বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আশা আইনমন্ত্রীর

0

নিউজ ডেস্কঃ অধ:স্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে সরকারের সঙ্গে যে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছিল তার অবসান ঘটেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।তিনি বলেন, বিধিমালাটি এখন রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। তিনি অনুমতি দিলে ৩ ডিসেম্বরের আগে গেজেট প্রকাশ করতে পারবো। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমতির অপেক্ষা।

বৃহস্পতিবার রাতে আপিল বিভাগের বিচারকদের সঙ্গে বৈঠকের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের একথা বলেন। রাত সোয়া ৮টা থেকে দশটা পযন্ত কাকরাইলে জাজেস কমপে্লক্সে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার বাসভবনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য ছিল। আমি খুব আনন্দের সাথে বলছি, যেসব মতপার্থক্য ছিল সেসব দূর করেছি।

শৃঙ্খলাবিধির ব্যাপারে আমরা ঐকমত্যে এসেছি। এখন বিধিমালার খসড়া রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে এবং তার অনুমোদন পেলে গেজেট প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, আশা করছি, ৩ ডিসেম্বর আদালতে শুনানির যে দিন রয়েছে তার আগেই গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আজকের বৈঠকে পাঁচজন বিচারপতিই উপস্থিত ছিলেন। সবকিছু আলোচনা করে সকলের মতামত নিয়েছি। ব্যাপারটা ছিল অল্প কয়েকটা বিষয়ে নিয়ে মতপার্তক্য। আমাদের কাছে যা যুক্তি সঙ্গত লেগেছে সেটা আমরা উভয়পক্ষ মেনে নিয়েছি। সেই কারণেই খুব তাড়াতাড়ি কিন্ত এটা নিরসন হয়েছে।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করার বিষয়ে গেজেট নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাসহ আপিল বিভাগের বিচাপতিদের সঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গত ৯ নভেম্বর। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিমকোটর্ের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বসার একদিন আগেই আইন মন্ত্রণালয় থেকে বৈঠকে পেছানোর তথ্য জানানো হয়।

গত ৫ নভেম্বর অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট নিয়ে মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বসার কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরপর তিনি বলেন বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বিচারপতিদের সঙ্গে আইন মন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করা হয়। তা আবার পিছিয়ে আগামী ১৬ নভেম্বর দিন ঠিক করা হয়।

এর আগে গত ৩০ জুলাই সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বৈঠকে বসার জন্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর জবাবে সেদিনই আইনমন্ত্রী টেলিফোনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেন এবং ৩ আগস্ট বৈঠকের দিন নির্ধারণ করেন। কিন্তু আইনমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় নির্ধারিত দিনে বৈঠক হয়নি। এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতি গত ৬ আগষ্ট আবারও বৈঠকে বসার আহ্বান জানান। কিন্তু সেই বৈঠকও হয়নি। এরইমধ্যে এসকে সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ চলে যান।

গত ৮ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ&হাব মিঞা বিধিমালা নিয়ে সংশি্লষ্টদের সঙ্গে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে আদালতে বলেন, Èআমার মনে হয় এটা (বিধিমালা) হওয়া দরকার। এটা নিয়ে বসা দরকার। কোথায় কোথায় আপত্তি আছে, সেটা খোঁজা দরকার। সময় চাচ্ছেন, সময় দিচ্ছি। তবুও এটা হওয়া দরকার।

এরপর গত ১১ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে এক বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বসবো। আশা করি আগামী নির্ধারিত তারিখের আগেই সুরাহা হবে।’

Share.

Leave A Reply