কেমন হবে মহামারী-পরবর্তী দুনিয়ার ব্যবসা?

1765
  |  বুধবার, জুন ৩, ২০২০ |  ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

স্কট লেভি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বোস্টন এসইও এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বব্যাপী তিনি বেশ বিখ্যাত। পাশাপাশি বেস্ট সেলিং বইয়ের লেখক এবং লোকহিতৈষী মানুষ হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন লেভি। সম্প্রতি রিডার্স ডাইজেস্ট-এর মুখোমুখি হয়ে ভবিষ্যৎ দুনিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। স্কট তার বক্তব্যে কভিড-১৯-এর মহামারী চলাকালে ব্যবসা এবং পরবর্তী সময়ের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিপণন কৌশল কেমন হতে পারে, তার একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

বৈশ্বিক এই মহামারী ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কী ধরনের ফাটল তৈরি করেছে?

Advertisement

লেভি: প্রথম এবং প্রধানতম সমস্যা হচ্ছে নগদ অর্থ। এটা পরিষ্কার যে অনেক কোম্পানির কাছে মন্দা মোকাবেলায় মজুদ করার জন্য তেমন নগদ অর্থ হাতে নেই। এছাড়া বাজার অনিয়মসহ আরো কিছু বিষয় রয়েছে। সবাই সবসময় এক ধরনের উন্নতির তালে থাকে এবং শেষ পয়সাটিও খরচ করে বসে। খুব অল্প কোম্পানিই আছে যারা কিনা ৩০-৬০ দিন কোনো আয়-উপার্জন ব্যাহত করেও টিকে থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে দৃঢ় বিপণন কৌশল, যেখানে দুর্যোগ এবং পিআর সংকট (এমন কিছু যা কিনা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে) পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত। আমার ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি ফুয়েল অনলাইন, আমরা কেবল এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ডিজিটাল কৌশল তৈরি করি না, আমরা আমাদের গ্রাহকদের ভবিষ্যতের আকস্মিক সংকট মোকাবেলার পরিকল্পনাও গ্রহণ করতে বলি। এছাড়া পিআর সংকটকালীন পরিকল্পনা, ভিজুয়াল অ্যাসেট এবং কন্টেন্টের একটা মজুদও করে রাখতে বলি।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন শক্তিশালী ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে?

বর্তমান সময়ে সবকিছুই এখন ডিজিটাল, তাই এর উত্থান ঘটেছে। তবে সবচেয়ে সুবিধাজনক ব্যাপার হচ্ছে ডাটা। প্রচলিত মিডিয়ায় আপনি কখনই সেসব ডাটা পাবেন না যা আপনি ডিজিটালে পেতে পারেন। কতবার আপনার দেয়া বিজ্ঞাপন মানুষ দেখেছে সেটি থেকে শুরু করে কতবার আপনার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা হয়েছে সবকিছু আপনি জানতে পারবেন। ক্লিক করার পর তারা কী করছে তাও আপনি জানতে পারবেন। এরপর ওয়েবে আপনি তাদের অনুসরণ করে রিটার্গেটিং (সাধারণত কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখে ক্রেতারা প্রথম দফায় নাও কিনতে পারে, সেক্ষেত্রে অনলাইনের বিভিন্ন পরিসরে তাদের সামনে সেই বিজ্ঞাপন পুনরায় উপস্থাপন করাকে রিটার্গেটিং বলা হয়) করতে পারবেন। ডাটা, ডেমোগ্রাফিক টার্গেটিং, বিজ্ঞান ও সামর্থ্য এখন অনন্যসাধারণ হয়ে উঠেছে। কভিডের সময়ে বিপণনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যমগুলো গ্রাহকদের তাদের বার্তা প্রদান এবং গল্প বলার ধরনে পরিবর্তন আনার সুযোগ দিয়েছে।

বৈশ্বিক লকডাউনের এ সময়ে কোম্পানিগুলো নিজেদের টেকসই ব্র্যান্ড ইমেজ অব্যাহত রাখার জন্য কেমন বিপণন কৌশল অবলম্বন করতে পারে?

এটা মূলত স্বচ্ছ ও সহানুভূতিসম্পন্ন হওয়ার ব্যাপার। গল্প বলার ক্ষেত্রে আমরা বেশ এগিয়েছি। গ্রাহকদের কাছে নিজেদের স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এটা নিশ্চিত করা যে আমরা সংকটে নেই এমন ভান যাতে কেউ না করে, চোখে চোখ রেখে এটি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এমন অনেক ক্যাম্পেইন তৈরি করেছি, যা কিনা কর্মচারীদের গল্প তুলে ধরে এবং বিষয় হচ্ছে তারা এখনো মানুষের জন্য হাজির আছে। এটি সম্ভব হয়েছে গ্রাহকদের জন্য তাদের সত্যিকার উদ্বেগ ও ভালোবাসার মাধ্যমে। এখন আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বাজেটে লাগাম টেনে ধরেন, তবে এটি সময় হচ্ছে এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন), পিপিসি (পে-পার-ক্লিক), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পেইড মিডিয়াসহ আরো অনেক কিছুতে ফিরে যাওয়া।

যখন ব্যবসায়িক খাতগুলো ডিজিটাল এজেন্সিকে নিজেদের অনলাইন মার্কেটিংয়ের জন্য বেছে নেয় তখন তারা আসলে কী খোঁজে?

এটা বেশ ভালো প্রশ্ন। এখানে এখন ভুয়া এজেন্সি যত্রতত্র গজিয়ে উঠেছে, অনেক মানুষ চেষ্টা করছে নিজেদের অর্থ বাঁচাতে এবং কোথাও গিয়ে দাঁড়াতে। আপনি যদি আমাদের মতো ডিজিটাল এজেন্সি খোঁজেন, যেখানে আমরা আপনাকে সত্যি কথাটা বলব। আপনি এখন সেটা শুনতে চান বা না চান তা আপনার ব্যাপার। আমরা তখনই আপনাকে বলব, যদি কাজ সম্পাদনের জন্য প্রকৃত বাজেট আপনার হাতে থাকে। আমরা আপনাকে বলব, আপনি যা প্রত্যাশা করছেন তার বাস্তব ভিত্তি আছে কি নেই। আপনার ওয়েবসাইট কেমন তা আমরা আপনাকে বলব। অনেকেই এটা শুনতে পারেন না, কিন্তু বেশির ভাগই আমাদের এই ধরন ও সততাকে পছন্দ করে। আমি আমার এজেন্সি এভাবে চালাই, কারণ আমি চাই মানুষ সঠিক বিষয়টি প্রত্যাশা করুক এবং প্রকৃত সফলতা অর্জন করুক। আমরা আপনাকে গ্রাহক হিসেবে গ্রহণ করব না, যদি আপনি মনে না করেন আমরা আপনাকে সহযোগিতা করতে পারব। আমি বিশ্বাস করি এই কৌশল এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দল আমাদের আলাদা করেছে এবং পুরস্কার এনে দিয়েছে। আর শেষ কথা হচ্ছে, ব্যবসার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও সময় দেয়ার কোনো বিকল্প নেই।

কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে আমরা কেমন ডিজিটাল মার্কেটিং দেখতে যাচ্ছি?

মানবিক গল্প বলা, যা কিনা হূদয় ছুঁয়ে যাবে। আন্তরিক জিজ্ঞাসা, রূপান্তরের প্রচেষ্টা, সে সঙ্গে অনেক বেশি মূল্যবোধসম্পন্ন কন্টেন্ট এবং জ্ঞান প্রচার করা যাতে করে সবাই নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে। এখানে আপনি আসলে যত বেশি দেবেন, তত বেশি সফলতা অর্জন করবেন। আমি সত্যিকার অর্থে এমন কিছুর ওপরই বিশ্বাস রাখি।

  • রিডার্স ডাইজেস্ট
Advertisement