করোনা পরবর্তী যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির চাকাকে সচলে অগ্রনায়ক অভিবাসীরাই!

1088
  |  মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২০ |  ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি পুনর্নির্মাণের মূল কারিগর হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিল অভিবাসী শ্রমিকরা। তাই এখন দেখার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছ কোভিড-নাইন্টিনের ধাক্কা সামলে উঠতে কি ইউকের ব্যবসায়ীদের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে আবারো দেখা যাবে এই অভিবাসীদেরই? এসব বিষয় মাথার রেখে নিয়োগদাতাদের এখনই আগামী বছরের অভিবাসন নিয়মে পরবর্তী বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া দরকার বলে মনে করেন এ ওয়াই এন্ড জে সলিসিটারসের প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক যশ দুবল। এ বিষয়ে তার একটি দীর্ঘ লেখা প্রকাশিত হয়েছে পার্সনাল টুডেতে। তারই সংক্ষেপিত বাংলারূপ ইউকেবিডি নিউজের পাঠকদের জন্য।

গত মে মাসে, বিতর্কিত ইমিগ্রেশন এবং সামাজিক সুরক্ষা সমন্বয় (ইইউ প্রত্যাহার) বিল – ২০২০ সংসদে দ্বিতীয়বার উত্থাপিত হয়েছিল এবং সংসদ সদস্যরা আইনটির সাধারণ নীতিগুলি ৩৫১ ভোটের মাঝে ২৫২ ভোটে অনুমোদন করেছেন। এখন রয়েল অ্যাসন্ট পেয়ে চুড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হবার আগে এটি হাউজ অব কমন্স এবং তারপরে হাউস অফ লর্ডসে যাবে আরো তদন্তের জন্য।

Advertisement

ধারণা করা হচ্ছে, আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বিলটি। সরকারের বক্তব্য হচ্ছে এই আইনটি নতুন অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য পথ প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ভূমিকা রাখবে যার ফলে বহু বছর ধরে চলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্মুক্তভাবে চলাচলের সুযোগ বন্ধ হবে।

সবাই এই মূল্যায়নের সাথে একমত হবেন না। সমালোচকরা মনে করে দক্ষ জনশক্তি আমদানি করতে অনেক বেশী ভিসা প্রদান করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য লোকের অভাব তৈরি হতে পারে।

আইনটি খসড়া হওয়ার পরে বিশ্বে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। করোনাভাইরাসের এই বৈশ্বিক দুর্যোগের সময়ে ব্যবসা কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিতে কোনও মৌলিক পরিবর্তন আনয়ন এখন কার্যত অসম্ভব। এর প্রভাবে অর্থনীতিতে স্বল্প এবং দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব কি হবে তা নির্ধারণ করা এখন কঠিন।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এখনও মূলত স্থবির রয়েছে এবং কখন এই অবস্থা থেকে উত্তোরণ ঘটবে তা কেউ জানে না। সরকার অভিবাসীদের জন্য কিছু আপদকালীন ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে, যেমন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে যারা যুক্তরাজ্য ছেড়ে যেতে পারেনি তাদের ভিসার মেয়াদকাল বাড়িয়েছে। ফ্রন্টলাইনে থাকা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও তাদের পরিবারও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন।

নতুন অভিবাসন নীতির ফলে যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবাধ ভ্রমনের পরিতর্তে পয়েন্ট-ভিত্তিক ভিসা প্রাপ্ত হবেন।

অর্থনীতি পুনর্নির্মাণ –
লকডাউনের পরে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি যেমন পূর্বের অবস্থায় ফের লড়াইয়ে নিমজ্জিত হবে তেমনি অভিবাসীরাও যুক্ত হবে এই পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ায়। বিশেষত হসপিটালিটি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে অভিবাসী কর্মীরা। তারা সব সময়ই করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অর্থনীতিবিদেরা বুঝতে পেরেছেন যে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার পূরণের জন্য বিদেশী শ্রমিকের প্রয়োজন এবং তখন তারা আয়ারল্যান্ড, ইউরোপ এবং কমনওয়েলথের দেশগুলোর হাজার হাজার মানুষকে স্বাগত জানায়েছিলেন। তারা এখনো বিভিন্ন সেক্টরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনেকে এখানেই সফলভাবে গড়ে তুলেছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে, ট্যাক্স প্রদান করেছে, লোক নিয়োগ করেছে, পরিবার গড়ে তুলেছিল এবং সমাজে সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে অগণিত ইতিবাচক অবদান রেখেছে।

Advertisement