রাণীর কাছে পরিচয়পত্র পেশ সাইদা মুনা তাসনিমের

1297
  |  শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ |  ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ

ব্রিটিশ রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এর কাছে আনুষ্টানিকভাবে পরিচয় পত্র পেশ করলেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।১লা মে বুধবার লন্ডন সময় সকালে বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে রানীর কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের প্রত্যায়ন সম্বলিত নিজের এই পরিচয় পত্র তুলে দেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার।এসময় বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে পৌছে দেন হাইকমিশনার।বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান মন্ত্রীর শুভেচ্ছা গ্রহন করে ব্রিটেন-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ট সম্পর্কের কথা এসময় স্মরণ করেন মহামান্য রানী।

এর আগে রাণীর প্রতিনিধি ডিপ্লোমেটিক কর্পের মার্শাল অ্যালিস্টার হ্যারিসন কুইন্স গেইটস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে আসেন এবং হাইকমিশনার,তাঁর স্বামী এবং হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের রাজকীয় ঘোড়ার গাড়ির বহরে করে বার্কিংহাম প্যালেসে নিয়ে যান।এ সময়ে প্যালেসের সামনে শত শত দর্শক রাজকীয় বহরের প্রতি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায় এবং অনেকে ছবি তোলে।পারমানেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি এবং ব্রিটিশ ডিপ্লোমেটিক কর্পের প্রধান স্যার সাইমন ম্যাকডোনাল্ড,ডিপ্লোমেটিক কর্পের এ্যাসিসটেন্ট মার্শাল এবিগেইল বয়েল এবং রাণীর একজন প্রতিনিধি প্যালেসের প্রধান ফটকে হাইকমিশনারকে অভ্যর্থনা জানান।প্যালেসের নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশের পর মার্শাল হাইকমিশনার ও তাঁর স্বামীকে রাণীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।এরপর হাইকমিশনার তার পরিচয়পত্র রাণীর নিকট হস্তান্তর করেন।এ সময়ে হাইকমিশনার বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উষ্ণ শুভেচ্ছা বার্তা রাণীকে অবহিত করেন।তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা এবং ১৯৮৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে রাণীর সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন বাংলাদেশের মানুষের মনে তিনি এক বিশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্থান দখল করে আছেন।

Advertisement

হাইকমিশনার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়ে ব্রিটিশ সরকার ও জনগনের সমর্থন এবং ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময়ে লন্ডনে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার কথাও স্মরণ করেন।তিনি বাংলাদেশের দু‘টি বিশেষ বনকে ‘‘Queen’s Commonwealth Canopy’’-এর অন্তর্ভূক্ত করার অনুরোধ জানান,যাতে এ বনভূমি দু‘টি কমনওয়েলথের অন্যান্য দেশের কেনোপিভূক্ত বনগুলোর মতই সুরক্ষিত হতে পারে।ব্রিটেনের রাণী হাইকমিশনারকে যুক্তরাজ্যে স্বাগতম জানান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এসময় হাইকমিশনার রাণীর সাথে হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সামরিক উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ,কে,এম,আমিনুল হক,মিনিস্টার (কনস্যুলার) মোঃ লুৎফুল হাসান,কমার্শিয়াল কাউন্সিলর এস,এম,জাকারিয়া হক এবং প্রথম সচিব মোঃ শফিউল আলম।পরিচয়পত্র পেশ করার পর ডিপ্লোমেটিক কর্পের এ্যাসিসটেন্ট মার্শাল এবিগেইল রয়েল হাইকমিশনার ও তাঁর সংগীদের রাজকীয় ঘোড়ার গাড়ির বহরে করে বাকিংহাম প্যালেস থেকে সেন্টস জেমস কোর্টে (তাজ হোটেল) নিয়ে যান।

এখানে হোটেল বলরুমে অনুষ্ঠিত হয় পরিচয়পত্র পেশ পরবর্তী রিসিপশন।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন,হাই কমিশনারের স্বামী তাওহিদুল ইসলাম চৌধুরী,রানীর মার্শাল অফ দ্যা ডিপ্লোমেটিক কর্পস সদস্য, ব্রিটিশ রাজনীতিক,এমপি,ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিসের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন দেশের কুটনীতিক সাংবাদিক ও ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এই রিসিপশনে যোগ দেন।

Advertisement