গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসে’র মন্দির হচ্ছে ভারতে

0

নিউজ ডেস্ক আন্তর্জাতিকঃ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে যিনি হত্যা করেছিলেন, সেই নাথুরাম গডসের একটি মন্দির তৈরির কাজ শুরু হয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে। গান্ধী হত্যার দায়ে গডসেকে ১৯৪৯ সালের ১৫ নভেম্বর ফাঁসি দেওয়া হয়। তার এক সহযোগী নারায়ণ আপ্তেরও ফাঁসি হয় একই সঙ্গে। সেই দিনকে স্মরণ করেই হিন্দু মহাসভা গোয়ালিয়রে তাদের দপ্তরেই গডসের মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বুধবার। ইতোমধ্যে সেখানে গডসের একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপিত হয়েছে, সন্ধ্যায় আরতির পরে প্রসাদ বিতরণও করা হয়েছে।

মধ্য প্রদেশের ক্ষমতাসীন বিজেপির দিকে আঙুল তুলে কংগ্রেস অভিযোগ করে প্রশ্ন করেছে—জাতির জনকের হত্যাকারীর মন্দির কীভাবে তৈরি হচ্ছে রাজ্যে? তবে হিন্দু মহাসভার নেতারা বলছেন, তারা যদিও আগে নাথুরাম গডসের মন্দির গড়ার জন্য সরকারের কাছে জমি চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। এখন তারা নিজেদের দপ্তরেই মন্দিরটি তৈরি করছেন।

হিন্দু মহাসভার সহ-সভাপতি নারায়ণ শর্মা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় যেভাবে লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছিল, সেটা একজন কট্টর হিন্দু হিসাবে মেনে নিতে পারেননি গডসে। সেজন্যই তিনি গান্ধীকে হত্যা করেন। এই ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মকে জানানো দরকার। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম গডসে মহাত্মা গান্ধীকে সামনে থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেন। যে পিস্তল থেকে গডসে পরপর তিনটে গুলি চালিয়েছিলেন, সেটি গোয়ালিয়র থেকেই সরবরাহ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

দিল্লির লাল কেল্লায় গান্ধী হত্যা মামলার বিচার চলার সময় নাথুরাম গডসে দেশ ভাগের জন্য গান্ধীকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন- গান্ধীজী দেশের জন্য যা করেছেন, আমি তাকে সম্মান করি। গুলি চালানোর আগে তাই আমি মাথা নিচু করে তাকে প্রণামও করেছিলাম। কিন্তু সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে ভাগ করার অধিকার কারও নেই, তিনি যতবড়ই মহাত্মা হোন না কেন। এর বিচার করবে এমন কোনো আইন-আদালতও নেই, সেজন্যই আমি গান্ধীকে গুলি করেছিলাম।

নাথুরাম ও নারায়ণ আপ্তে’র ফাঁসি হলেও নাথুরামের ভাই গোপাল গডসেসহ পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরে দু’জন ছাড়া পেয়ে যান। ১৯৪৯ সালের ১৫ নভেম্বর গডসে আর আপ্তের ফাঁসি হয় পাঞ্জাব রাজ্যের আম্বালা জেলে। তাদের পরিবারের হাতে মৃতদেহ দেওয়া হয়নি। জেল কর্তৃপক্ষ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অন্তিম সংস্কারের বন্দোবস্ত করে। তবে চিতার আগুন প্রায় নিভে যাওয়ার সময় অত্রি নামে হিন্দু মহাসভার এক কর্মী লুকিয়ে সেই শ্মশানে পৌঁছেছিলেন। সেখান থেকেই কিছুটা অস্থি সংগ্রহ করে নিয়ে যান তিনি। গডসে পরিবারের কাছে সেই অস্থি একটা রুপোর কলসে রাখা হয়েছে নাথুরামের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী।

গডসে পরিবার প্রতিবছর ১৫ নভেম্বর সেই ইচ্ছাপত্র পড়ে শোনান সবাইকে, যেখানে লেখা আছে- শরীরের কিছুটা অংশ যত্ন করে রেখে দিও। যখন সিন্ধু নদ আবারও স্বাধীন ভারতে অন্তর্ভুক্ত হবে আর অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন সিন্ধু নদে আমার অস্থি বিসর্জন দিও। এই কাজে দুই-চার প্রজন্ম লাগলেও সমস্যা নেই।
বিবিসি।

Share.

Leave A Reply