বৃটেনে করোনাভাইরাসে দ্বিগুন মৃত্যুর ঝূঁকিতে বাংলাদেশীরা

608
  |  মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২০ |  ১১:১৯ অপরাহ্ণ

বৃটেনে করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশী, এশিয়ান ও কালো সম্প্রদায়ের লোকজন শ্বেতাঙ্গ বৃটিশদের চেয়ে দ্বিগুন মৃত্যু ঝূঁকিতে ছিলো বলে জানিয়েছে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই) ।
কোভিড-উনিশে এর প্রভাব এবং ঝূঁকিগত তারতম্য নিয়ে পরিচালিত পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের এই গবেষণায় উঠে আসে – বাংলাদেশীরা স্বেতাজ্ঞ বৃটিশদের তুলনায় দ্বিগুন ঝুঁকির মধ্যে ছিলো দেশটিতে।
রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানের মতে চায়না, ভারতীয়, পাকিস্তানি, অন্যান্য এশীয়, ক্যারিবিয়ান এবং কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুর ঝুঁকি ১০ থেকে ৫০ ভাগ বেশি ছিলো।
এই অঞ্চলের মানুষদের বয়স, জেন্ডার, শারীরিক গঠণ এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে এই আশঙ্কার কথা জানায় সংস্থাটি।
বয়সের ভিত্তিতেই সবচেয়ে বড় পার্থক্য পাওয়া গেছে। কারণ ৭০ থেকে ৮০ বছরের বয়স্করা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে ৪০ বছরের নিচেদের তুলনায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড -১৯ আক্রান্তদের মধ্যে মারা যাওয়ার ঝুঁকি মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি ছিল এবং অঞ্চলভেদে এই সংখ্যাটার কিছু হের ফের দেখা গেছে।
এই প্রতিবেদনে বিগত বছরগুলোতে কালো, এশিয়ান ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃটিশ শ্বেতাঙ্গ বাসিন্দাদের মৃত্যুহারে যে পার্থক্য রয়েছে তাও প্রাধান্য পেয়েছে।
বয়স, জেন্ডার এবং অন্যন্য কিছু বিষয় বিবচেনায় থাকেল তাদের মধ্যে বর্তমানে থাকা রোগ ব্যাধিকে আমলে নেয়নি গবেষকরা।
বৃটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের এই প্রতিবেদন হাউস অব কমন্সে প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে এই সম্প্রদায়ের লোকজন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এটি খুব স্পষ্ট যে কিছু লোক কোভিড-১৯ এর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং এটিই আমি বোঝার এবং সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগ গত মাসে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

Advertisement

প্রতিবেদেন উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ মে পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭০৮ জন ব্রিটিশ বাংলাদেশীর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন ১৮২ জন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ৫৯ জন এবং বাকী ১২২ জনের বয়স ছিলো ৬৪ বছরের বেশি। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে লন্ডন শহরে।
এদিকে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্যান্য কমিউনিটির মধ্যে চাইনিজ ৯২জন, ভারতীয় ৭৪৬জন, পাকিস্তানী ৪৮৩জন, আফ্রিকান ৪৩০জন, ক্যারাবিয়ান ৭১৩জন ও অন্যান্য এশিয়ান কমিউনিটির ৪১২জন মৃত্যু বরণ করেন বলে উল্লেখ করা হয় ৮৯ পৃষ্টার ঐ প্রতিবেদনে।

Advertisement