প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা: বিএনপি

0

নিউজ ডেস্কঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের দেশের বাইরে বিনিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তা প্রত্যাহার করা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বিএনপি।কম্বোডিয়া সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসনের পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য দেওয়ার একদিন পর আজ শুক্রবার দলের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এলো।

সকালে বিএনপির চেয়ারপারসনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর ‘কল্পিত এই বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ উল্লেখ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তাঁর সন্তানদের ভাবমূর্তি নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব।গতকাল গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখতে গিয়ে বলেন, ‘খালেদা জিয়া আদালতে জানিয়েছেন যে তিনি শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করেছেন। অথচ সম্প্রতি সৌদি আরবে টাকা পাচারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার কি তাঁকে ক্ষমা করবে?’

এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এ সময় দেশের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কেন এই টাকা পাচারের খবর তুলে ধরা হলো না?’ তিনি বলেন, ‘সৌদিতে যে বিশাল শপিংমল, সম্পদ পাওয়া গেছে, আপনাদের (সাংবাদিকদের) তো এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখি না। এত দুর্বলতা কিসের জন্য? এই যে মানি লন্ডারিং, এটা যে বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার ছেলেরা করেছে এটা তো আমরা বের করিনি। এটা বের করেছে আমেরিকা।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বেশির ভাগ পত্রিকা কিন্তু আমিই পারমিশন দিয়েছি। সে পত্রিকাগুলোর এতটুকু সাহস হলো না যে খবরটা প্রকাশ করি। কোনো সরকার সাহস পায় নাই, আমি প্রাইভেট চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছি।এ ব্যাপারে আজকে ডাকা বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ, যা সৌদি আরবের শপিংমলে বিনিয়োগ করা হয়েছে। কাতারে ইকরা নামে একটি বহুতল ভবন তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপির এ ক্ষেত্রে মালিকানার অর্থ প্রায় ১২ বিলিয়ন, যা বাংলাদেশি টাকায় এক লাখ কোটি টাকা, বাংলাদেশের অনেক গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ পায়নি। তাই গণমাধ্যমকে তিনি শিষ্টাচারবহির্ভূত বলেছেন।’

‘প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্য বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য। শেখ হাসিনা বিএনপির বিরুদ্ধে দেওয়া দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা তন্নতন্ন করেও আজ পর্যন্ত খুঁজে পায়নি। জোর করে গণমাধ্যমে প্রকাশ, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করে। বানোয়াট এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অবিলম্বে এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে খালেদা জিয়া ও জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান  জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে এমন মিথ্যা মন্তব্য না করার জন্যেও আহ্বান জানাচ্ছি।বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কানাডার গণমাধ্যমের যে তথ্য দিয়েছেন, আমরা গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেছি, সৌদিতে যোগাযোগ করেছি কিন্তু এ তথ্যের কোনো অস্তিত্ব পাইনি।কাচের ঘরে বসে অন্যের ঘরে ঢিল ছুড়ে’ না মারার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাদের লুটপাটের যে হিসাব, তা জনগণ জানে। আপনার মুখে সুনীতি এবং সুশাসনের কথা বেমানান।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন প্রমুখ।

Share.

Leave A Reply