করে এম এ গণি ফরহাদকে সুইডেন থেকে ডেকে এনে লন্ডনে বসে স্টাম্প স্বাক্ষর দিয়ে একটি আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়ে দেন। ফরহাদ সমর্থকরা এম এ গণি সীল ও স্বাক্ষর দিয়ে নতুন আহবায়ক অনুমোদন দিচ্ছেন এমন একটি ছবি প্রচার করলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। লন্ডনে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খানের সাথে এম এ গণির একটি ছবি পোষ্ট দিয়ে প্রচার করা হয় যে ফারুক খানও নতুন আহবায়ক কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন। এই ঘটনা প্রচার হওয়ার পর নিজের ঘোষণা করা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ইউরোপীয় সাধারণ সম্পাদক আবার আরেকটি আহবায়ক কমিটি কিভাবে ঘোষণা দেন এনিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। এ বিষয়ে ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাশ গুপ্তকে জিজ্ঞেস করলে তিনি পরিষ্কার ভাষায় এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমি ও সাধারণ সম্পাদক এম এ গণি নিজে উপস্থিত থেকে দুই পক্ষের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতা করে সুইডেন আওয়ামী লীগের যে কমিটি ঘোষণা দিয়ে আসলাম, আমিসহ ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের আর কারো সাথে কোন পরামর্শ না করে সাধারণ সম্পাদক এম এ গণি সেই কমিটিকে পাশ কাটিয়ে আরেকটি আহবায়ক কমিটি কিভাবে অনুমোদন দেন আমি জানি না।
এ বিষয়ে বারবার এম এ গণির সাথে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি তাঁর টেলিফোন রিসিভ করছেন না এমন অভিযোগ করেন অনিল দাশ গুপ্ত।

সুইডেন আওয়ামী লীগের কোন কমিটি এখন বৈধ, এমনটি জানতে চাইলে ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি অনিল দাস বলেন, দুই গ্রুপের সমন্বয়ে সমঝোতার মাধ্যেমে সম্মেলনে আমি ও সাধারণ সম্পাদক যে কমিটি করে দিয়ে এসেছি অবশ্যই সেটি। এই কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গির আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলী খান।

সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনিত স্বেচ্ছাচারি কর্মকান্ডের শক্ত বিরোধীতা তিনি করছেন না, কোন কোন নেতাকর্মীর এই অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য জানতে চাইলে সভাপতি অনিল দাসগুপ্ত বলেন, ২০০১ সালে ইউরোপে দলকে সংগঠিত করতে নেত্রী ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগ গঠন করে দিয়েছিলেন। আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যদি শুধু পরষ্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়িতেই লিপ্ত থাকি তাহলে দল তো সংগঠিত হবেই না, উপরন্তু এটি হবে নেত্রীর প্রতি অপমান। এটি আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে।

এদিকে, সম্মেলনে একটি কমিটি ঘোষণা দেয়ার পরও আরেকটি আহবায়ক কমিটি কিভাবে তিনি অনুমোদন দেন সাধারণ সম্পাদক এম গণির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ সম্মেলন গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনে হয় নি, তাই কর্মীরা আমাদের কমিটি ঘোষণা মানে নি। তাই নতুন এই আহবায়ক কমিটি। আগের রাতে দুই পক্ষকে নিয়ে সমাঝোতায় পৌছেই তো কমিটি গঠন করলেন, এমনটি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ফরহাদ সভাপতি ও রানাকে (ফরহাদ গ্রুপের) সাধারণ সম্পাদক করে আমি ও সভাপতি কমিটি তৈরী করেছিলাম, কিন্তু সম্মেলনের দিন সকালে সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত তাঁর এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে গিয়ে জাহাঙ্গির কবিরকে সভাপতি করতে বলেল জটিলতার সৃষ্টি হয়। এম এ গণির এমন তথ্যকে অবশ্য মিথ্যে, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত।

তিনি বলেন, এক গ্রুপ থেকে জাহাঙ্গির কবির সভাপতি ও অন্য গ্রুপ থেকে ফরহাদ আলী খান সাধারণ সম্পাদক এমনভাবেই সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি তৈরী করেছিলাম আমরা। দুই গ্রুপ দলের স্বার্থে আমি ও এম এ গণির সিদ্ধান্ত মেনে নেবে বলে আমাদের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলো। একই গ্রুপের ফরহাদ সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক করতে হলে তো আর সমঝোতার দরকার হয় না, ঐক্যবদ্ধ কমিটিও হয় না।

অনিল দাশ গুপ্ত বলেন, সম্মেলনে এম এ গণি প্রথমেই ফরহাদের নাম সাধারণ হিসেবে ঘোষণা করলে জাহাঙ্গির কবিরের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ তো হাততালি দিয়ে তা স্বাগত জানায়, কিন্তু বিরোধীতা করে ফরহাদ সমর্থক গ্রুপ।

সভাপতি সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়াই যদি জটিলতার কারণ হয় তাহলে আপনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আগে কেন ফরহাদের নাম ঘোষণা করলেন বা সম্মেলন যদি গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনে না হয়ে থাকে তবে ঐসময় সম্মেলন বাতিল ঘোষণা কেন করলেন না, এম এ গণির কাছে এমনটি জানতে চাইলে এর পরিষ্কার কোন উত্তর না দিয়ে পুরো ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্য, জাপান ও চিনেও দল দেখাশোনার দায়িত্ব স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে দিয়েছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান এম এ গণি।

সুইডেনের নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণার আগে সভাপতি অনিল দাশ গুপ্তের সাথে পরামর্শ করেছিলেন কি না, এমন প্রশ্ন করলে এম এ গণি বলেণ, তিনি সবকিছুই জানেন।

তিনি তো বললেন কিছুই জানেন না, পাল্টা এমন প্রশ্ন করলে এম এ গণি বলেন তিনি সবকিছুই জানেন, দলের কাজ শুধু করতে হয় আমাকে। এ সময় আবারও প্রধানমন্ত্রী’র নির্দেশে তিনি দল দেখাশোনা করছেন বলে স্মরণ করিয়ে দেন এ প্রতিবেদককে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করে এক গ্রুপকে তিনি মদদ দিচ্ছেন, সভাপতিসহ ইউরোপীয় কমিটির কারো সাথে পরামর্শ না করে নিজ ইচ্ছেমত অনুমোদন দিচ্ছেন নতুন নতুন কমিটি আর এসব কর্মকান্ডের বৈধতা প্রমান করতে বারবার ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার নাম তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এম এ গণি বলেন, দলের স্বার্থে নিয়ম মেনেই আমি সবকিছু করছি। বঙ্গবন্ধু কন্যাদের নাম ব্যবহারের বিষয়টি এড়িয়ে যান ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সুইডেন আওয়ামী লীগের নতুন আহবায়ক কমিটি অনুমোদন সম্পর্কে জানতে দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খানের সাথে যোগাযোগ করা না গেলেও ফারুক খানের সাথে ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায় সুইডেনের নতুন আহবায়ক কমিটির বিষয়ে ফারুক খান কিছুই জানেন না বলে ঐ সূত্রকে জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযোগ উঠেছে শুধু সুইডেন নয়, স্টোকহোমে বসেই এম এ গণি সীল ও স্বাক্ষর দিয়ে অনুমোদন দিয়েছেন গ্রীস আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের কমিটিকে।

অভিযোগে জানা যায়, বেলজিয়াম, ডেনমার্কসহ আরও কয়েকটি দেশেও এম এ গণি ঠিক একই পন্থায় নিজের পছন্দের গ্রুপকে অনুমোদন দিয়েছেন সভাপতির মতামতের কোন তোয়াক্কা না করেই। এক্ষেত্রে, তাঁর প্রতিনিধি পরিচয়ে কাজ করছেন ইউরোপীয়ান দেশভুক্ত একটি দেশে বসবাসরত একজন দলীয় কর্মী, যিনি এম এ গণির অনুমোদন পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্নভাবে ফায়দা নিচ্ছেন বিবাদমান গ্রুপগুলোর কাছ থেকে। এম এ গণির এসব স্বেচ্ছাতারিতা নিয়ে যখনই কেউ প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করছেন, তখনই তিনি দোহাই দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যাদের। বলছেন, যা করছেন তিনি তা সব বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নির্দেশে। রাষ্ট্রীয় কাজ নিয়ে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী এবং দল ও সরকার থেকে দূরে থাকা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার নাম ব্যবহার করে এম এ গণির এমন সীমাহীন স্বেচ্ছাতারিতায় ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারন নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই দলীয় কর্মকান্ডে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, আবার কেউ কেউ পাল্টা কমিটি করে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্রমাগত দলের এমন বিভক্তিতে হতাশ নেতাকর্মীরা ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে দেয়ার দাবি তুলেছেন দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। তাদের দাবি প্রতিটি দেশের আওয়ামী লীগ শাখাকে জেলা কমিটির মর্যাদা দিয়ে সরাসরি কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হোক। ইউরোপে দল বাঁচাতে বঙ্গবন্ধু কন্যাদের নাম ব্যবহার এবং ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের পদ পদবী ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বিশেষের ফায়দা হাসিল বন্ধে প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন এমনটাই তাদের আশা।

উল্লেখ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দলকে শক্তিশালী করতে প্রবীন নেতা অনিল দাশ গুপ্তকে সভাপতি করে ২০০১ সালে প্যারিসে বসে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগ গঠন করেন। পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনিত করা হয় এম এ গণিকে। ১/১১ এর তত্বাবধাযক সরকার বিরোধী আন্দোলনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগকে ব্যাপক তৎপর দেখা গেলেও নিজেদের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে বর্তমান সরকারের দুই আমলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অব্যাহত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাদের কোন কর্মসূচী খুব একটা দৃশ্যমান ছিলোনা। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশেই দলের বিবাদমান দুই গ্রুপ নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়িতেই সময় পার করছে।

Share.

Leave A Reply