বাংলাদেশের অগ্রগতিকে দৃষ্টান্তমূলক মনে করছে এডিবি

591
  |  শনিবার, মে ৪, ২০১৯ |  ১:১২ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবির ৫২তম বার্ষিক সম্মেলন ও ব্যাংকের পরিচালক বোর্ডের বার্ষিক সভা। ঐক্যের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধির ডাক দিয়ে এই সভা চলছে। সম্মেলন শুরুর পর এক সংবাদ সম্মেলনে এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হান কিম বলেছেন, বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার সাফল্যের এক কাহিনি হয়ে উঠেছে।

এবারের সম্মেলনের থিম ‘ঐক্যের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধি’ বিষয়টিকে অনেকেই সময়োচিত বলে মনে করছেন। এডিবি সম্মেলন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে গত বুধবার বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হান কিম। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গত এক দশকের চমকপ্রদ প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার সাফল্যের এক কাহিনি হয়ে উঠেছে। প্রায় ৮ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে দেশটি অনেক ক্ষেত্রেই এখন এশিয়ার সব উন্নয়নশীল দেশের জন্য এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তবে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধির এই হারকে ধরে রাখার উপায় নিয়ে ভাবতে হবে।

Advertisement

এক প্রশ্নের উত্তরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হান কিম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি যে কেবল এগিয়ে চলেছে তা-ই শুধু নয়, পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নেও বাংলাদেশ সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে। বার্ষিক ৮ শতাংশ হারের প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থনীতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে আরও বিদেশি বিনিয়োগ নিজে থেকেই বাংলাদেশে আসতে শুরু করবে। তিনি বলেন, সে রকম অবস্থায় বিশাল আকারের আরও নানা মেগা প্রকল্প বাংলাদেশ সম্ভবত হাতে নেবে, বিশেষ করে জ্বালানি ও পরিবহন খাতে। তবে সে রকম প্রকল্প সামাল দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বাংলাদেশকে ভাবতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার অন্য এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এডিবির প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও আরও একধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে খুবই ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের চমকপ্রদ প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে এডিবির প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও ঢাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সাফল্যের দিকটি তুলে ধরেন। এ ছাড়া তৈরি বস্ত্রশিল্প খাতেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা উন্নয়নে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে আসার সময়সূচি এবং এ–সংক্রান্ত পরবর্তী কিছু জটিলতা নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে এডিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, সুনির্দিষ্ট সময়সূচির পূর্বাভাস নিয়ে মন্তব্য তিনি করতে না পারলেও বাংলাদেশকে স্বল্প সুদের ঋণ প্রদান এডিবি অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে এডিবির সহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে নাকাও বলেন, এডিবির কার্যক্রম কোনো অবস্থাতেই একতরফা নয়, কেননা এডিবি সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে তথ্য ও জ্ঞান ভাগাভাগি করে নিচ্ছে।

গত এক দশকে এশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চল বলিষ্ঠ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যান্য ক্ষেত্রে চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন করলেও পুরো এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের জন্য সার্বিক প্রবৃদ্ধি এখনো অধরা থেকে গেছে। প্রবৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রায় কীভাবে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে অর্থনৈতিক সাফল্যকে প্রকৃত অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়, অঞ্চলের নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো উন্নয়ন অংশীদাররাও তা নিয়ে ভাবছেন। আর এডিবির ৫২তম বার্ষিক সম্মেলন নতুন করে সেই পথ খুঁজে দেখার সুযোগ এনে দিচ্ছে।

অবকাশকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফিজির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নাদিতে এডিবির সম্মেলন উপলক্ষে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ৫০ হাজার জনসংখ্যার শহরটিতে সমবেত হয়েছেন। এ ছাড়া সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও নাদিতে জড়ো হয়েছেন এডিবি সম্মেলন উপলক্ষে।

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে এবারের বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন উপলক্ষে আলোচনার প্রধান একটি বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে সমুদ্রের স্বাস্থ্য ও পর্যটন। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণে বিশ্বজুড়ে সাগর কলুষিত হওয়ায় সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ায় মানবজীবনকেও তা বিপন্ন করে তুলেছে। এই সমস্যার সমাধানে করণীয় পদক্ষেপের মধ্যে শুরুতেই আছে প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং এসব পণ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করে নেওয়া। এডিবির এবারের সম্মেলনে পরিচালনা বোর্ডের সভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টির ওপর আলোচনা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সম্মেলন একটি পথনির্দেশিকা ঠিক করে দিতে পারবে বলে অনেকেই আশা করছেন।

Advertisement