মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

0

নিউজ ডেস্কঃ রোহিঙ্গা ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দুইদিনব্যাপী সম্মেলন শুরু হয়েছে।আজ শনিবার (৫ মে) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী,ওআইসির মহাসচিব,তুরস্কের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী,সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী,সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সবাই রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্টির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মিয়ানমার সরকারের নিন্দা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন,রোহিঙ্গা জনগোষ্টি যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি তখন ওআইসি নিশ্চুপ থাকতে পারে না। রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হচ্ছে। আমি ওআইসি’র প্রতি আহ্বান জানাই আপনারা তাদের পাশে দাঁড়ান।তিনি বলেন,মিয়ানমারের ওপর ওআইসি ও আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। যাতে করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি মেনে নিয়ে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়।বাংলাদেশ শুধু মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছিল বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিহত হওয়ার সময়ে আমি ও আমার বোন বিদেশে ছিলাম।সে সময়ে ছয় বছর আমি উদ্বাস্তু জীবন কাটিয়েছি এবং সে কারণে আমি তাদের কষ্ট বুঝি।পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী তার বক্তব্যে বলেন,ওআইসির উচিত হবে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা। একইসঙ্গে মিয়ানমারকে রাজি করানো যাতে করে টেকসইভাবে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় গণহত্যার পরে এটিই সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়।কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন,রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়,এটি আমাদের সবার সমস্যা।এই সমস্যা এখনও চলছে এবং আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এটি যেন বন্ধ হয়। যারা এ ধরনের মানবাধিকার বিরোধী অপরাধ করেছে তাদের দায়বদ্ধতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্ব নিতে হবে।সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওআইসি মহাসচিব,সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের দেওয়া বক্তব্যে ‘রোহিঙ্গা’ বিষয়টি জোড়ালোভাবে তুলে ধরেন।

৫৭-সদস্য বিশিষ্ট এই সংস্থার প্রায় ৬০০ প্রতিনিধি এবারের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে ২৭ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ১২ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং ওআইসি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ  করছেন।এবার অসদস্য কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘ইসলামিক ভ্যালুস ফর সাসটেইনেবল পিস,সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।এই সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এর মাধ্যমে আগামী এক বছর ওআইসি কাউন্সিল অব মিনিস্টারস (সিএফএম) এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে।গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে এই প্রথমবারের মতো ওআইসি মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এর আগে ১৯৮৩ সালে ১৪তম সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।প্রতিবারের মতো এবারও ফিলিস্তিন ইস্যুটি নিয়ে সদস্যরা আলোচনা করবেন। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে বড় আকারে এখানে আলোচনা হবে। এ ব্যাপারে একটি রেজ্যুলেশন গ্রহনের বিষয়ে সদস্যরা একমত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানের এজেন্ডায় সংস্থাটির সংস্কার বিষয়ে জোরালো আলোচনা করার জন্য সবাই একমত হয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এই আলোচনা ভূমিকা রাখবে।অন্যান্য এজেন্ডার মধ্যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা,জাতিসংঘ বা অন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে সদস্যদের ভোট প্রদানের বিষয়ে সমন্বয়, নিরস্ত্রীকরণ,ইসলামোফোবিয়া,জাতিসংঘে সংস্কার ও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি,স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন,পুলিশের মধ্যে সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয়গুলি উল্লেখযোগ্য।আশা করা হচ্ছে রবিবার অনুষ্ঠান শেষে আলোচ্য বিষয় সংক্রান্ত সব রেজ্যুলেশন,ঢাকা ঘোষণাপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তসমূহ আউটকাম ডকুমেন্ট হিসেবে গৃহীত হবে।

Share.

Leave A Reply