সৌদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট হাদি!

0

নিউজ ডেস্ক আন্তর্জাতিকঃ সৌদি আরবে অবস্থানরত ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবদুরাব্বু মনসুর হাদি দেশে ফিরতে চাইলে তাকে হত্যা করা হতে পারে। আলজাজিরাকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইয়েমেনি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হাদিকে গৃহবন্দি আখ্যা দিলেও সৌদি আরব দাবি করছে তিনি মুক্ত মানুষ।আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে প্রথমে সৌদি আরবে ৭২ বছর বয়সী হাদিকে গৃহবন্দি করার কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে তার কয়েকজন ছেলে, দেশটির কয়েকজন মন্ত্রী আর সেনা কর্মকর্তাকেও গৃহবন্দি করারও খবর দেয় আলজাজিরা। পরে সিএনএনসহ আরও বহু গণমাধ্যমে একই খবর আসে।

সৌদি আরবের আঞ্চলিক মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে হাদির টানাপোড়েনকে এর নেপথ্য কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে। আলজাজিরার রোববারের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে চাইলে হাদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে ইয়েমেন।গত ফেব্র“য়ারিতে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের উত্থানের মুখে মিত্র দেশ সৌদি আরবে পালিয়ে যান হাদি। এরপর তিনি সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের কাছে কয়েক দফায় নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই অনুরোধ কোনো কাজে আসেনি। আগস্টে দেশে ফেরার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে গেলে সেখান থেকে তাকে ফিরিয়ে নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরপর ৭ নভেম্বর তার গৃহবন্দিত্বের খবর আসে। সৌদি আরব এ খবরটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইয়েমেনি কর্মকর্তা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, তারাও হাদিকে গৃহবন্দি মনে করছেন না। ‘হাদির গৃহবন্দিত্বের খবরটা একেবারেই ভুয়া। সৌদি আরবের বাইরে যেতে সক্ষম তিনি। আসলে তিনি যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন। তবে ইয়েমেনে ফিরলে হত্যার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তার।হাদির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সৌদি জোট ইয়েমেনে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে খোদ সৌদিতেই তার অন্তরীণ থাকাটা তাই আলোচনার জš§ দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হাদি নিজ দেশে কর্তৃত্ব হারানোয় তাকে এখন ছুড়ে ফেলতে চাইছে তার মিত্ররা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমিরাতের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক টানাপোড়েন।ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেন নগরীসহ দেশটির বেশকিছু এলাকা সৌদি জোটের দখলে রয়েছে।দেশটিতে হাদি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি জোট।এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। যুদ্ধের কারণে দেশটি স্মরণকালের বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছে জাতিসংঘ।

Share.

Leave A Reply