মিয়ানমারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত টিলারসনের

0
55

নিউজ ডেস্ক আন্তর্জাতিকঃ  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বুধবার এক বিবৃতিতে এই কথা জানান।

তিনি বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতার প্রাপ্ত তথ্য সতর্ক ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণের পর এটা স্পষ্ট যে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে যে ধরনের ভয়াবহ নৃশংসতা সংগঠিত হয়েছে তা কোনো উস্কানির অজুহাত দিয়ে আড়াল করা যাবে না। তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর জন্য সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্র পাহারাদার গোষ্ঠীকে দায়ী করে বলেছেন, অপরাধীদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগে থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ঘোষণা করতে আহ্বান জানিয়ে আসছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সাম্প্রতিক সুপারিশ অনুযায়ী টিলারসন সেই ঘোষণা দিয়েছেন। এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর মিয়ানমারের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের ওপর চাপ বাড়ছে। মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পর সম্প্রতি কয়েক বছরে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৫ আগস্ট নতুন করে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংস অভিযান শুরুর পর ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা দেশটি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রাখাইনে সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে ইতিমধ্যে ‘এক জাতিগত নিধনের আদর্শ উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ।

টিলারসন বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি আমি মিয়ানমার সফর করেছি। সেখানে মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চি ও দেশটির সেনাপ্রধানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছি। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিকাশ, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও রাখাইনের সংকট নিরসনে আমাদের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল রাখাইনের মানুষের অসহনীয় দুর্দশা। মিয়ানমার সরকার এবং নিরাপত্তাবাহিনীকে অবশ্যই সকল মানুষের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। আমি ২৫ আগস্ট রাখাইনে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার নিন্দা জানিয়েছি। তবে সেখানে এর পর যে ভয়াবহ নৃশংসতা সংগঠিত হয়েছে তাতে এই উস্কানির অজুহাত দেওয়া যায় না। সব তথ্য বলছে সেখানে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হয়েছে। দোষীদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। এ ঘটনায় বিশ্বাসযোগ্য তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত চার কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও টিলারসন বিবৃতিতে জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here