বিজিএমইএ ভবন থেকে মালামাল সরাতে দুই ঘণ্টা সময়

2647
  |  মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৯ |  ৩:০২ অপরাহ্ণ

রাজধানীর হাতিরঝিল লেকে অবৈধভাবে নির্মিত বহুতল বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ আজই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।বহুতল থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে দুই ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছে।এরপরই শুরু হবে ভবন ভাঙার কাজ।ভবনের গ্যাস,বিদ্যুৎ,পানি,টেলিফোন লাইনসহ সব ইউটিলিটি সার্ভিস সংযোগ বিচ্ছিন্নের মাধ্যমে এ কাজ শুরু করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান জানান,বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজে সার্বিকভাবে প্রস্তুত আছে রাজউক।ভবন ভাঙার জন্য বুলডোজারসহ অন্যান্য যন্ত্রাদি ভবনের সামনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।এই ভবনে ব্যাংকসহ অন্যান্য অফিস আছে। তারা মালামাল সরিয়ে নিতে দুই ঘণ্টা সময় চেয়েছেন,আমরা সেই সময়টুকু তাদের দিয়েছি।মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজার-সংলগ্ন বিজিএমইএ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান,ব্যাংকের ভল্টে টাকাসহ অফিসের অন্য মালামাল তারা (বিভিন্ন অফিস সংশ্লিষ্টরা) সরিয়ে নেয়ার কাজ করছে।তারা মালামাল সরিয়ে নেয়ার পর আমরা ভাঙার কাজ শুরু করব।মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে বিজিএমইএর ভবনের সামনে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেয়। পাশাপাশি ভবন ভাঙার গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়।এর আগে ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে সময় দিয়েছিলেন আদালত।নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নামছে রাজউক।পূর্ব নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরে কেন অপসারণ করা হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান বলেন,মহামান্য হাইকোর্ট ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।মাঝখানে কয়েকদিন বন্ধ ছিল। এরপর কর্মদিবস শুরু হয়েছে আমরাও আমাদের কাজ শুরু করেছি।’

Advertisement

উল্লেখ্য,জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যান্সার’ বলেছিল হাইকোর্ট।ওই ভবন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপিলেও বহাল থাকে।পরে বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়।ভবনটি টিকিয়ে রাখতে বিজিএমইএ নেতারা বহু চেষ্টা করেছেন।দীর্ঘ আট বছর মামলা লড়ে পরাজিত হন তারা।ভবনটি সরাতে একাধিকবার সময় নেয় বিজিএমইএ।পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫০ শতাংশ কম মূল্যে উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে ১১০ কাঠা জমির ওপর ১৩ তলা ভবন নির্মিত হচ্ছে।২০১৭ সালে নতুন এই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।এখন পর্যন্ত ৬ তলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়া ভবনটির পুরো কাজ শেষ হতে পারে ২০২০ সালের জুনে।তবে কয়েকটি তলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় ও আদালতের বাধ্যবাধকতা থাকায় চলতি মাসেই বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় উত্তরায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।

Advertisement