রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা

0

32594e68c1adbfb130dd542307971236_XLন্যাশনাল ডেস্ক :: যৌন হয়রানি ও মারধরের অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ছাত্রী। মামলার পরই আসামীদের হাতে যৌন নির্যাতনের আশঙ্কায় ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষাথী উম্মে কুলসুম হাবিবা বাদি হয়ে রংপুরের কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন-  পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাওন আহমেদ শুভ ও আদনান আলী, গণিত বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম জয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ৫ ও সাধারণ সম্পাদক ৬ নম্বার আসামি বলে জানা গেছে।

মামলার বাদি অভিযোগ করেন, “গত ৪-৫ মাস পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী (১ নং আসামী) শাওন আহমেদ শুভ আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। আমি আসামির প্রস্তাবে রাজি না হইলে সে আমাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতে থাকে। তথাপি আমি বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ফলে ৪-৫ দিন পূর্ব হতে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাস্তাপথে দেখিলে আরো বেশি উত্যক্তসহ আমাকে এসিড মারার হুমকি ও বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদান করে। আমি আসামির উত্যক্ত সহ্য করতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী রাজ ও হাদিউজ্জামানকে অবগত করি। গত ২৪-০৮-১৫ ইং তারিখে বিকেল ৩ টায় ক্লাস শেষে মেসে ফেরার পথে উক্ত আসামিসহ তার সহযোগী (২ নং আসামি) পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আদনান আলী ও (৩ নং আসামি) গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শামীমসহ ৬ থেকে ৭ জনকে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখে বিশ্ববিদ্যালযের বড়ভাই মোহাম্মদ আলী রাজ ও হাদিউজ্জামানকে জানালে তারা এগিয়ে আসলে উভয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৪-০৮-১৫ তারিখ সন্ধ্যা ৭ টায় উপোরোক্ত আসামিগণসহ (৪নং আসামি) ইংরেজি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শিশির, (৫নং আসামি) হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা মাহমুদ হাসান, (৬ নং আসামি) বাংলা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলামসহ ১০ থেকে ১২ জন লাঠিসোটা ও ধোরালো দেশীয় অস্ত্রসহ সর্দারপাড়া সাগর প্যালেস ছাত্রবাসে প্রবেশ করে মোহাম্মদ আলী রাজ, হাদিউজ্জামান ও তিতাস চন্দ্র রায়দের রুমের দরজা ভেঙ্গে হত্যার উদ্দেশ্যে চোট মারতে থাকে। এতে মোহাম্মদ আলী রাজ মাথায়, দুই বাহুতে, পিঠে ও বাম পায়ের হাঁটুতে এবং তিতাস চন্দ্র রায় মাথায়, কপালে চোঠ পেয়ে গুরুত্বও আহত হন। আমি বিষয়টি আমার অভিভাবকদের জানালে তারা রংপুরে আসলে তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে থানায় এসে অত্র এজাহার দায়ের করলাম।”

এদিকে, বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা হাসান মাহামুদ যৌন হয়রানির বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, বেরোবি ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা হাদি নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য এসব করছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Share.

Leave A Reply