সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে ড. কামাল হোসেনের আহ্বান

0

নিউজ ডেস্কঃ দলমত নির্বশেষে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ও বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন।

শুক্রবার (৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে ‘আইনের শাসন ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আসুন আমরা এটা নিশ্চিত করি যে, দলমত নির্বশেষে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকেও সবাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার কথা বলবে। আর সেই নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত হলে হবে না। বাইরের দেশ থেকে চোখে আঙুল দিয়ে বলে দিচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার জন্য। এখন আমাদেরকেই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের পক্ষে প্রহরীর ভূমিকা সারাজীবন রেখে এসেছি। এবারও প্রহরীর ভূমিকা রাখার জন্য আপনারা এগিয়ে এসেছেন। জেলায় জেলায় ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সবাইকে সম্পৃক্ত করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যের ডাক দিয়েছি। বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ আমরা অনেকেই ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছি। আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে আসবেন। আমরা সাত দফা দাবি পেশ করবো। সেটা আমি সবাইকে পাঠিয়ে দেবো। তবে সাত দফা পরিবর্তিত হয়ে আট দফা হতে পারে।’

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘যে বাংলাদেশ আমরা একাত্তরে পেয়েছিলাম সেই বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা আগামীতে এগিয়ে যাবো। জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবে, সুশাসন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, সংবিধানকে রক্ষা করবে। আর যারা দুর্নীতি করে তাদের বিরুদ্ধে জনগণই ব্যবস্থা নেবে এবং রাষ্ট্র ও দেশকে রক্ষা করবে। আইনজীবীরা এই ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

সভায় কোটা আন্দোলনকারী ছাত্রদের অভিনন্দন জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাগ্রত হয়েছে। ছাত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই। তবে তাদের অভিনন্দন জানাই। সরকার জেনে নিক, এই দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে স্বৈরতন্ত্র কেউ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। এটা আমার বিশ্বাস। এটা আমরা একবার না বহুবার প্রমাণ করেছি। দুঃখ লাগে যে, আজকে ৪৬ বছর পরে আবার আমাদের সেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথাও বলতে হচ্ছে, প্রস্ততিও নিতে হচ্ছে। গুলি ছাড়লে ছাড়বে। কিন্তু স্বৈরাচার এখানে কখনও চিরস্থায়ী হতে পারবেনা। নির্বাচন সুষ্ঠ হতে হবে। এই সংবিধান বহু মূ্ল্য দিয়ে আমরা পেয়েছি। আপোষ করার কোন অবকাশ নেই।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক এই সভাপতি আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হলো আইনজীবীদের আন্দোলন এবং এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। আমরা জেলায় জেলায় গিয়েছি। আমরা কোর্ট বিরতি করেছিলাম। তরুণ আইনজীবীরা না খেয়ে কষ্ট করে আন্দোলন করেছে। সবার ধারণা, আইনজীবীরা নিজেদের আয় ছাড়া কিছু বোঝেনা। অন্তত বাংলাদেশের আইনজীবীরা একবার না বহুবার প্রমাণ করেছে যে, দেশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিবেককে জাগ্রত করার ব্যাপারে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার ব্যাপারে, আন্দোলন করার ব্যাপারে আইনজীবীরা সবসময় প্রসংশনীয় ভূমিকা রেখেছে। সেই কারণে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আমরা সামনে দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অসাধারণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এর পূর্ব শর্ত হলো সুশাসন, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র। কেননা, জবাবদিহিতা যদি না থাকে, যদি পাইকারিভাবে চুরি হয়, যদি দুই নাম্বারি কায়দায় কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়, সরকারের ক্ষমতা যদি দুর্নীতির মধ্যে চলে যায়, দুঃশাসনের মধ্যে চলে যায়, দলীয়করণের মধ্যে চলে যায় তাহলে উন্নয়ন হবে না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ড. শাহদীন মালিক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান, ঢাকা বারের সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান, আব্দুল মতিন, সানাউল্লাহ মিয়াসহ প্রমুখ।

Share.

Leave A Reply