ফারমার্স ব্যাংকে নাজমুলের শেয়ারের কী হবে?

0

বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা ও শেয়ার হোল্ডার হিসেবে নাম রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের। এ নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে সংবাদও প্রকাশিত হয়। এর পর ২২ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, ’এক অসহায় বন্ধু‘ তাঁর নামে কিছু প্রাইমারি শেয়ার কিনেছেন। তিনি রাজিও হয়েছিলেন, মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে শেয়ার কিনতে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে শেয়ার কেনার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করেছেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম। এজন্য তার বিরুদ্ধে নেওয়া উচিত।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্য কারো হয়ে শেয়ার কিনতে পারেন না। কেউ জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে এমন কাজ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই শেয়ারগুলো জব্দ করে। আর এ কারণে ফারমার্স ব্যাংকে থাকা নাজমুলের শেয়ারগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন- ১৯৯১ এর ১৪ক ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা আছে, ‘[কোন ব্যাংক-কোম্পানী কর্তৃক যাচিত হইলে উক্ত ব্যাংকের শেয়ার ক্রয়ের সময় ক্রেতা] এই মর্মে শপথপত্র বা ঘোষণাপত্র দাখিল করিবেন যে, তিনি অন্যের মনোনীত ব্যক্তি হিসাবে বা বেনামীতে শেয়ার ক্রয় করিতেছেন না এবং ইতিপূর্বে বেনামীতে কোন শেয়ার ক্রয় করেন নাই৷’

আর ৩ নম্বর উপধারায় বলা আছে, ‘উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত শপথপত্র বা ঘোষণাপত্রের বিষয়বস্তু যদি কোন সময় মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহা হইলে শপথ বা ঘোষণাকারীর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সকল শেয়ার [বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে] বাজেয়াপ্ত হইবে৷’

এ নির্দেশনা অনুযায়ী ফারমার্স ব্যাংকে নাজমুল আলমের নামে কেনা এক কোটি টাকা মূল্যের ১০ লাখ শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকে বাজেয়াপ্ত হওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফারমার্স ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ অথবা পরিচালকদের নামের তালিকায় নাজমুলের নাম নেই। তবে ব্যাংকটির ২০১৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যে ৫১ জনের ছবিসহ নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেখানে ছিলেন নাজমুল।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমদ প্রিয়.কমকে বলেন, ‘অনেকই নিজের নাম প্রকাশ না করে অন্যের নামে শেয়ার কিনে থাকেন। অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। সেক্ষেত্রে সত্য প্রমাণ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক সেই শেয়ার বাজেয়াপ্তও করেছিল। তাই কেউ যদি বেনামে শেয়ার কেনে এবং তা প্রমাণিত হয় তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ম অনুযায়ী তা জব্দ করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও যেকোনো ব্যাংকে থাকা বেনামী শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার কথা বলেন। কিন্তু ফারমার্স ব্যাংকে থাকা নাজমুল আলমের শেয়ার কবে, কীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে, এ বিষয়ে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা প্রিয়.কমকে বলেন, নাজমুলের শেয়ারের বিষয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কমিটি গঠন করেছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হুট করেই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কারণ একবার শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা হলে, তা আর ফেরতযোগ্য হয় না। তাই পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিদ্দিকী নাজমুল আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্তু তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া ফারমার্স ব্যাংকের শেয়ার কেনা নিয়ে তাঁকে ঘিরে গত বছর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

Share.

Leave A Reply