ইরাকি শরণার্থী পেলেন কেমব্রিজে পড়ার সুযোগ

1392
  |  শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২০ |  ৭:০৫ অপরাহ্ণ

বুরাক আহমেদ যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক থেকে বৃটেনে পাড়ি জমান, তখন তিনি ছোট্ট শিশু। বয়স তখন মাত্র ৩ বছর। বৃটেনে প্রবেশের পরই কোমরে ব্যথার জন্য তাকে সার্জারি করাতে হয়। আর সেই বুরাক আহমেদই এ-লেভেল পরীক্ষায় ৪টি এ+ পেয়ে বিশ্বখ্যাত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন নিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেন। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের মেট্রো পত্রিকা।খবরে বলা হয়, বুরাক আহমেদ ও তার দাদি সাদিয়াহ খাত্তাব (৬৯) বৃটেনে গিয়েছিলেন শুধু ওই সার্জারি করানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু এরই মাঝে যুদ্ধ শুরু হয় ইরাকে। যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ায় তারা আর দেশে ফিরতে পারেন নি। ইংরেজি না জানা অবস্থাতেই যুক্তরাজ্যে পড়াশুনা শুরু করেন তিনি।এরপর আর পিছু তাকাতে হয়নি তাকে। কিন্তু প্রায় ১০ বছর ধরে যুদ্ধ চলায় পিতামাতাকে একদমই দেখতে পাননি তিনি।

মোট ৯টি সার্জারি হয়েছিল তার শরীরে। প্রতিদিনই যন্ত্রণার কারণে ওষুধ নিতে হতো। সেই বুরাক এ-লেভেল পরীক্ষায় অসামান্য ফল করে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি কখনও ভোলেননি তার নিজের চিকিৎসা করানোর কথা। বিশ্বসেরা চিকিৎসার কারণেই কোমরের ওই জটিল রোগ থেকে সেরে উঠেছেন বুরাক। তাই এবার নিজেই বিশ্বসেরা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে হতে চান একজন ডাক্তার।

Advertisement

এ-লেভেলে জীববিজ্ঞান, রসায়ন, অর্থনীতি ও গণিত নিয়ে পড়েছিলেন তিনি। সব বিষয়েই তার অসাধারণ ফলাফল। বুরাক বলেন, আমার দাদি বা আমি, কেউই ইংরেজি বলতে পারতাম না। এমনও দিন গেছে আমি নড়তেও পারিনি। শিশু হিসেবে আমি বুঝিনি আমার পরিবার কী ধরণের ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। আমি ভাগ্যবান যে, আমার দাদি সবসময়ই আমার পাশে ছিলেন।২০০৫ সালে বাড়িঘর সব বিক্রি করে ছেলের সাথে যোগ দিতে বৃটেনে পাড়ি জমান বুরাকের পিতামাতা। তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়। পরে কার্ডিফে বসতি পাতেন তারা।

২০১৯ সালের আগস্টেও অপারেশন করে কোমরের একটি অংশ কেটে ফেলতে হয়েছিল বুরাকের। আরেক পাশেও শিগগিরই আরেকটি অপারেশন করাবেন।স্কুলে থাকতে দক্ষ ফুটবলার ছিলেন। কার্ডিফ সিটি একাডেমির হয়েও খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি ফের খারাপ হতে থাকায় তার নড়াচড়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় খেলাধুলা। ২০১৮ সালে কলেজে ভর্তির পর অক্সফোর্ড ও কেমিব্রিজে অনেক আঞ্চলিক বিতর্ক শেষ করেছেন তিনি। মেডিকেল এথিকস সোসাইটিরও সক্রিয় সদস্য তিনি।তার স্কুলের অধ্যক্ষ গ্যারেথ কোলিয়ের বলেন, ‘বুরাক একজন অসাধারণ শিক্ষার্থী। প্রতিকূল পরিবেশ পাড়ি দিয়েও অসাধারণ সব মাইলফলক জয় করেছে সে।’ তার ভাষ্য, ‘স্কুলের ফলাফল আর কেমব্রিজে পড়ার সুযোগ, দু’টোই তার প্রাপ্য। আমাদের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে বুরাকের মতো মানুষ আরও বেশি বেশি প্রয়োজন। আমি সত্যিই তার জন্য আনন্দিত।’

Advertisement