সৌদি প্রিন্সসহ ২০১ জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

0

নিউজ ডেস্ক,আন্তর্জাতিকঃ সৌদি আরবের এক শীর্ষ আইন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার দেশটির ২০৮ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছে।সৌদি আরবের অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সৌদ আল-মোজেব জানান, গত শনিবার রাত থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২০৮ জনের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক লেনদেন তিন বছর ধরে তদন্ত করা হয়। এর মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বাকি ২০১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ তছরুপের তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে কাদের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে, সে সম্পর্কে কোনো কিছু বলেননি সৌদি সরকারের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা। কিন্তু তাঁদের মধ্যে রাজপুত্র, মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রয়েছেন।দুর্নীতির এই অভিযোগগুলোর শক্ত প্রমাণ রয়েছে’, যোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।এ ধরনের ধরপাকড়ের ঘটনায় সৌদি আরবের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, যেসব হিসাব জব্দ করা হচ্ছে, তার সবই ব্যক্তিগত। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১১ রাজপুত্র, চারজন বর্তমান মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও ব্যবসায়ী রয়েছেন।সৌদি আরবভিত্তিক টেলিভিশন আল-আরাবিয়ার খবরে বলা হয়েছে, জেদ্দায় ২০০৯ সালের বন্যা ও ২০১২ সালে সৌদিজুড়ে মার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে নবগঠিত কমিটি। দুর্নীতিবিরোধী এই কমিটি যে কারো বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কোনো ব্যক্তির ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে।সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কড়া নজর রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্র। সরকারি অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বিমানে কেউ দেশত্যাগ করতে পারবে না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ব্যক্তিদের নামের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে দুর্নীতি দমন অভিযান বর্তমানে ‘প্রথম ধাপে’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সৌদ আল-মোজেব। তিনি বলেন, শনিবারের ধরপাকড়ে কেবল প্রথম ধাপ। এটা চলবে। গ্রেপ্তারের আওতা আরো বাড়ানো হবে।শক্তিশালী দুর্নীতির একটি বড় অংশই এখনো সামনে আসেনি উল্লেখ করে শেখ সৌদ আল-মোজেব বলেন, ‘গত তিন বছরের দুর্নীতির তদন্তের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দশকে দুর্নীতিবাজরা প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের মতো দুর্নীতি বা আত্মসাৎ করেছে।এ ধরনের অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী কমিটির সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। পাশাপাশি যাঁরা আটক হয়েছেন, তাঁরা সৌদি আইন অনুযায়ী সব ধরনের আইনগত সহায়তাও পাবেন বলে জানান তিনি। তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু জানানো না হলেও আটকদের দেশটির অভিজাত হোটেলে রাখা হয়েছে।আটক যাঁদের নাম এখন পর্যন্ত জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—বিলিয়নেয়ার প্রিন্স আলওয়ালেদ বিন তালাত, ন্যাশনাল গার্ডের সাবেক প্রধান প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহ, তাঁর ভাই রিয়াদের সাবেক গভর্নর তুর্কি বিন আবদুল্লাহ।

Share.

Leave A Reply