ইউরোপ আওয়ামী লীগে এক অবিসংবাদিত নেতা শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত এর জন্মদিনে শুভেচ্ছা

0

picture

১৫ মে , ২০১৬- আজ সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত এর জন্মদিন।  জন্মদিনে নিরন্তর শুভেচ্ছা। যার নামের আগে কোন বিশেষণ লাগে না ,যিনি ইউরোপে নিজ নামেই খ্যাত তিনিই হচ্ছেন আমাদের প্রিয় দাদা শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত। অসাধারণ বিনয়ী ,মিষ্ট ভাষী , নির্মোহ ও সজ্জন মানুষের আইডল হচ্ছেন আমাদের প্রিয় শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত। ইউরোপ আওয়ামী লীগের দুই কর্ণধার শ্রী অনিল দাশগুপ্ত ও এম ,এ ,গনি সম্মিলিত ভাবে ইউরোপে আওয়ামী লীগের ভিতকে শক্ত করেছেন অনেক কষ্ট করে। তাদের উভযের সম্মিলিত কষ্টের জন্য আজ ইউরোপ জুড়ে প্রবাসী আওয়ামী লীগের খ্যাতি।  রাজনৈতিক সচেতন পরিবারে  আমার বেড়ে উঠা , তাই শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত ও এম এ গনি এর নাম শুনেছি সেই মেডিকেল জীবনে ছাত্র অবস্থায়। শ্রী অনিল দাশ  গুপ্ত এর সাথে আমার প্রথম দেখাটা এখনো আমার স্মৃতিপটে অমলিন।  ১৯৯৪ সালে একদিন সন্ধ্যায় আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা এর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিয়েতে আমাদের প্রিয় দাদা এর সাথে দেখা হয়।  তত্কালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী আর আমার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ার সুবাধে    পুতুলের বিয়ের স্টেজ সাজানোর চারুকলা ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগ এর সাথে আমার ও থাকার সুযোগ হয়েছিল।  উল্লেখ সেই সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রথম বর্ষের ছাত্র  ছিলাম। রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপি সেইসময়।  সেইদিন গুলুতে প্রথম বর্ষ থকে অনেক কষ্ট করে আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ এর ঝান্ডা উড়িয়েছি। সংগঠন প্রাণ কর্মী ছিলাম বলে আমার পরিচিত ছিল।  ছাত্রদল এর সাথে সাংগঠনিক বিরোধের জের ধরে গন্ডগোলের পর আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার ২৯ মিন্টু রোড  বাসায় এসে সকালের নাস্তা করার স্মৃতি মনে পড়ে।  ২৯ মিনটু রোডে বাসার চারিদিকে অনেক কাঠাল গাছ ছিল এবং তাতে অনেক কাঠাল ও ছিল।  একদিন আমরা বললাম আমরা কাঠাল নিয়ে যাব। আমাদের প্রিয় নেত্রী (আপা বলেই ডাকতাম) সাথে সাথে বলল যা পারিস নিয়ে যা।  আমরা ভ্যান এ করে অনেক কাঠাল নিয়ে এসেছিলাম।  সেইসময় নিতান্ত কর্মী ও নেতাদের সম্পর্ক এত হৃদ্যতা পূর্ণ ছিল, যা বলার অপেক্ষা  রাখে না। তাই তো প্রথম বর্ষে থাকলেও সায়মা  ওয়াজেদ পুতুলের বিয়েতে , শুভেচ্ছা উপহার কেউ নিয়ে আসলে গুছিয়ে রাখার দায়িত্বে ছিলাম অনেকের সাথে। একসময় সুদর্শন এক যুবক ( ৩২ বছর আগে ) সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট এর অপূর্ব সমন্নয়ে বিশাল এক ফ্লাওয়ার বাস্কেট নিয়ে আসলো।  সবার মাঝে চৌকস জাগানো মানুষটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো।  আমি  জিজ্ঞাসা করলাম তিনি কে।  তিনি আর কেও ছিলেন না , তিনিই আমাদের প্রিয় দাদা শ্রী অনিল দাশ  গুপ্ত।  আজো দাদার সাথে দেখা হলে সেই দিনের কথা স্মরন করি।  এর পরে সুইডেন এ  পড়ালেখা করতে আসার সুবাধে ২০০৯ সালে সুইডেন এর স্টক হোম প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এর সফরের সময় প্রিয় দাদার সাথে দেখা হয়।  এর পর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।  আমার খুব মনে  পড়ে ২০১০ সালে আমার বড় সন্তান অন্তলীন জন্ম এর একদিন পর নিজে ফোন করে সন্তান এর খবর নেওয়া এর বিষয়টি।  আমার নম্বর সংগ্রহ  করে আমার মত একজন ক্ষুদ্র কর্মীর পরিবারের খবর  নেওয়া বিশাল কিছু। রাজনৈতিক সচেতন  বলেই ইউরোপ জুড়ে একজন নি স্বার্থ কর্মীর মত  কাজ করি বলেই দাদা এর সাথে সম্পর্ক হয়েছে আরো সুসংহত। তাইতো আমাদের প্রিয় দাদা আস্থা রেখেছেন আমার উপর ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করে।  নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি ডেনমার্ক  আওয়ামী  লীগ কে সুসংহত করতে। স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালে জার্মান থেকে ও মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসে সংগঠক হয়ে শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত কাজ করেছেন।  ১৯৭৫ সালে জাতির জনক কে হত্যার সময় আমাদের জাতির জনকের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা  (আপা), জার্মানিতে অবস্থা করতেন।   জাতির জনক কে হত্যার পর যখন কোন বাঙালি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আমাদের জাতির জনকের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা  (আপা ) থেকে দুরুত্ব বজায় রাখছেন তখন আমাদের প্রিয় দাদা পাশে থেকে সাহস যুগিয়েছেন।  সেই ইতিহাসের কথা সর্বজন বিদিত।এ ছাড়া ১/১১ পরবর্তী  ইউরোপের দুইনেতা শ্রী অনিল  দাশ গুপ্ত ও এম এ গনি  ইউরোপ জুড়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলন কে তরান্নিত করেছেন প্রবাসে আওয়ামী লীগের মাধ্যমে  মানববন্দন ও স্মারক লিপি এর মাধমে বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।  আমাদের প্রিয় দুই নেতা  অনিল দাশ  গুপ্ত ও এম এ  গনি এখনো আমাদের প্রিয় নেত্রী ,জননেত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপ আসলে সব কিছু বাদ দিয়ে ছুটে যান।  কেননা তারা জানেন বাংলা ও বাঙালির শেষ আশ্রয়, জাতির জনকের দুই কন্যা। রাজনৈতিক পটভুমির কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  এর জীবন সবসময় ঝুকিপূর্ণ। এখনো ইউরোপের দেশ থেকে দেশে ছুটে যাচ্ছেন দুই নেতা  আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে।  এর পরে বর্ণচোরা , মুখোশধারী , অন্য  দলের এজেন্ট  আওয়ামী লীগকে দুর্বল করে দিতে চায়।  আওয়ামী লীগের অন্তপ্রাণ নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও কুত্সা রটিয়ে  সংগঠন কে দুর্বল করে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আমরা জানি তারা চেষ্ঠা করবেই।  বিএনপি জামাত চক্র প্রিয় নেত্রীকে হত্যার জন্য ২১ বার চেষ্টা করেছে।  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মত জঘন্য কাজ করে অনেক  নেতা কর্মী হত্যা করেছে কিন্তু মূল টার্গেট আমাদের নেত্রীকে পারেনি।  দেশে সম্ভব  হবে না বলেই এখন বিদেশে বিএনপি জামাত চক্র ইস্রাইলি এজেন্ট মোসাদ এর ধারস্থ হয়েছে। তাই প্রবাসে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব এখন আরো বেশি।  আমরা বিশ্বাস করি ইউরোপ আওয়ামী লীগের ভ্যান গার্ড শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত ও এম এ গনি , সত্যিকার কর্মী ও নেতাদের সমন্নয়ে এক নিরাপত্তা বলয় তৈরী করবেন , আমাদের প্রিয় নেত্রী ইউরোপের যেখানে যাবেন সেখানে ।

শ্রী অনিল দাশ  গুপ্ত, কেবল একটি নাম নয়।  ইউরোপ প্রবাসী বাঙালিদের হৃদয়ে প্রোথিত এক অনন্য ইতিহাস।  ইউরোপের আওয়ামী লীগের এক নিরন্তর প্রেরণার উত্স এর নাম শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত , যিনি জাতির জনকের আদর্শের ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আপসহীন সেনাপতি। আপনার আশির্বাদে ধন্য হউক আমাদের মত নগন্য কর্মীরা ।   আপনি ইউরোপ আওয়ামী লীগের এক অনন্য ইতিহাস। যতদিন বেচে থাকবেন ততদিন সেই ইতিহাস আরো সমৃদ্দ হবে। আপনার শতায়ু কামনায়।

লেখক : ড. বিদ্যুত বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক – ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ।

Share.

Leave A Reply

fifteen − 9 =