করোনা ভাইরাস সাপোর্ট : কাউন্সিলের বরাদ্দ ১৪ লাখ পাউন্ড কমিয়ে ফেলায় হতাশ টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়র

737
  |  বুধবার, জুন ৩, ২০২০ |  ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকার থেকে জরুরী সাহায্য হিসাবে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ১৪ লাখ পাউন্ড কেটে নেয়া হয়েছে।

প্রথম কিস্তিতে টাওয়ার হ্যামলেটসকে ১০.৪ মিলিয়ন পাউন্ড দেয়া হলেও দ্বিতীয় কিস্তিতে দেয়া হয়েছে ৯ মিলিয়ন পাউন্ড। অর্থ্যাৎ, ১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড কম দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তিতে এলাকার দারিদ্র্যতাকে প্রাধান্য না দিয়ে পার কেপিটাকে প্রাধান্য দেয়ায় এই অর্থ কমেছে। এছাড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বারাগুলোদের মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস সারাদেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষে থাকার বিষয়টিকেও অর্থ বরাদ্দের সময় প্রাধান্য দেয়া হয়নি।

Advertisement

লোকাল গর্ভনমেন্ট এসোসিয়েশনের লেবার গ্রুপের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মতে টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো দরিদ্রকবলিত আরো বেশকটি বারার বাস্তবতাকে অর্থ বরাদ্দের সময় প্রাধান্য দেয়া হয়নি। তাদের বরাদ্দ থেকে সব মিলিয়ে মোট ১২৬ মিলিয়ন পাউন্ড কেটে নেয়া হয়েছে।

ক্রস পার্টি লোকাল গর্ভনমেন্ট এসোসিয়েশনের মতে করোনা ভাইরাসের কারনে ইংল্যান্ডের কাউন্সিলগুলো ১০ থেকে ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক ব্ল্যাকহোলে পড়েছে। এর বিপরীতে সরকার এপর্যন্ত মাত্র ৩.২ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারনে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলকে ২০২০-২১ সালে ২৪.৪ মিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। এর মধ্যে আয় কমবে ৩৪.৬ মিলিয়ন পাউন্ড।

২০১০ সালের পর কাউন্সিলের সাশ্রয়কৃত ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড এর অতিরিক্ত এই অর্থ এবং ২০২৩ সালের মধ্যে আরো ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। লেবার পার্টি ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে কাউন্সিলগুলোর এই আর্থিক ব্ল্যাকহোল মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকার যদি এগিয়ে না আসে তাহলে তাদেরকে দেউলিয়ার হাত থেকে বাঁচতে এডাব্ব এন্ড চিলন্ড্রেন সোশ্যাল কেয়ারের মতো জরুরী খাতের ২০% সার্ভিস কাটতে হবে।

এর আগে কমিউনিটি সেক্রেটারী রবার্ট জেনরিক বলেছিলেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকার কাউন্সিলের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় ফান্ডিং সহায়তা দিবে। কিন্তু সরকার তার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ফান্ড সরবরাহ করছে না।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস এব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, করোনা মোকাবেলায় দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রদত্ত জরুরী সাহায্য প্রদানকালে স্থানীয় দারিদ্র্যকে আমলে না নিয়ে অর্থ কেটে দিয়ে মিনিস্টার প্রমাণ করেছেন যে তিনি তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছেন। মেয়র বলেন, কাউন্সিলকে এভাবে রেখে দেয়ার পরিনাম হবে ভয়াবহ।

কারন কাউন্সিলগুলো কমিউনিটিকে গুরুত্বপূর্ন সার্ভিস প্রদান করে থাকে। কেবিনেট মে“ার ফর রির্সোসেস এন্ড ভলান্টারী সেক্টর কাউন্সিলার ক্যান্ডিডা রোনাহ্ব বলেন, সরকার যদি আমাদের সাপোর্ট না করে তাহলে আমরা যে ধরনের সার্ভিস প্রদান করি তা সম্পূর্ণ বদলে যাবে। সার্বিক সাপোর্ট প্যাকেজ এমনিতেই হতাশাজনক। এর মধ্যে আবার নতুন পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্চেছ যে দারিদ্র্যপিড়ীত এলাকাগুলোর ফান্ড সরকার কেটে নিচ্ছে।

Advertisement