পুলিশি সহায়তা পাচ্ছেন না ম্যাজিস্ট্রেটরা

0

ন্যাশনাল ডেস্ক :: নির্বাচনী অপরাধ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনায় পুলিশি সহায়তা (স্কট) পাচ্ছেন না রাজশাহীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা। পুলিশি সহায়তা না দেয়ার বিষয়টি পুলিশ সুপার রাজশাহী কার্যালয়ে ২৪ ডিসেম্বর ৭০১৫/২৮-৯৯ নম্বর স্মারকে জানানো হয়েছে।

এতে করে আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ম্যাজিস্ট্রেটরা। তাই রাজশাহী পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন বিচারক মো. ছানাউল্ল্যাহ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী অপরাধ সংক্রান্ত বিচার আদালত পরিচালনার জন্য রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের ৭ জনসহ মোট ১২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিয়োগ দেয়া হয়।

এরই অংশ হিসেবে বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার জন্য রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত সংখ্যক অস্ত্রধারী পুলিশের চাহিদাপত্র গত ২২ ডিসেম্বর পাঠান পুলিশ সুপার রাজশাহী বরাবর।

চাহিদাপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের কার্যালয় হতে জানানো হয়, নির্বাচনীর বিভিন্ন দায়িত্বে ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের বিদ্যমান জনবল হতে ৭০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পুলিশের সংকুলান না হওয়ায় অন্য জেলা হতে আরো পুলিশ মোতায়েনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, জেলা পুলিশ লাইন্সে বাড়তি জনবল না থাকায় স্বাভাবিক কাজ কর্মে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য জেলা সদর হতে কোনো পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ সুপারের এই পরিপত্রের প্রেক্ষিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহ সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব বরাবর রাজশাহী পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ফ্যাক্সযোগে অভিযোগ জানিয়েছেন।

যাতে বলা হয়েছে, পুলিশি সহযোগিতা ব্যতীত নির্বাচনী অপরাধ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা সম্ভব নয়। আদালত পরিচালনা ও নিরাপত্তার স্বার্থে চাহিদা মোতাবেক পুলিশ ফোর্স নিয়োগ করা পুলিশ সুপারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তা না করে সরকারি কাজে অসহযোগিতা করার মানসিকতা পোষণ করেছেন। যা পক্ষান্তরে সরকারি কাজে বাধাদানের সামিল।

অথচ অভিযোগকারি নির্বাচনী অপরাধ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত এবং আইন অনুসারে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী দায়িত্বে কমিশনের অধীনন্যস্ত যেকোনো কর্মকর্তাকে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দিতে বাধ্য।

কিন্তু এ সত্ত্বেও তিনি তা না করে নির্বাচনী আইনের সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান লঙ্ঘন করেছেন এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারকদের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন এবং বিচারকার্য পরিচালনা দুরুহ হয়ে পড়েছে। তাই রাজশাহী জেলা পুরিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার নিশারুল আরিফ জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুই জনকে কনস্টেবল দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের জনবল সঙ্কট থাকার কারণে পুলিশ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা নির্বাচনী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে ওই এলাকার দায়িত্বে থাকার পুলিশের সব ধরনের সহযোগিতা পাবেন।

Share.

Leave A Reply