‘কালও মুক্ত হবেন না খালেদা জিয়া’

0

নিউজ ডেস্কঃ বেগম খালেদা জিয়া ৮ মে জামিনের শুনানিতে মুক্তি পেলেও তাকে অন্য আরেকটি মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি আয়োজিত এক স্মরণ সভা, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

৮ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কাল বেগম জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে তাহলেও অন্য মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানোর কারণে তিনি মুক্ত হতে পারবেন না। আর এ সরকার নানা কৌশলে তাকে জেলে আটকে রাখার চেষ্টা করতে পারে। শ্যোন এরেস্টে আমরা উনা’র জামিন করালাম। কিন্তু আরেকটি মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখালো! আরেকটাতে জামিন করালাম আরেকটাতে দেখালো! সরকার চাইলে নিশ্চয় পারে।

কুমিল্লার যে বিচারক বেগম জিয়ার জামিনের আবেদনের পরবর্তী শুনানির তারিখ দিয়েছেন ১৫ মে। কারণ ৮ মে সুপ্রিম কোর্টে জামিন হলেও বেগম জিয়ার মুক্ত হওয়ার সম্ভবনা নেই। অর্থাৎ ১৫ মে’র আগে তো ওখানে জামিন হয় না। সুতরাং হাইকোর্ট জামিন দিলেও সুপ্রিম কোর্টে আটকে যায়। আর সুপ্রমি কোর্ট জামিন দিলে লোয়ার কোর্টে আটকে যায়। অর্থাৎ সরকার চায় না, বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হোক। আর বেগম জিয়া জেলে থেকেও যে সুস্থ্য এবং ভালো থাকবেন, সেটাও সরকার চায় না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, হাইকোর্টে যেদিন মামলা উঠে, সেই দিনই খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার কথা। আর ওই দিন যদি জামিন হতো তাহলে এই শ্যোন এরেস্ট আর হতো না। কিন্তু সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে।

বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কি চান আপনারা? বেগম জিয়া পঙ্গু ও দৃষ্টিহীন হয়ে যাক? আল্লাহ না করুন-আরো কোন বড় দুর্ঘটনা হোক, এটা চান?

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গ বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, মানুষ আলোচনা শুরু করে দিয়েছে যে, কাল যদি বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলে কিংবা অংশগ্রহণ করে তাহলে সংসদ নির্বাচনও স্থগিত করা হবে কি না? কারণ সেখানেও তাদের (আওয়ামী লীগ) বিজয়ী হওয়ার কোন সুযোগ বা সম্ভবনা নাই।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পত্রিকায় লক্ষ্য করেছেন, গাজীপুর নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। এই স্থগিতের আবেদন যিনি করেছেন, তিনি একজন আওয়ামী লীগের নেতা। আর পত্রিকার খবর বেরিয়েছে, তিনি যে আবেদন করেছেন তার বিপক্ষে নির্বাচন কমিশন কোনও জোরালো অবস্থান নেয়নি। অর্থাৎ যে আবেদন করা হয়েছে তা যাতে মঞ্জুর হয়- সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করেছে। আওয়ামী লীগ যা চায় নির্বাচন কমিশন তাতে সহযোগিতা করে বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনও একই কারণে বাতিল হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, পত্র-পত্রিকায় এমনটি লেখা হয়েছে। আর আমরা নিজেরাও বুঝি, ঢাকা উত্তর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত একই সূত্রে গাঁথা। এর কারণ একটাই, সেটা হলো- সরকার অনুভব করেছে, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে তাদের জেতার কোন সম্ভবনা নাই। কারণ সিটি নির্বাচনে ধানের শীষে গণ জোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে। এটা দেখে তারা (সরকার) নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে।

খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রচারণা চলছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, সেখানও ধানের শীষের পক্ষে ঢেউ উঠেছে। গাজীপুর যেহেতু বন্ধ সেহেতু আমাদের আরো নেতারা খুলনায় যাবে। আরো ঢেউ উঠবে। কাজের কখন যে আবার খুলনায় বন্ধ করে দেয়া, আল্লাহই যানে। কারণ এ সরকার পরাজিত হতে চায় না।

বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মোবিনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে, এ স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী।

Share.

Leave A Reply