যুক্তরাজ্যের ডিটেনশন সেন্টারে আটককৃত অর্ধেকই করোনাভাইরাসের মারাত্মক ঝুঁকিতে

557
  |  বুধবার, জুন ৩, ২০২০ |  ৬:০২ অপরাহ্ণ

যুক্তরাজ্যের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে আটককৃতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মানুষ মারাত্মক করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে আছে বলে মনে করছে বৃটিশ হোম অফিস। সম্প্রতি প্রিজন ওয়াচডগের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত মার্চ থেকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে আটকদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করেছে এবং আটককৃতদের যেহেতু যৌক্তিক আইনী প্রক্রিয়াতেই আটক করা হয়েছে তাই তাদের ছেড়ে দেয়ার সুযোগ নেই বলে জানান প্রিজন ইন্সপেক্টর । তবে রিপোর্টে জানানো হয় আটককৃতদের মধ্যে ২৫৪ জন অতি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের হারমন্ডসওয়ার্থ, ব্রুক  হাউস, মর্টন হল এবং ইয়ারল উড এলাকায় অবস্থিত ডিটেনশন সেন্টাগুলোতে গত ১২মে পরিদর্শন শেষে এই প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে । প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সবগুলো ডিটেশন সেন্টারে নতুন বন্দীদের পৃথক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকলেও তা করেনি সেখানকার কর্মচারীরা, যার ফলে সংক্রমনের ঝুঁকি আরো বাড়িয়েছে।

Advertisement

চিফ ইন্সপেক্টর পিটার ক্লার্ক বলেছেন, ডিটেইনশন সেন্টারগুলোতে মাত্র ৩ জনের শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ কেইস সনাক্ত হলেও এখানে আরো বেশী ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিলো, কারণ সামাজিক দূরত্ব রক্ষার সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

জানুয়ারীর শুরু থেকে ৪৭ শতাংশ ‘বন্দিরা’ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২৩ শে মার্চ থেকে, প্রায় ১৫ জন বন্দীকে পোল্যান্ডে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেয়া হয়েছে এবং বিমান চলাচল শুরু হলে শীঘ্রই আলবেনিয়ায় ফিরতে ইচ্ছুকদেরও ফেরত পাঠানো হবে।

এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে করোনাভাইরাসের ফলে বিশ্ব জুড়ে ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিজ দেশে ফিরতে না পারায় অনেকের মধ্যে হতাশা ও অশন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিলো।

বেশিরভাগ কেন্দ্রে কিছু আটক ব্যক্তিকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দেয়া হলেও যথাযথ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ার তাদের মুক্তি দেয়ে সম্ভব হয়নি। এই অবস্থাতে অনেকের জামিনের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।

Advertisement