৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে জাতীয় সংসদ

1160
  |  সোমবার, জুন ৮, ২০২০ |  ৬:১৫ অপরাহ্ণ

আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।সোমবার (৮ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদ কমিশনের ৩০তম সভায় এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদ সচিবালয় কমিশনের সভায় কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগদান করেন।

বৈঠকে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে মোট ৩৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার প্রাক্কলিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এরমধ্যে ৩৩৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিচালন খাতে এবং ৮৩ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় এ বাজেট ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে সংসদ কমিশন ৩২৮ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রাক্কলিত বাজেট অনুমোদন দিয়েছিল। এ হিসাবে নতুন অর্থবছরের জন্য সাত কোটি ১২ লাখ টাকা বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে সংসদ সচিবালয়। অবশ্য চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের হিসাবে নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা বেশি। বর্ধিত বরাদ্দের পুরোটাই পরিচালন খাতের। বাজেটে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরের জন্য ৮৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।পরিচালন খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কমিশন সভায় জানানো হয়— কর্মচারীদের নিয়মিত বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি, নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ, ভিভিআইপিদের প্রিভিলেজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য সব ভাতাদি সাকুল্য খাত হতে পরিশোধ, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনহাউজ প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৬৯২ জন কর্মচারীর পোশাক, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও সিএনজিচালক নিয়োগ, প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তাদের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির কার্যালয়ের আপ্যায়ন ব্যয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধ এবং রি-এজেন্ট ক্রয়, অধিবেশন চলাকালীন বার্তাবাহক ও দৈনিকভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগসহ অন্যান্য বিভিন্ন চাহিদার কারণে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

Advertisement

চলতি অর্থবছরে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা খরচ করতে পারেনি সংসদ

জাতীয় সংসদ সচিবালয় চলতি অর্থবছরে পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করতে পারেনি। এই অব্যয়িত অর্থের পুরোটাই পরিচালন খাতের। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের পরিচালন খাতে ৩২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৮৩ লাখ টাকাসহ মোট ৩২৮ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সোমবার কমিশন সভায় অনুমোদন দেওয়া ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দে কোনও হেরফের না হলেও পরিচালন খাতে পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা কম বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংসদ কমিশনের বৈঠকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৩৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ও ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৩৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বাজেট প্রক্ষেপণ অনুমোদন করা হয়।বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পুলিশ প্রটেকশনের জন্য জন্য দুটটি ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যান এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে প্রাপ্ত একটি অ্যাম্বুলেন্স টিওঅ্যান্ডই এ অন্তর্ভুক্তকরণ, সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ১১টি নতুন পদ সৃষ্টিসহ পদোন্নতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, ‘সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৯৪’ সংশোধন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের কার্যালয়ে ২১ ইঞ্চি বক্স টেলিভিশনের পরিবর্তে ৪০ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন সরবরাহ অনুমোদন, সংসদ সচিবালয়ের সমন্বয় সভা এবং অধিবেশন প্রস্তুতিমূলক সভায় সরবরাহকৃত নাস্তার জনপ্রতি বরাদ্দ ও সংখ্যা বৃদ্ধি,সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মেরামতসহ সংসদ ভবনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করে কমিটি।বৈঠকে আলোচ্যসূচি উপস্থাপন করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লাহ খন্দকারসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement