সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় তাবিথ আউয়াল

0

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘সবুজসংকেতে’র অপেক্ষায় রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে বিএনপির অন্যতম সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। মঙ্গলবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন তিনি। সহসাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। তার কাছ থেকে নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ নেবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন তাবিথ আউয়াল। দলীয় সবুজসংকেত

ছাড়া আগাম প্রচারে নামতে চান না তিনি। এদিকে, নির্বাচনে তফসিল ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণার পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক নেতারা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ডিএনসিসির বিগত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে তা বর্জন করেছেন। দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এবারও উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান তিনি। এবার নির্বাচন হলে গতবারের চেয়ে তিনি আরও ভালো ফল করবেন বলে আশাবাদী। নির্বাচনী প্রচারে কবে নামছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তিনি।

দীর্ঘদিন পর তাবিথ আউয়াল দেশে ফেরার পর দলীয় নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। এরই মধ্যে তার অনুপস্থিতিতেই উত্তর সিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নতুন ওয়ার্ডগুলোতে তার পক্ষে গণসংযোগ শুরু করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তার ব্যবসায়িক কার্যালয়েও নেতাকর্মীরা ভিড় করছেন। তার অনুপস্থিতিতে বাবা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

অবশ্য আইনগত জটিলতা দেখা দেওয়ায় অনিশ্চয়তা রয়েছে ডিএনসিসি উপনির্বাচনে। তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক, ডিএনসিসি উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি রাখছে বিএনপি। বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে এবারও প্রার্থী করার বিষয়টি নীতিগতভাবে প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলের হাইকমান্ড।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা সমকালকে বলেন, এবারই প্রথম ডিএনসিসির মেয়র নির্বাচন দলীয়ভাবে হচ্ছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে কাউকেই এখনও চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। অবশ্য সম্ভাব্য প্রার্থীকে নির্বাচনের ব্যাপারে কাজ করতে বলা হয়েছে। হাইকমান্ডের নির্দেশনা পেয়ে দলের একজন প্রার্থী ভেতরে ভেতরে প্রচারকাজ চালাচ্ছেন। উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সবকিছু খোলাসা হবে।

ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক সাড়ে চার মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩০ নভেম্বর লন্ডনে মারা যান। আইন অনুযায়ী, মেয়র পদ শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। তবে এরই মধ্যে এই করপোরেশনে ১৮টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে কিছু আইনগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ইসি ডিএনসিসি নির্বাচন করতে পারবে কি-না কিংবা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কি-না, তা নিয়ে দলের মধ্যেও আলোচনা চলছে। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করছে না বিএনপি।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামীতে যে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বিএনপি। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় দলটির ধারণা, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে এ উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থী জয়ী হবেন। এ উপনির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য নানা হিসাব-নিকাশও করছে দলটির হাইকমান্ড। দলের মনোনীত প্রার্থীর কোনো সমস্যা হলে কিংবা কোনো কারণে মনোনয়ন না পেলে জোটগতভাবে কাকে দেওয়া যায়- এসব নিয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন নীতিনির্ধারকরা।

সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। তবে দলের পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, সবকিছু মিলিয়ে রংপুরের নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ হয়েছে। তিনি বলেন, ডিএনসিসি উপনির্বাচনসহ আরও যে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা আছে, সেগুলোতেও বিএনপি অংশ নেবে। দলে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। ইসি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করলে দলের ফোরামে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

দলের স্থায়ী কমিটির এক নেতা জানান, আগামীতে প্রতিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য ও বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবী-নাগরিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন খালেদা জিয়া।

ডিএনসিসির বিগত নির্বাচনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল অংশ নিলেও ব্যাপক কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে ভোটের দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন বর্জন করেন। ওই নির্বাচনে তিনি তিন লাখ ২৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এবারও দলের হাইকমান্ড তাকে সবুজসংকেত দিয়েছে বলে জানা গেছে। দেশের বাইরে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। তখন নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

তবে ডিএনসিসি উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক এবং সহপ্রচার সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ সুমন। এর বাইরে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ রয়েছেন প্রার্থী তালিকায়। সম্ভাব্য সব প্রার্থীই নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। কোনো কারণে তাবিথ আউয়াল প্রার্থী না হলে অন্যদের কথা ভাবা হবে।

এদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ডিএনসিসি নির্বাচন করতে আগ্রহী কি-না- দলের হাইকমান্ড সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে। জবাবে তাবিথ আউয়ালের দিকে ইঙ্গিত করে দলের হাইকমান্ডকে মিন্টু বলেন, গত নির্বাচনে দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। হাইকমান্ডকে তিনি বলেন, গত বছরের নির্বাচনে যাকে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাকে বদল করার কোনো কারণ ঘটেনি।

আবদুল আউয়াল মিন্টু সমকালকে বলেন, একসময় ডিসিসি মেয়র নির্বাচনের ব্যাপারে প্রস্তুতি ছিল। এখন রাজধানী ঢাকা দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। তাই সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সেই চিন্তাও হারিয়ে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল চাইলে তাবিথ আউয়ালকে এবারও মনোনয়ন দিতে পারে। তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তরের বাসিন্দারা তাকে পছন্দও করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুনেছি, তাবিথ আউয়ালের ব্যাপারে দলের হাইকমান্ডও ইতিবাচক অবস্থানে আছে।

Share.

Leave A Reply