ধর্ষণকারীদের ক্রসফায়ারের দাবি কাজী ফিরোজ রশীদের

0

নিউজ ডেস্কঃ ধর্ষণকারীদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যার দাবি জানালেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ধর্ষণের তাৎক্ষণিক শাস্তি চেয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ দেখতে চায় এই মুহূর্তে ধর্ষণকারীর বিচার হবে কি হবে না। ৯ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে যাওয়া একজন ধর্ষক র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে, এটিই জনগণ দেখতে চায়। এই র‌্যাব সদস্যদের পুরস্কৃত করা উচিত।সম্প্রতি ঢাকার ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে গার্মেন্ট শ্রমিক তরুণীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফিরোজ রশীদ এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের সর্বত্র নারীরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে চলে এসেছেন। এই সময়ে গণধর্ষণ হচ্ছে। নারীরা যদি স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে না পারেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদে যাতায়াত করতে না পারেন, তারা যদি প্রতিনিয়ত গণধর্ষণের শিকার হয়, তাহলে দেশ ও রাষ্ট্র বসে থাকতে পারে না।

ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একজন পোষাক শ্রমিক বাসে উঠেছিলেন। পথে অন্যরা নেমে যাওয়ার পর তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করা হয়েছে। তার চিৎকারে এলাকার লোকজন পুলিশ এনে বাস আটকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে ঠিকই কিন্তু বিচার হবে না।

সিরিয়ল কিলার রসু খাঁর বিচারের প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘রসু খাঁর নেশা ছিল ধর্ষণ করে হত্যা করা। সে ১৬ জন নারীকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। দুই তিনটি মামলায় তার ফাঁসির আদেশ হয়েছে, আরও মামলা চলমান আছে। এই মামলায় ১০ বছর পর কোনও জেলে শেষরাতে তার ফাঁসি হবে, কেউ খবর রাখবে না। এই ফাঁসিতে কিন্তু গণধর্ষণ থামানো যাবে না। মানুষ চায় তাৎক্ষণিক একটা বিচার।’

টাঙ্গাইলে কলেজছাত্রী রূপা হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘রূপাকে বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে তার ঘাড় মুচড়িয়ে হত্যা করে শাল বনে ফেলে দিয়েছে। রূপা হত্যার মামলার বিচারের রায় কবে হবে কেউ জানে না। আসামিরা সব ধরা পড়ছে। তারা স্বীকার করেছে। নিম্ন আদালতে ফাঁসি হয়েছে। উচ্চ আদালতে তারা আইনের আশ্রয় নেবে। সেখানে ল’ পয়েন্টে আলোচনা হবে, ফাঁসি হবে কি হবে না। তারপর সর্বোচ্চ আদালত আছে। তারপর মহামান্য রাষ্ট্রপতি আছেন। কবে ফাঁসি হবে? কোন জেলে কোন শেষরাতে ফাঁসি হবে তার খবর কেউ রাখবে না। রূপা চলে যাবে। সেদিন যদি রূপা হত্যায় একটা জ্বলন্ত নির্দশন আমরা দিতে পারতাম তাহলে এইভাবে আরেকটি মেয়েকে পৈশাচিক ধর্ষণের শিকার হতে হতো না।’

সম্প্রতি র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ধর্ষকের নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘৯ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে পালিয়ে গিয়েছিল, সেই ধর্ষণকারীর সঙ্গে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। র‌্যাবের দুজন আহত হয়েছেন। ধর্ষণকারী নিহত হয়েছে। এটাই জনগণ দেখতে চায়। এই সব র‌্যাবের সদস্যকে পুরস্কৃত করা উচিত। প্রতিদিনই বাসে ধর্ষণ হবে আর আইনের আশ্রয় নেবেন–এইভাবে চলতে পারে না। মানুষ দেখতে চায়, এই মুহূর্তে বিচার হবে কি না। আইনের মাধ্যমে অনেক দূর যেতে হবে। আইনের সিঁড়ি অনেক। আমরা কী চাই, সর্বোচ্চ শাস্তি তো!’

তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘জঙ্গি দমন করছেন কীভাবে? শিশু জঙ্গি, নারী জঙ্গি, কিশোর জঙ্গি, বয়স্ক জঙ্গি–সমস্ত জঙ্গি বন্দুকযুদ্ধে দমন করা হয়েছে। আইনের আশ্রয়ে কি জঙ্গিদের এনেছেন আজ পর্যন্ত? মিরপুরে যে ১০ জনকে গুলি করে মারা হয়েছে, তাদের আইনের আশ্রয় আনতে পারতেন। তাদের গ্রেফতার করে বিচার করতে পারতেন। ওখানে বন্দুকযুদ্ধ কেন? বন্দুকযুদ্ধ যদি না হতো, তাহলে জঙ্গি দমন করা যেতো না।’

আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘একটার পর একটা মেয়ে বাসে ধর্ষিত হচ্ছে। আপনি কী বলবেন, দেশে আইনের শাসন আছে। এটা আইনের শাসন নয়, আইনের অপশাসন। আইনের শাসন করতে করতে ১০ বছর লাগাবেন। ১০ বছর পর যদি ফাঁসিও হয় তা কেউ জানবেও না। অনেকে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়েও যাবে। আইন সংশোধন করেন। এক মাসের মধ্যে সামারি ট্র্যায়াল করে বিচার করুন। না হয়তিন মাস দেন। ১২ বছর বসে কেন এদের বিচার করবেন। আইন আনুন আমরা সংসদ থেকে পাস করে দেবো। নাহলে এই নারীদের সম্ভ্রম বাঁচানো যাবে না। এই সমস্ত নরপশুরা এভাবে ধর্ষণ করবে আমরা চেয়ে চেয়ে দেখবো- এটা সভ্য সমাজে এলাউ করতে পারি না। আপনি আগামী সংসদে আইন নিয়ে আসেন। সামারি ট্রায়াল করেন। আমাদের সময় অ্যাসিড নিক্ষেপ ছিল। আমরা তিন মাসে চার জনকে ফাঁসি দিলাম। সব বন্ধ হয়ে গেল। আপনারা পারবেন না। কারণ অতিগণতান্ত্রিক হয়ে গেছেন তো, এজন্য সম্ভব নয়।

Share.

Leave A Reply